Bengal Liberty : পুজোর মরসুমে সরকারি হাসপাতালগুলিতে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য আধিকারিকদের হাজিরা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করলেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। শুক্রবার স্বাস্থ্যভবনে আধিকারিকদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকের পর তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, আগামী বছর থেকে ষষ্ঠী থেকে লক্ষ্মীপুজো পর্যন্ত টানা ছুটির রেওয়াজ আর চলবে না। পুজোর চার দিন নির্দিষ্ট রোস্টার মেনে কাজ করতে হবে। যাঁরা ইতিমধ্যেই ছুটিতে রয়েছেন, তাঁদের ছুটি বাতিল করে কাজে যোগ দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
ছুটি বাতিলের নির্দেশ
শুক্রবার স্বাস্থ্যভবনে স্বাস্থ্য আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। পুজোর দিনগুলিতে সরকারি হাসপাতালগুলিতে চিকিৎসক ও অন্যান্য স্বাস্থ্য আধিকারিকদের অনুপস্থিতি নিয়ে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। অভিযোগ, কেউ কেউ অনুমতি ছাড়াই ছুটি নিয়েছেন। ফলে হাসপাতালের পরিষেবা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, স্বাধীনতার পর থেকেই ষষ্ঠী থেকে লক্ষ্মীপুজো পর্যন্ত হাসপাতালগুলিতে এক ধরনের ছুটির আবহ তৈরি হয়েছিল। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এই রেওয়াজ এবার বন্ধ করতে চায় রাজ্য। আগামী বছর থেকে সপ্তমী, অষ্টমী, নবমী ও দশমীর জন্য নির্দিষ্ট পুজো রোস্টার তৈরি করা হবে। সেই রোস্টার মেনেই চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের দায়িত্ব পালন করতে হবে।
এমনকী, যাঁরা ইতিমধ্যেই ছুটিতে রয়েছেন, তাঁদের ছুটি বাতিল করে কাজে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য, অন্যরা কাজে আসতে পারলে স্বাস্থ্য দফতরের কর্মীদেরও নির্ধারিত দায়িত্ব পালন করতে হবে। উৎসবের সময়েও যাতে চিকিৎসা পরিষেবা ব্যাহত না হয়, তা নিশ্চিত করতে চায় রাজ্য।
আরও খবর
চোরবাগান বিপর্যয়ের পর আরও গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য পরিষেবা
এবার দুর্গাপুজোর সপ্তমীতে চোরবাগানের বিপর্যয় পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। দুর্ঘটনায় আহতদের চিকিৎসার জন্য কলকাতার বিভিন্ন হাসপাতালে আচমকাই চাপ বেড়ে যায়। আহতদের সরকারি হাসপাতাল থেকে বেসরকারি হাসপাতালে রেফার করা নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়। প্রশ্নের মুখে পড়ে স্বাস্থ্য দফতরের প্রস্তুতি ও পরিষেবা পরিচালনা। এই ঘটনার পর সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে শহরের বড় পুজোমণ্ডপগুলিতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিয়ে মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়। তবে একই সময়ে হাসপাতালগুলিতে চিকিৎসক ও অন্যান্য স্বাস্থ্য আধিকারিকদের অনুপস্থিতির বিষয়টিও স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নজরে আসে। এই পরিস্থিতিতেই স্বাস্থ্য পরিষেবা সচল রাখতে কড়া অবস্থান নেন তিনি।
বৈঠকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারি কর্মচারীরা আসলে জনগণের কর্মচারী। জনগণের করের টাকাতেই সরকারি পরিষেবা চলে। তাই মানুষের চিকিৎসার মতো জরুরি পরিষেবায় কোনও রকম গাফিলতি বরদাস্ত করা যায় না। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, স্বাস্থ্য দফতর একটি জরুরি পরিষেবা। এখানে সপ্তাহের সাত দিন, ২৪ ঘণ্টাই কাজের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। উৎসবের দিনেও রোগীদের পরিষেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনও খামতি রাখা চলবে না।


