Bengal Liberty : দুর্গাপুজোয় বামেদের বুকস্টল নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বিরোধিতার জেরেই নাকি বই বিক্রি কয়েক গুণ বেড়েছে! এমনই দাবি করে মুখ্যমন্ত্রীকে ব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গিতে ‘ধন্যবাদ’ জানালেন সিপিএম নেতা শতরূপ ঘোষ। তাঁর বক্তব্য, বামেদের বইয়ের স্টল নিয়ে নেতিবাচক প্রচার করতে গিয়ে কার্যত বামেদের বইয়েরই প্রচার হয়েছে। শতরূপের এই মন্তব্য ঘিরে ফের চর্চা শুরু হয়েছে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে।
দুর্গাপুজোর সময় পুজোমণ্ডপের কাছাকাছি বামেদের বইয়ের স্টলে ‘শারদোৎসব’-এর বদলে ‘দুর্গাপুজো’ লিখতে হবে। তবেই মিলবে অনুমতি। বিধানসভা থেকে এমনই নির্দেশ দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। এরপর পুজোর প্রস্তুতির পাশাপাশি বামেদের বুকস্টল বসানোকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়।
বামেদের অভিযোগ, রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় তাদের বুকস্টল বসাতে বাধা দেওয়া হয়েছে। কোথাও কোথাও স্টল ভাঙচুরের অভিযোগও উঠেছে। সপ্তমীর সন্ধ্যায় যাদবপুরে বামফ্রন্টের বুকস্টল ভাঙতে কলকাতা পুরসভা ও পুলিশের ক্রেন নিয়ে হাজির হওয়ার ঘটনাও বিতর্ক বাড়ায়। এমনকী, বই ছুড়ে ফেলে পায়ে মাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগও ওঠে বিজেপির কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে। এই ঘটনাগুলির প্রতিবাদে আদালতের দ্বারস্থ হয় বাম সংগঠন।
আরও খবর
এই পরিস্থিতিতে সামাজিক মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে শতরূপ ঘোষের বক্তব্য, মুখ্যমন্ত্রীর নেতিবাচক প্রচারের জেরেই এ বছর দুর্গাপুজোয় বামেদের বই বিক্রি কয়েক গুণ বেড়েছে। তাঁর দাবি, প্রতি বছর পুজোর সময় বামেদের যে পরিমাণ বই বিক্রি হয়, এ বছর তার তুলনায় অনেক বেশি বই বিক্রি হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ এবং বুকস্টল ঘিরে বিতর্কের জেরেই সাধারণ মানুষের মধ্যে বামেদের বই নিয়ে আগ্রহ বেড়েছে বলে দাবি সিপিএম নেতার।
তবে বুকস্টল ভাঙচুর ও বাধা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিজেপি। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের বক্তব্য, এই ধরনের ঘটনার সঙ্গে বিজেপির কোনও সম্পর্ক নেই। ফলে বামেদের অভিযোগ এবং বিজেপির পাল্টা অবস্থানকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তরজা অব্যাহত।
বুকস্টল ঘিরে বিতর্কের মধ্যেই শতরূপের এই ‘ধন্যবাদ’ বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তাঁর এই ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে।


