Bengal Liberty: হিন্দু সমাজ পার্টি। আসন্ন বিধানসভার আগে পশ্চিমবঙ্গে নতুন হিন্দুবাদী দলের আবির্ভাব। ওই দলের প্রকাশিত ইস্তাহারে মুসলিমরা জাতীয় সঙ্গীত না-গাইতে চাইলে প্রকাশ্যে রাস্তার মোড়ে বসিয়ে চড় মারার শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য, ভারতীয় সংবিধানে জাতীয় সঙ্গীতের অবমাননা করলে তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, জরিমানা, অথবা উভয় শাস্তির উল্লেখ রয়েছে।
ঘনিষ্ঠ সূত্রে খবর, এই দল গঠনে ইন্ধন জুগিয়েছে দিলীপ ঘোষ। সম্প্রীতি তাঁর একটি অশালীন ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। তারপর থেকেই দলেই কার্যত কোন ঠাসা তিনি। সেকারণেই দলের ভোট কাটতে মরিয়া দিলীপ ঘোষ। বেশ কয়েকবার তৃণমূলের পক্ষে সাওয়াল করতে গিয়েছে তাঁকে। এই সব ঘটনা থেকেই স্পষ্ট হয়, দিলীপ ঘোষ এখন বিজেপি-বিরোধী।
নির্বাচনী ইস্তেহারে প্রত্যেক পার্টি সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজের কথা লেখে। ক্ষমতায় আসলে রাজ্যের তারা কী কী পরিবর্তন ঘটাবে, সে কথাই জানায়। কিন্তু এই পার্টির ইস্তেহারে তেমন কিছু দেখা যায় নি। সমাজে উগ্রহিন্দুত্ব আফিমের বিষের মতো ছড়িয়ে দেওয়া এবং উস্কানিমূলক বক্তব্য রাখাই এই দলের এজেন্ডা। পাশাপাশি বিধানসভা নির্বাচনে তারা ১০০ টি আসনে লড়াই করবে, ইস্তেহারে সে কথাও জানিয়েছে তারা।
সংবিধানের ৭ টি মৌলিক অধিকারের (বর্তমানে ৬টি) মধ্যে ধর্মীয় চর্চার স্বাধীনতা অন্যতম অধিকার। এই দলের প্রকাশিত ইস্তাহারে মৌলবাদী দাবি গুলি সরাসরি ভারতীয় সংবিধানকে আঘাত করে।
আরও খবর

ইস্তেহারে প্রকাশিত মৌলবাদী দাবিগুলি হল: (Hindu samaj party)
১. হিন্দুদের ধর্মীয় শিক্ষা
২. মন্দিরগুলিকে সরকারি অধিগ্রহণ থেকে মুক্ত করা
৩. হিন্দু ধর্মান্তর রোধ করা
৪. জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ আইন
৫. সকলের জন্য সমান আইন-শৃঙ্খলা
৬. নিজস্ব ভাষায় বিনামূল্যে শিক্ষা এবং উচ্চশিক্ষা
৭. হিন্দুদের অধিকার রক্ষা (সংখ্যাগরিষ্ঠ কমিশন গঠন)
৮. হিন্দু দেবদেবীদের মূর্তি ভাঙচুরকারীদের মৃত্যুদণ্ড
৯. ভারতকে হিন্দু রাষ্ট্র করা


