Bengal Liberty : সরকারি হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা নিয়ে কড়া অবস্থান নিল রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর। বর্ধমান, কোচবিহার, মালদা মেডিক্যাল কলেজ এবং উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজের অপরিচ্ছন্নতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। পর্যাপ্ত সরঞ্জাম এবং সাফাইকর্মী থাকা সত্ত্বেও কেন হাসপাতালগুলিতে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা যাচ্ছে না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে স্বাস্থ্য দফতর। দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি করার নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি সাফাইয়ের কাজে নজরদারি বাড়ানোর সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।
দিনে তিনবার পরিষ্কারের নির্দেশ
স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, চারটি মেডিক্যাল কলেজের পরিচ্ছন্নতা পরিস্থিতি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে। মেডিক্যাল কলেজগুলির অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ এবং নন-মেডিক্যাল ডেপুটি সুপারদের দায়িত্ব পালনের বিষয়টিও পর্যালোচনা করা হয়েছে। হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য পরিষেবা কেন্দ্রে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে কেন বারবার সমস্যা হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
স্বাস্থ্য দফতরের নির্দেশ অনুযায়ী, হাসপাতালের শৌচাগার, বিভিন্ন ওয়ার্ড এবং করিডর দিনে অন্তত তিনবার পরিষ্কার করতে হবে। রোগী ও তাঁদের পরিজনদের যাতায়াতের জায়গাগুলি পরিচ্ছন্ন রাখার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। হাসপাতালের সামগ্রিক পরিবেশ যাতে স্বাস্থ্যসম্মত থাকে, তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করতে বলা হয়েছে।
আরও খবর
পরিদর্শনে নন-মেডিক্যাল ডেপুটি সুপাররা
হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে নন-মেডিক্যাল ডেপুটি সুপারদের সারপ্রাইজ ভিজিট করতে হবে। অর্থাৎ, আগে থেকে নির্দিষ্ট সময় না জানিয়ে হাসপাতালের বিভিন্ন অংশ পরিদর্শন করে সাফাইয়ের কাজ ঠিকমতো হচ্ছে কি না, তা দেখতে হবে তাঁদের। সাফাইকর্মীদের উপস্থিতি, কাজের মান এবং হাসপাতালের বিভিন্ন অংশের পরিচ্ছন্নতা খতিয়ে দেখাই হবে এই পরিদর্শনের মূল উদ্দেশ্য।
পরিদর্শনের সময় সাফাইকর্মীদের কাজে গাফিলতি ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট সাফাই এজেন্সিকে প্রথমে শোকজ করা হবে। অর্থাৎ, কেন দায়িত্ব পালনে গাফিলতি হয়েছে, তার ব্যাখ্যা চাওয়া হবে সংশ্লিষ্ট সংস্থার কাছে। সেই জবাব সন্তোষজনক না হলে পরবর্তী পদক্ষেপ করা হতে পারে। পরপর তিনবার শোকজের পরও পরিস্থিতির উন্নতি না হলে সংশ্লিষ্ট সাফাই এজেন্সির টেন্ডার বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে বলে নির্দেশে জানানো হয়েছে।
পরিচ্ছন্নতা নিয়ে নিয়মিত রিপোর্ট
শুধু পরিদর্শন করেই দায়িত্ব শেষ হবে না। নন-মেডিক্যাল ডেপুটি সুপারদের সারপ্রাইজ ভিজিটের ভিত্তিতে হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা সংক্রান্ত রিপোর্ট উপাধ্যক্ষদের কাছে জমা দিতে হবে। সেই রিপোর্টের মাধ্যমে হাসপাতালের সাফাইয়ের কাজ কতটা নিয়ম মেনে হচ্ছে এবং কোথায় ঘাটতি রয়েছে, তা পর্যালোচনা করা হবে।
স্বাস্থ্য দফতরের এই পদক্ষেপের লক্ষ্য, সরকারি মেডিক্যাল কলেজগুলিতে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে দায়িত্ব ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা। রোগীদের চিকিৎসার পাশাপাশি হাসপাতালের স্বাস্থ্যকর পরিবেশও যে সমান গুরুত্বপূর্ণ, সেই বিষয়টিতে বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। নির্দেশ কার্যকর হলে সাফাইয়ের কাজে গাফিলতি কমবে এবং হাসপাতালের সামগ্রিক পরিচ্ছন্নতা পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করছে স্বাস্থ্য দফতর।


