Bengal Liberty: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূলে ফিরতে চান না কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র। সম্প্রতি একটি ফেসবুক লাইভে এসে একেবারে স্পষ্ট ভাষায় নিজের অবস্থান জানিয়ে দিলেন তিনি।
উল্লেখ্য, কয়েক দিন আগেই দল ছেড়ে যাওয়া নেতাদের তৃণমূলে ফেরার জন্য ১৫ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপরই একটি প্রথম সারির সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয় যে মদন মিত্র তৃণমূলে ফিরতে চাইছেন। সেই খবরের তীব্র বিরোধিতা করে মদন মিত্র সাফ জানান, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে ফিরব না। ফিরবে আমার লাশ।”
দীর্ঘদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত মদন মিত্র তাঁর এই বক্তব্যে তৃণমূলের বর্তমান নেতৃত্বের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, দলের জন্য দীর্ঘদিন লড়াই করলেও পুরনো নেতাদের প্রাপ্য সম্মান দেওয়া হয়নি। বরং ব্যক্তিগত স্নেহ ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কেন্দ্র করে নেওয়া নানা সিদ্ধান্ত দলের ক্ষতি করেছে।
আরও খবর
শুভেন্দু অধিকারীর সমান্তরাল যুব সংগঠন তৈরি করে তা সমর্থন করার সিদ্ধান্তকেও তৃণমূলের সাংগঠনিক দুর্বলতার অন্যতম কারণ বলে মনে করেন তিনি। নাম না করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করে মদন মিত্র বলেন, “You are the sole responsible for the total destruction of Trinamool Congress.” অর্থাৎ, তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বনাশের জন্য আপনিই একমাত্র দায়ী।
শুভেন্দু অধিকারীর দলত্যাগ প্রসঙ্গেও বিস্ফোরক মন্তব্য করেন কামারহাটির বিধায়ক। তাঁর দাবি, ২০২০ সালে শুভেন্দু অধিকারী দল ছাড়ার আগে তাঁর গুরুত্ব বুঝতে পারেনি তৃণমূল নেতৃত্ব। মদনবাবু জানান, ব্যক্তিগত ক্ষোভ থেকে নয়, দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ থেকেই তিনি এসব কথা বলছেন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশে কটাক্ষ করে তিনি আরও বলেন, “ক্ষমতার শীর্ষে থাকার জন্য অহংকার করবেন না, তারকা পতনও দেখেছি।” তবে একই সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি ব্যক্তিগত শ্রদ্ধা বজায় রাখার কথা বললেও তৃণমূলে ফেরার সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করে দিয়েছেন তিনি। মদন মিত্রের এই মন্তব্য ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল শুরু হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ২২ তারিখে একটি সংবাদমাধ্যমে মদন মিত্র তাঁর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছিলেন যে তিনি রাজনীতির ওপর বীতশ্রদ্ধ, তাই রাজনীতি থেকে বহু যোজন দূরে সরে যেতে চান। বক্তব্য দেওয়ার সময় প্রবীণ এই নেতার চোখ অশ্রুসজল হয়ে উঠেছিল। তার পরপরই নিজের ফেসবুক লাইভে এসে তিনি এই চূড়ান্ত অবস্থান স্পষ্ট করলেন।


