Bengal Liberty:
সংসদের বাদল অধিবেশনে বিরোধীদের লাগাতার বিক্ষোভ ও হট্টগোলের জেরে কার্যত ব্যাহত হয়েছে স্বাভাবিক কাজকর্ম। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে বিরোধী শিবির একাধিক ইস্যুতে আলোচনার দাবিতে সরব হলেও, সেই অচলাবস্থার মধ্যেই হাতে থাকা অল্প সময়কে কাজে লাগিয়ে একের পর এক বিল পাশ করিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। মাত্র ৪০ মিনিটেরও কম সময়ে ১০টি বিল পাশ হওয়া নিয়েই এ বার প্রশ্ন তুলেছে বিরোধীরা।

Parliament Monsoon Session
অধিবেশনের শুরু থেকেই একাধিক ইস্যু নিয়ে সরকারকে চাপে রাখার চেষ্টা করেছে বিরোধী শিবির। রাম মন্দিরের অনুদান সংক্রান্ত অভিযোগ থেকে শুরু করে পড়ুয়াদের ইস্যু, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ এবং দিল্লিতে পড়ুয়াদের উপর হামলার অভিযোগ—পর পর একাধিক বিষয় নিয়ে সংসদে আলোচনার দাবি উঠেছে রাহুলের নেতৃত্বে। বিরোধীদের দাবি, গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলিতে সরকারের জবাব না পাওয়া পর্যন্ত সংসদের কাজ চলতে দেওয়া হবে না।
আরও খবর
বিরোধী ইস্যুতে বাদল অধিবেশনে অচলাবস্থা!(Parliament Monsoon Session)
এর ফলে বাদল অধিবেশনের বড় অংশই কার্যত অচল হয়ে পড়ে। তথ্য অনুযায়ী, বুধবারের আগে পর্যন্ত লোকসভায় কাজ হয়েছে মাত্র ১৫ ঘণ্টা ৩৬ মিনিট। অথচ অন্তত ৯০ ঘণ্টা করে কাজ হওয়ার কথা ছিল। অর্থাৎ, নির্ধারিত সময়ের বড় অংশই হট্টগোল এবং অধিবেশন মুলতুবির কারণে নষ্ট হয়েছে। এ দিকে রাজ্যসভায় কাজ হয়েছে তুলনামূলক বেশি—২৪ ঘণ্টা ২১ মিনিট।
Parliament Monsoon Session
তবে সংসদের স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হলেও আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকেনি কেন্দ্র। যে সামান্য সময় সরকার পেয়েছে, সেই সময়েই একের পর এক বিল পাশ করানো হয়েছে। এখনও পর্যন্ত মোট ১৯টি বিল পাশ হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ১০টি বিল পাশ করতে গড়ে চার মিনিটেরও কম সময় লেগেছে। অর্থাৎ, ৪০ মিনিটেরও কম সময়ে ১০টি বিল সংসদে পাশ হয়েছে।

সরকারের এই দ্রুত বিল পাশের প্রক্রিয়াই এখন নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, সংসদে পর্যাপ্ত আলোচনা না করেই গুরুত্বপূর্ণ বিল পাশ করানো হচ্ছে। তাঁদের বক্তব্য, আইন প্রণয়নের আগে সংশ্লিষ্ট বিল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা এবং বিরোধীদের মতামত শোনা প্রয়োজন।
Parliament Monsoon Session
অন্য দিকে, কেন্দ্রের যুক্তি, বিরোধীরা লাগাতার হট্টগোল করে সংসদের কাজ আটকে রাখায় প্রয়োজনীয় বিল নিয়ে আলোচনা ও আইন প্রণয়নের জন্য পর্যাপ্ত সময় পাওয়া যাচ্ছে না। সেই সুযোগে যে সামান্য সময় মিলছে, তাতেই সরকারের আইনগত কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
ফলে এক দিকে বিরোধীদের লাগাতার বিক্ষোভ, অন্য দিকে অল্প সময়ে একের পর এক বিল পাশ—বাদল অধিবেশনের শেষ পর্বে এই দুই ইস্যুতেই রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে। সংসদে আলোচনার সময় কমে গিয়ে দ্রুত বিল পাশের এই প্রবণতা গণতান্ত্রিক সংসদীয় প্রক্রিয়ার পক্ষে কতটা যুক্তিযুক্ত, তা নিয়েই এখন জোর বিতর্ক শুরু হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ কলকাতা কর্পোরেশনের খাতায় বকেয়া প্রায় ৪০ লক্ষ! সজলের পুজোর সঙ্গে ‘গাঁটছড়া’ বিতর্কিত হোর্ডিং সংস্থার


