Bengal Liberty : দীর্ঘদিন ঝাড়খণ্ডের সারান্ডার জঙ্গলে সক্রিয় থাকার পর সশস্ত্র আন্দোলনের পথ ছাড়লেন প্রয়াত মাওবাদী নেতা কিষেণজি-ঘনিষ্ঠ দম্পতি মঙ্গল ও মালতী। শুক্রবার সকালে কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দের কাছে আত্মসমর্পণ করেন তাঁরা। পুলিশের কাছে জমা দেন একটি একে-৪৭ এবং একটি ইনসাস রাইফেল। দু’জনেই পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা হলেও দীর্ঘদিন ধরে ঝাড়খণ্ডে মাওবাদী কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পুলিশের দাবি, সারান্ডার জঙ্গলে তাঁদের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। মঙ্গলের মাথার দাম ছিল ৫ লক্ষ টাকা, আর মালতীর মাথার দাম ছিল ২ লক্ষ টাকা। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ দেশ থেকে নকশাল আন্দোলন নির্মূল করার ডাক দিয়েছিলেন। সেই প্রেক্ষাপটে পশ্চিমবঙ্গের একাধিক মাওবাদী নেতা গ্রেফতার হয়েছেন, আবার কেউ কেউ স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করেছেন। সেই ধারাবাহিকতায় এ বার কলকাতা পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করলেন মঙ্গল ও মালতী।
কিষেণজির ঘনিষ্ঠ ছিলেন মঙ্গল
মঙ্গলের বাড়ি পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনিতে। মালতীর বাড়ি ঝাড়গ্রামের গোপীবল্লভপুরে। কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ জানান, ২০১০ সালে মাওবাদী সংগঠনে যোগ দেন মঙ্গল। সেই সময় শালবনি এলাকায় জনসাধারণের কমিটি সক্রিয় ছিল। পরে, ২০১১-১২ সালের পর ঝাড়খণ্ডে চলে যান তিনি। প্রথমে দলমা এলাকায় সক্রিয় ছিলেন। পরে সারান্ডার জঙ্গলে মাওবাদী কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত হন। পুলিশ কমিশনারের দাবি, মাওবাদী নেতা কিষেণজির ঘনিষ্ঠ ছিলেন মঙ্গল।
অন্যদিকে, মালতীও ঝাড়গ্রাম ছেড়ে সারান্ডায় চলে যান। পুলিশের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় সক্রিয় ছিলেন দু’জনেই। বর্তমানে ঝাড়খণ্ডে মঙ্গলের বিরুদ্ধে ৬-৭টি মামলা চলছে। তাঁর মাথার দাম ধার্য করা হয়েছিল ৫ লক্ষ টাকা। মালতীর মাথার দামও ২ লক্ষ টাকা ধার্য করা হয়েছিল। পুলিশের বক্তব্য, সারান্ডার জঙ্গলে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ায় ২০২৬ সালে ওই এলাকা ছাড়তে শুরু করেন মাওবাদীদের একাংশ। তাঁদের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা প্রায় ১৩ জন ছিলেন। বিভিন্ন সময়ে তাঁদের কেউ গ্রেফতার হয়েছেন, কেউ আত্মসমর্পণ করেছেন। সম্প্রতি ঝাড়খণ্ড থেকে তিন জন গ্রেফতার হয়েছেন বলেও জানা গিয়েছে।
আরও খবর
সশস্ত্র সংগ্রামের পথ ছাড়ার বার্তা
আত্মসমর্পণের পর মঙ্গল জানান, সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে সমাজের পরিবর্তন সম্ভব নয় বলে তাঁরা উপলব্ধি করেছেন। তাই সেই পথ ছেড়ে সমাজের মূল স্রোতে ফিরতে চান। সেই কারণেই কলকাতায় এসে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন তাঁরা।
উল্লেখ্য, মাওবাদীদের মূল স্রোতে ফেরানোর প্রক্রিয়ায় এর আগেও কলকাতায় আত্মসমর্পণ ও গ্রেফতারের ঘটনা ঘটেছে। গত জুনে কলকাতা পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন মাওবাদী নেত্রী পুষ্পা ওরফে শকুন্তলা। ২০০১ সাল থেকে তিনি মাওবাদী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তার আগের মাসে ঝাড়খণ্ডের প্রবীণ মাওবাদী নেত্রী শ্রদ্ধা বিশ্বাস ওরফে বেলাকে উত্তর কাশীপুর এলাকা থেকে গ্রেফতার করে কলকাতা পুলিশ। এ বার মঙ্গল ও মালতীর আত্মসমর্পণের ফলে সেই তালিকায় আরও দু’টি নাম যুক্ত হল। তাঁদের হাতে থাকা আগ্নেয়াস্ত্রও পুলিশের কাছে জমা পড়েছে।


