Bengal Liberty : রাজ্যসহ গোটা দেশ মেতেছে দুর্গাপুজোয়। তবে শুধু ভারতেই নয়, বাংলাদেশেও শুরু হয়ে গেল সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপুজো। শুক্রবার বাংলাদেশের সময় সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় গীতাপাঠের মধ্য দিয়ে শুরু হয় আচার-অনুষ্ঠান। আর এর মধ্যে দিয়েই সূচনা হল পাঁচ দিনের দুর্গোৎসবের। এবছর গোটা বাংলাদেশে প্রায় ৩৪ হাজার মণ্ডপে দুর্গাপুজোর আয়োজন করা হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এবার পুজোমণ্ডপের সংখ্যা প্রায় দেড় হাজার বেড়েছে বলে দাবি। পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে, বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর এই প্রথম দুর্গাপুজো অনুষ্ঠিত হচ্ছে বাংলাদেশে। উৎসবকে নিরাপদ এবং শান্তিপূর্ণ রাখতে বা যাতে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়, তার জন্য কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। উপকূলীয় ও নদীতীরবর্তী এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোস্ট গার্ড সদস্য।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এবং সৌহার্দ্যের বার্তা
গত ১০ অক্টোবর মহালয়ার মধ্য দিয়েই বাংলাদেশে শারদীয় দুর্গোৎসবের আগমনী বার্তা ছড়িয়ে পড়েছিল। এরপর শুক্রবার মহাষষ্ঠীর দিন থেকে শুরু হল মূল উৎসব। ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে শেষ হবে এবারের দুর্গোৎসব। গত দু’বছরে নানা রাজনৈতিক ও সামাজিক নানা ঘটনাপ্রবাহের সাক্ষী থেকেছে বাংলাদেশ। তবে ধীরে ধীরে বদলেছে দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতি। সেই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতেই এবার শুরু হল দুর্গাপুজো।
তবে দুর্গাপুজো উপ উপলক্ষে বাংলাদেশের হিন্দু-মুসলিম-সহ বিভিন্ন ধর্মের মানুষ একসঙ্গে আনন্দে মেতে ওঠে। থাকে না ধর্ম বর্ণের কোনও ভেদাভেদ। এবছরও সেই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এবং সৌহার্দ্যের বার্তাই উঠে এসেছে দুর্গোৎসবের আয়োজনে।
শারদীয় দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় ব্যতিক্রমী আয়োজনও করা হয়েছে। প্রতিমার সাজসজ্জা এবং মণ্ডপের সজ্জায় নতুনত্বের ছোঁয়া রীতিমত নজর কাড়ে। স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি দর্শনার্থীদের মধ্যেও উৎসব ঘিরে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। শুধু পুজোর আয়োজনই নয়, উৎসবের আবহে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধার বার্তা।


