Bengal Liberty : বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া মুর্শিদাবাদের লালবাগে দাঁড়িয়ে একদিকে পাচার ও অবৈধ অনুপ্রবেশ রোখার বিষয়ে কড়া বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, অন্যদিকে এলাকার উন্নয়নে একগুচ্ছ ঘোষণাও করলেন। তাঁর দাবি, বিএসএফ ও পুলিশ যৌথভাবে কাজ করায় এলাকায় গরু পাচার এবং নেশার সামগ্রী পাচার প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছে। একই সঙ্গে মুর্শিদাবাদ বিধানসভা এলাকার শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর উন্নয়নে নতুন আইটিআই কলেজ, গার্লস কলেজ, মর্নিং কলেজ, প্রধানমন্ত্রী জনঔষধি কেন্দ্র এবং হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা বাড়ানোর কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ঘোষিত কাজগুলি সম্পন্ন করতে প্রশাসনকে নির্দেশও দিয়েছেন তিনি।
সীমান্তে নজরদারির আশ্বাস
বৃহস্পতিবার মুর্শিদাবাদ বিধানসভার অন্তর্গত লালবাগে যান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে বুধাসপাড়া সর্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটির পুজোর উদ্বোধন করেন তিনি। উদ্বোধনের মঞ্চ থেকেই এলাকার আইনশৃঙ্খলা ও সীমান্ত নিরাপত্তার প্রসঙ্গ তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া এই এলাকায় অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং বিভিন্ন ধরনের পাচার রুখতে প্রশাসন সক্রিয় রয়েছে। শুভেন্দু বলেন, “মুর্শিদাবাদ লাগোয়া সীমান্তে কাঁটাতার দেওয়ার কাজ চলছে। বিএসএফ ও পুলিশ জেলায় একসঙ্গে কাজ করছে। কোনও অবৈধ অনুপ্রবেশ ঘটবে না। গরু পাচার, নেশার সামগ্রী পাচার এখন প্রায় বন্ধ।”
পাশাপাশি, মুর্শিদাবাদকে নেশামুক্ত করার উপরেও জোর দিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, এলাকার উন্নয়নের পাশাপাশি সামাজিক সমস্যাগুলির মোকাবিলাও জরুরি। সেই সঙ্গে নাবালিকা বিবাহ বন্ধ করতে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে আবেদন জানান মুখ্যমন্ত্রী। প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগে মেয়েদের বিয়ে দেওয়া যে অপরাধ, তাও মনে করিয়ে দেন তিনি। মুর্শিদাবাদের পর্যটন সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, এলাকার উন্নয়ন হলে পর্যটনের ক্ষেত্রেও নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।
আরও খবর
মুর্শিদাবাদের জন্য উপহারের ডালি
লালবাগের অনুষ্ঠানে শুধু নিরাপত্তা নয়, মুর্শিদাবাদ বিধানসভার শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিকাঠামো নিয়েও প্রশাসনিক কর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। এলাকার প্রয়োজনীয় পরিষেবা সম্পর্কে খোঁজ নিতে গিয়ে তিনি জানতে চান, সেখানে কোনও আইটিআই কলেজ রয়েছে কি না। এরপরই নতুন আইটিআই কলেজের জন্য জমির ব্যবস্থা করতে জেলাশাসককে নির্দেশ দেন তিনি। বলেন, “ডিএম সাহেব, জমি দিন।” মেয়েদের জন্য পৃথক কলেজ চালু করার পাশাপাশি মর্নিং কলেজ শুরু করার কথাও ঘোষণা করেন শুভেন্দু। তাঁর নির্দেশ, বর্তমান কলেজেই সকালের বিভাগ চালুর ব্যবস্থা করতে হবে। অধ্যাপকের অভাব হবে না বলেও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
স্বাস্থ্য পরিষেবার উন্নতিতেও জোর দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এলাকার হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা বাড়ানো এবং প্রধানমন্ত্রী জনঔষধি কেন্দ্র চালুর কথা জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য, এর ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের চিকিৎসা পরিষেবা ও তুলনামূলক সাশ্রয়ী ওষুধ পাওয়ার সুযোগ বাড়বে। উন্নয়নমূলক এই কাজগুলির জন্য অর্থের অভাব হবে না বলেও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, “উন্নয়নে অর্থ বাধা হবে না। এই কাজগুলি ডিসেম্বরের মধ্যে করতে হবে।” এদিনের অনুষ্ঠানে কার্যত স্পষ্ট করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী, মুর্শিদাবাদ বিধানসভা এলাকার উন্নয়নের দায়িত্ব তিনি নিজেই দেখছেন। তাঁর কথায়, “এই বিধানসভা আমার দায়িত্ব।”


