Maoists
মাওবাদী দম্পতি মঙ্গল-মালতী

কিষেণজি-ঘনিষ্ঠ মাওবাদী দম্পতি মঙ্গল-মালতীর কলকাতা পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ

মঙ্গলের বাড়ি পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনিতে। মালতীর বাড়ি ঝাড়গ্রামের গোপীবল্লভপুরে। কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ জানান, ২০১০ সালে মাওবাদী সংগঠনে যোগ দেন মঙ্গল। সেই সময় শালবনি এলাকায় জনসাধারণের কমিটি সক্রিয় ছিল। পরে, ২০১১-১২ সালের পর ঝাড়খণ্ডে চলে যান তিনি। প্রথমে দলমা এলাকায় সক্রিয় ছিলেন। পরে সারান্ডার জঙ্গলে মাওবাদী কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত হন। পুলিশ কমিশনারের দাবি, মাওবাদী নেতা কিষেণজির ঘনিষ্ঠ ছিলেন মঙ্গল।

অন্যদিকে, মালতীও ঝাড়গ্রাম ছেড়ে সারান্ডায় চলে যান। পুলিশের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় সক্রিয় ছিলেন দু’জনেই। বর্তমানে ঝাড়খণ্ডে মঙ্গলের বিরুদ্ধে ৬-৭টি মামলা চলছে। তাঁর মাথার দাম ধার্য করা হয়েছিল ৫ লক্ষ টাকা। মালতীর মাথার দামও ২ লক্ষ টাকা ধার্য করা হয়েছিল। পুলিশের বক্তব্য, সারান্ডার জঙ্গলে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ায় ২০২৬ সালে ওই এলাকা ছাড়তে শুরু করেন মাওবাদীদের একাংশ। তাঁদের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা প্রায় ১৩ জন ছিলেন। বিভিন্ন সময়ে তাঁদের কেউ গ্রেফতার হয়েছেন, কেউ আত্মসমর্পণ করেছেন। সম্প্রতি ঝাড়খণ্ড থেকে তিন জন গ্রেফতার হয়েছেন বলেও জানা গিয়েছে।

আত্মসমর্পণের পর মঙ্গল জানান, সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে সমাজের পরিবর্তন সম্ভব নয় বলে তাঁরা উপলব্ধি করেছেন। তাই সেই পথ ছেড়ে সমাজের মূল স্রোতে ফিরতে চান। সেই কারণেই কলকাতায় এসে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন তাঁরা।

উল্লেখ্য, মাওবাদীদের মূল স্রোতে ফেরানোর প্রক্রিয়ায় এর আগেও কলকাতায় আত্মসমর্পণ ও গ্রেফতারের ঘটনা ঘটেছে। গত জুনে কলকাতা পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন মাওবাদী নেত্রী পুষ্পা ওরফে শকুন্তলা। ২০০১ সাল থেকে তিনি মাওবাদী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তার আগের মাসে ঝাড়খণ্ডের প্রবীণ মাওবাদী নেত্রী শ্রদ্ধা বিশ্বাস ওরফে বেলাকে উত্তর কাশীপুর এলাকা থেকে গ্রেফতার করে কলকাতা পুলিশ। এ বার মঙ্গল ও মালতীর আত্মসমর্পণের ফলে সেই তালিকায় আরও দু’টি নাম যুক্ত হল। তাঁদের হাতে থাকা আগ্নেয়াস্ত্রও পুলিশের কাছে জমা পড়েছে।

Dipsikha Mandal
দীপশিখা মণ্ডল

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করে ২০২৩ সালে সাংবাদিকতা জগতে প্রবেশ। ETV ভারত, এক্সপ্রেস নিউজ ঘুরে এখন বেঙ্গল লিবার্টি-তে। বিনোদন, দেশ দুনিয়ার খবরের প্রতি আগ্রহ রয়েছে। ঝোঁক বেশি রাজ্য এবং জেলার খবরে। ফটোগ্রাফিতেও সময় কাটে। অসময়ের সঙ্গী বই আর সিনেমা। নেশার বস্তু কফি, প্রকৃতি আর কবিতা।