RG Kar Hospital Kolkata
RG Kar Hospital Kolkata

RG Kar Hospital Kolkata: লিফট মৃত্যু থেকে শৌচালয় বিপর্যয়! আর জি করে একের পর এক অব্যবস্থার অভিযোগ, বৈঠক স্থগিতেও বাড়ছে প্রশ্ন!

Bengal Liberty, Kolkata:

একটি নয়, পরপর একাধিক ঘটনায় ফের প্রশ্নের মুখে আরজি কর হাসপাতালের পরিকাঠামো ও প্রশাসনিক নজরদারি (RG Kar Hospital Kolkata)। লিফটে আটকে এক যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যুর পর তদন্ত ও দায় নির্ধারণ নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে এই মুহুর্তে।

তবে তার মধ্যেই আবার ট্রমা কেয়ার ইউনিটে শৌচালয় সংক্রান্ত সমস্যাকে কেন্দ্র করে আরও এক রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। সব মিলিয়ে হাসপাতালের পরিষেবা ঘিরে বর্তমানে উদ্বেগ আরও বাড়ছে।

RG Kar Hospital Kolkata
RG Kar Hospital Kolkata

 

লিফট বিপর্যয়, কিন্তু বৈঠকই হল না RG Kar Hospital Kolkata

লিফট দুর্ঘটনায় ৪০ বছর বয়সী এক ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনায় দায় কার, তা খতিয়ে দেখতে সোমবার অর্থাৎ আজ রোগীকল্যাণ সমিতির বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে সেই বৈঠক স্থগিত হয়ে যায় হাসপাতালের শীর্ষ কর্তা উপস্থিত না থাকা এবং নির্বাচনী বিধির কারণে সমিতির অন্যতম সদস্য তথা বিদায়ী বিধায়ক অতীন ঘোষের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তার জেরেই এই সিদ্ধান্ত বলে জানা গিয়েছে। তবে এখন জানানো হয়েছে, বুধবার বৈঠক ডাকা হবে।

এই বৈঠকে দায়িত্ব নির্ধারণ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রুখতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বৈঠক না হওয়ায় প্রশ্ন উঠছে গুরুতর ঘটনার পরও কেন দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া যাচ্ছে না?

RG Kar Hospital Kolkata
RG Kar Hospital Kolkata

দায় এড়ানো নিয়ে চাপানউতোর

সমিতির এক সদস্যের বক্তব্য অনুযায়ী, লিফটের রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তা নিয়ে একাধিক স্তরে দায়িত্ব রয়েছে। পূর্ত দফতর থেকে শুরু করে হাসপাতালের প্রশাসন সকলের ভূমিকাই খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

ট্রমা কেয়ারে শৌচালয় সমস্যায় মৃত্যুর অভিযোগ

লিফট কাণ্ডের রেশ কাটতে না কাটতেই ট্রমা কেয়ার ইউনিটে আরও এক মৃত্যুকে ঘিরে উঠেছে গুরুতর অভিযোগ। শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ভর্তি এক রোগীকে নাকি শৌচালয়ে যেতে দূরে হাঁটতে হয়েছিল। পরিবারের দাবি, সেই পরিস্থিতিতেই তাঁর শারীরিক অবস্থা আরও খারাপ হয়ে পড়ে এবং শেষ পর্যন্ত মৃত্যু হয়। উল্লেখ্য,এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাসপাতালের ভেতরের পরিকাঠামোগত দুর্বলতা আবার সামনে এসেছে। জানা গিয়েছে, ট্রমা কেয়ারের একতলায় মাত্র একটি শৌচালয় রয়েছে, যা রোগী, চিকিৎসক, নার্স এবং কর্মী সকলের জন্যই ব্যবহৃত হয়। ফলে চরম অসুবিধার মুখে পড়তে হচ্ছে সকলকেই।

চিকিৎসকদের বক্তব্যে উদ্বেগ

হাসপাতালের চিকিৎসকদের একাংশ জানিয়েছেন, পরিকাঠামোর সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক সময় রোগীদের প্রয়োজনীয় পরিষেবা দেওয়া সম্ভব হয় না। শৌচালয়ের অভাবে রোগীদের বিকল্প ব্যবস্থা করতে বলা হয়, কিন্তু তা সব ক্ষেত্রে কার্যকর হয় না। গুরুতর অসুস্থ রোগীদের জন্য এই পরিস্থিতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ বলে জানিয়েছেন তারা। তাঁদের দাবি, জরুরি বিভাগের একটি অংশ এখনও পুরোপুরি চালু না হওয়ায় ট্রমা কেয়ারের উপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে। এর ফলে পরিষেবার মান আরও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

পুরনো ঘটনার ছায়া এখনও কাটেনি

২০২৪ সালের আগস্টে আরজি করের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত এক চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুন করা হয়েছিল। এবং তার প্রতিবাদে রাতদখলের ডাক দিয়েছিল নাগরিক সমাজ। ১৪ আগস্ট রাতের সেই আন্দোলনে আরজি করে বহিরাগতেরা ঢুকে হামলা চালায় বলে অভিযোগ। জরুরি বিভাগে ভাঙচুর চালানো হয়। ফলে সেই ক্ষতি এখনও অব্দি পুরোপুরি মেরামত হয়নি। ফলে বিকল্প ব্যবস্থার উপর নির্ভর করতে হচ্ছে, যা সমস্যা তৈরি করছে।

শৌচালয় নিয়েও অমীমাংসিত সমস্যা

জানা গিয়েছে, ট্রমা কেয়ার ভবনের একটি শৌচালয় দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ। জল চুঁইয়ে যন্ত্রপাতির ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কায় সেটি ব্যবহার করা যাচ্ছে না। কিন্তু এতদিনেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি। অস্থায়ী ব্যবস্থাও করা হয়নি বলে অভিযোগ।

ভোটের আবহে বাড়ছে রাজনৈতিক চাপানউতোর,এই ঘটনাগুলিকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে তর্ক-বিতর্ক। বিরোধীদের দাবি, স্বাস্থ্য পরিষেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে অব্যবস্থা চরমে পৌঁছেছে। অন্যদিকে, দায় নির্ধারণ ও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জোরালো হচ্ছে।

সব মিলিয়ে, লিফট দুর্ঘটনা থেকে শুরু করে শৌচালয় সমস্যা দুটি ঘটনাই হাসপাতালের সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। এখন নজর বুধবারের বৈঠকের দিকে সেখানে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং বাস্তবে কতটা পরিবর্তন আসে, সেটাই দেখার।

Bengal liberty
Bengal liberty

Bengal Liberty is a platform dedicated to guerrilla, unfiltered, and independent journalism. Through YouTube, its official website, and various social media channels, Bengal Liberty seeks to present citizen journalism to the public with integrity and transparency. Editor: Bittu Roy Chowdhury