Bengal Liberty:
উত্তরবঙ্গ সফর শেষে চা শিল্পের পুনরুজ্জীবন এবং রাজ্যের পরিবহণ ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও নিরাপদ করতে একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করলেন রাজ্যের শ্রম ও পরিবহণমন্ত্রী অর্জুন সিং। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, শ্রমিকদের প্রাপ্য মজুরি, পিএফ ও গ্র্যাচুইটির অর্থ আত্মসাৎ কিংবা বেআইনি উপায়ে চা বাগান পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত কোনও অসাধু গোষ্ঠীকে রেয়াত করা হবে না। ইতিমধ্যেই আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের প্রক্রিয়াও চলছে।

Arjun Singh
আরও খবর
উত্তরবঙ্গ সফরে মন্ত্রী দার্জিলিংয়ের মংপু, সিংকোনা, পানিঘাটা ও মকাইবাড়ি চা বাগান পরিদর্শন করেন। শ্রমিকদের জন্য নির্মিত স্বাস্থ্যকেন্দ্র, ক্রেশ এবং প্রশাসনিক পরিকাঠামো খতিয়ে দেখেন। পরে শিলিগুড়ির দাগাপুর শ্রমিক ভবনে আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করে তিনি জানান, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে আইনি ফাঁকফোকর ও রাজনৈতিক মদতে বহু চা বাগান রুগ্ন হয়ে পড়েছিল। নতুন নীতিতে অচল চা বাগানগুলিকে পুনরুজ্জীবিত করা, এনসিএলটি-তে আটকে থাকা মামলাগুলির আইনি সমাধান করা এবং টি-ট্যুরিজমের নামে জমির অপব্যবহার রুখতে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

রুগ্ন চা বাগান, ফিটনেস সেন্টার ও পিঙ্ক কার্ডে জোর শ্রম ও পরিবহণ দফতরের
পরিবহণ ক্ষেত্রেও বড় সংস্কারের ঘোষণা করেছেন মন্ত্রী। রাজ্যের প্রতিটি জেলায় আধুনিক বাণিজ্যিক যানবাহনের ফিটনেস সেন্টার গড়ে তোলা হবে। স্কুলবাস ও পুলকারের নিরাপত্তায় বিশেষ নজরদারি চালানো হবে। পাশাপাশি, ১৫ বছরের বেশি পুরনো এবং ফিটনেস ও পারমিটবিহীন যানবাহনের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এডিএম, আরটিও এবং এমভিআইদের স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সরাসরি সমন্বয় রেখে অভিযান চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
Arjun Singh
মহিলাদের বিনামূল্যের বাস পরিষেবা বন্ধের জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে অর্জুন সিং জানান, পরিষেবাকে আরও স্বচ্ছ করতে কেওয়াইসি-ভিত্তিক ডিজিটাল ‘পিঙ্ক কার্ড’ চালু করা হবে। একই সঙ্গে ভিনরাজ্যে গাড়ি রেজিস্ট্রেশন করে রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার প্রবণতার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার ফলে গত মাসে পরিবহণ দফতরের রাজস্ব প্রায় ১০ শতাংশ বেড়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
Arjun Singh
দলের অভ্যন্তরে তোলাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধেও কড়া বার্তা দেন শ্রম ও পরিবহণমন্ত্রী। তিনি বলেন, দলের নাম ভাঙিয়ে যারা দুর্নীতি করছে, তাদের চিহ্নিত করে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হবে। সফরের শেষে শিলিগুড়ি স্টেট গেস্ট হাউসে দুই দফতরের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে উত্তরবঙ্গের চা শিল্পের উন্নয়ন এবং আধুনিক, নিরাপদ পরিবহণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার রূপরেখা চূড়ান্ত করা হয়।

আরও পড়ুনঃ “স্বয়ং ঈশ্বর ডাকলেও যাব না!”— বলেছিলেন কিশোর কুমার, তারপরের সেই পরিণতি আজও চমকে দেয়


