Bengal Liberty : এবার সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দ্বারস্থ হলেন সিপিএম নেতা তথা আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। বাড়িতে হামলার ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার ফোনে খুনের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ তুললেন বর্ষীয়ান এই আইনজীবী। তাঁর অভিযোগ, অচেনা নম্বর থেকে ফোন করে তাঁকে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের খুনের হুমকি দেওয়া হয়েছে। এমনকী, তাঁর প্রয়াত মাকে নিয়েও করা হয়েছে কুরুচিকর মন্তব্য। এই ঘটনার নেপথ্যে ‘হিন্দু মৌলবাদী’দের হাত রয়েছে বলে ফের একবার দাবি করেছেন বিকাশরঞ্জন। বিষয়টি নিয়ে সমাজমাধ্যমে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী তথা রাজ্যের পুলিশমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তিনি।
খুনের হুমকি ও মাকে নিয়ে কুরুচিকর মন্তব্যের অভিযোগ
বিকাশরঞ্জনের দাবি, বৃহস্পতিবার রাত ১০টা ৪৭ মিনিট নাগাদ একটি অচেনা নম্বর থেকে তাঁর কাছে ফোন আসে। পেশাগত কাজ ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সূত্রে প্রতিদিনই বহু মানুষ তাঁকে ফোন করেন। তাই নম্বরটি অপরিচিত হলেও স্বাভাবিকভাবেই ফোনটি ধরেন তিনি। কিন্তু ফোনের অন্য প্রান্তে থাকা ব্যক্তির কথাবার্তা ঘিরেই বিতর্কের সূত্রপাত। আইনজীবীর অভিযোগ, সুকান্ত মণ্ডল নামে এক যুবক তাঁকে ফোন করে খুনের হুমকি দেন। শুধু তাঁকেই নয়, তাঁর পরিবারের সদস্যদেরও নিশানা করা হয় বলে দাবি বিকাশরঞ্জনের। এমনকী, তাঁর প্রয়াত মাকে নিয়েও কুরুচিকর ইঙ্গিত করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন তিনি।

ঘটনার কথা জানিয়ে সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করেন বিকাশরঞ্জন। সেখানে অভিযুক্তকে হিন্দু মৌলবাদী বলে উল্লেখ করে তিনি লেখেন, ‘ফোনে আমাকে ও আমার পরিবারের সদস্যদের খুনের হুমকি দিলেন। আমার প্রয়াত মা সম্বন্ধে কুৎসিত ইঙ্গিত করলেন।’ একই সঙ্গে এই ধরনের মন্তব্যের জন্য হিন্দু মৌলবাদীদের একাংশকে দায়ী করেছেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন বলেও জানিয়েছেন বর্ষীয়ান আইনজীবী। তাঁর কথায়, ‘মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশমন্ত্রী এ ব্যাপারে কী ব্যবস্থা নেন সেটা দেখার অপেক্ষায় রইলাম। প্রয়োজন হলে আত্মরক্ষার অধিকার কার্যকর করব।’
আরও খবর
বাড়িতে হামলার পর ফের বিতর্ক
উল্লেখ্য, সম্প্রতি বিকাশরঞ্জনের বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘিরেও বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। সেই ঘটনার পর সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে ‘হিন্দুত্ববাদী’দের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন তিনি। তাঁর সেই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে একাধিক থানায় আইনজীবীর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয় বলে জানা যায়।পরবর্তীকালে এই ইস্যুতে সরাসরি বিকাশরঞ্জনকে নিশানা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সমাজমাধ্যমে করা পোস্ট মুছে ফেলা অথবা ‘হিন্দুত্ববাদী’ শব্দটি সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি। সেই নির্দেশ অমান্য করলে কড়া পদক্ষেপ করা হতে পারে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী।
তবে সেই নির্দেশ মানেননি বিকাশরঞ্জন। বরং নতুন করে ফোনে হুমকির অভিযোগ সামনে আসার পর ফের তাঁর পোস্টে উঠে এসেছে ‘হিন্দু মৌলবাদী’ শব্দবন্ধ। ফলে পুরনো বিতর্কের মধ্যেই নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে।


