Bengal Liberty : দুর্গাপুজোর পাস বিক্রি ঘিরে কোটি কোটি টাকার আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে গ্রেফতার প্রাক্তন তৃণমূল সরকারের প্রতিমন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন। বুধবার বিকেলে সিজিও কমপ্লেক্স থেকে বেরোনোর পরই তাঁকে গ্রেফতার করে কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ। বৃহস্পতিবার তাঁকে ব্যাঙ্কশাল আদালতে পেশ করা হল। এখন নজর আদালতের নির্দেশের দিকে। দুর্গাপুজোর পাস বিক্রির নামে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে ইন্দ্রনীল সেনের গ্রেফতারি ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতেও শুরু হয়েছে জোর চর্চা।

তদন্তকারীদের অভিযোগ, দুর্গাপুজোকে ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পাওয়ার বিষয়টিকে সামনে রেখে সাধারণ মানুষের কাছে পাস বিক্রি করে বিপুল টাকা তোলা হয়েছিল। এই ঘটনায় ইন্দ্রনীল সেনের সঙ্গে তাঁর স্ত্রী এবং পরিবারের একাধিক সদস্যের নামও জড়িয়েছে বলে অভিযোগ। ‘মাস আর্ট সোসাইটি’ নামে একটি সংস্থার আর্থিক লেনদেন খতিয়ে দেখতে গিয়ে একাধিক অসঙ্গতির অভিযোগ সামনে আসে। এই সংস্থার সঙ্গে ইন্দ্রনীল সেন ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের যোগ রয়েছে বলে তদন্তকারীদের দাবি। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে এই আর্থিক লেনদেনের সূত্র ধরে আরও তথ্য উঠে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
গত ২ রা জুন বৌবাজার থানায় ইন্দ্রনীল সেনের বিরুদ্ধে দুর্গাপুজোর পাস বিক্রি নিয়ে অভিযোগ দায়ের হয়। তার ভিত্তিতেই তদন্ত শুরু করে কলকাতা পুলিশ। একাধিকবার হাজিরার জন্য সমন পাঠানো হলেও তিনি পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের সামনে হাজিরা এড়িয়ে গিয়েছেন বলে অভিযোগ। অন্যদিকে, এই মামলার তদন্তে ইডিও সক্রিয় হয়। ইন্দ্রনীল সেনের বাড়ি সহ কলকাতার একাধিক ঠিকানায় তল্লাশি চালানোর পাশাপাশি তাঁকে সিজিও কমপ্লেক্সে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
আরও খবর
এদিকে, গ্রেফতারি এড়াতে আগাম জামিনের আবেদন করেছিলেন ইন্দ্রনীল সেন। হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চে সেই আবেদন খারিজ হয়ে যায়। পরে ওই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন তিনি। মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে মামলাটির শুনানি হওয়ার কথা থাকলেও সংশ্লিষ্ট বিচারপতি মামলা থেকে সরে দাঁড়ানোয় শুনানি সম্পন্ন হয়নি। ফলে আগাম জামিনের কোনও সুরক্ষা কবচ না থাকায় বুধবার তাঁকে গ্রেফতার করে কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ।
ইন্দ্রনীল সেন প্রাক্তন তৃণমূল সরকারের প্রতিমন্ত্রী এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। এই মামলায় ইডির তদন্তে আর্থিক লেনদেনের টাকা তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে পৌঁছেছিল কি না, সেই প্রশ্নও উঠেছে বলে জানা গিয়েছে। আপাতত ব্যাঙ্কশাল আদালতে পেশ করে হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানিয়েছে লালবাজার।


