Bengal Liberty
বুধবার, ২৬ অগাস্ট। রোজকারের(Nepal Flood)মতোই স্বাভাবিক ছন্দে চলছিল সাধারণ মানুষের জীবনযাপন। ঠিক সেই সময় নেপালের হড়পা বান কার্যত তছনছ করে দিল বিস্তীর্ণ এলাকা। চারদিকে শুধুই হাহাকার, স্বজনহারা মানুষের কান্না। ভয়াবহ বন্যায় নেপালের একাধিক এলাকা যেন পরিণত হয়েছে মৃত্যুপুরীতে। তবে এই ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির জন্য দায়ী কে? কোনও নির্দিষ্ট দেশ, ব্যক্তি, নাকি প্রকৃতির রোষ? প্রশ্ন উঠছে নানা মহলে। এরই মধ্যে সামনে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট, যা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ভবিষ্যতে কি প্রকৃতির রূপ আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে?

ভয়ঙ্কর রিপোর্ট প্রকাশ্যে(Nepal Flood)
২০২৬ সালের আগস্টের বিপর্যয়ের প্রায় পাঁচ মাস আগে, ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন ডেভেলপমেন্ট (ICIMOD)-এর মার্চ ২০২৬-এর দুটি প্রতিবেদনে হিন্দুকুশ হিমালয় অঞ্চলের হিমবাহ নিয়ে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল। রিপোর্টে বলা হয়েছিল, এই অঞ্চলের হিমবাহগুলি আগের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ দ্রুত হারে গলছে। ১৯৭৫ সাল থেকে হিমবাহগুলির বরফের পুরুত্ব ২৭ মিটার পর্যন্ত কমেছে।

পাশাপাশি, ২০০০ সালের পর থেকে বরফ ক্ষয়ের হারও প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯৭৫ সাল থেকে হিমবাহগুলি তাদের মোট বরফের মজুদের প্রায় ৯ শতাংশ হারিয়েছে। এর ফলে হিমবাহের গলিত জলের উপর নির্ভরশীল প্রায় ২০ কোটি মানুষের ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
আরও খবর
আকস্মিক বন্যার সঙ্গে সংযোগ(Nepal Flood)
দ্রুত হারে বরফ গলার কারণে নেপাল-তিব্বত সীমান্ত সংলগ্ন একাধিক এলাকায় হিমবাহের পশ্চাদপসরণ ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। এর ফলে পাহাড়ি অঞ্চলে তৈরি হচ্ছে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি। বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, হিমবাহের দ্রুত গলন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ভবিষ্যতে হিমবাহ-সম্পর্কিত বিপর্যয় ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।
এখন প্রশ্ন, কেন এত দ্রুত গলছে হিমবাহের বরফ(Nepal Flood)
মূল বৈজ্ঞানিক কারণ(Nepal Flood)
নিম্ন তাপমাত্রা(Nepal Flood)
সাধারণভাবে পাহাড়ের উচ্চতা যত বাড়ে, তাপমাত্রা তত কমতে থাকে। তবে বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে হিমালয় অঞ্চলের তাপমাত্রা বাড়ছে। এর প্রভাবে হিমবাহের বরফ দ্রুত গলতে শুরু করছে।
তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও বরফ গলার প্রক্রিয়া(Nepal Flood)
তাপমাত্রা বেড়ে গেলে বরফের তাপমাত্রা গলনাঙ্কের কাছাকাছি পৌঁছে যায় এবং বরফ তরল জলে পরিণত হতে শুরু করে। দীর্ঘমেয়াদি উষ্ণায়নের ফলে হিমবাহের উপরিভাগে বরফ গলার হার বাড়ছে। সেই সঙ্গে বরফের স্তর পাতলা হওয়ায় হিমবাহ আরও দ্রুত পিছিয়ে যাচ্ছে।নেপালের ভয়াবহ পরিস্থিতি আরও একবার মনে করিয়ে দিল, প্রকৃতির ভারসাম্য নষ্ট হলে তার প্রভাব কতটা ভয়ঙ্কর হতে পারে। মানুষ আধুনিকতা ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে যতই এগিয়ে যাক না কেন, পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হলে তার মূল্য দিতে হয় গোটা মানবজাতিকেই। এখন প্রশ্ন একটাই—এর পর কি আরও বড় কোনও প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে চলেছে মানবজাতি? নেপালের সাম্প্রতিক বিপর্যয়ের পর সেই আশঙ্কাই ক্রমশ জোরালো হচ্ছে।



