সিমন্তিনী রায়, Bengal Liberty:দেখতে-দেখতে উৎসব শেষ। ২৭ অক্টোবরেই পরোক্ষভাবে বেজে গেল ভোটের দামামা। পশ্চিমবঙ্গ-সহ মোট ১২টি রাজ্য এবং কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলে
SIR শুরু হ’ল। গোটা বিষয়টা নিয়ে কোন রাজ্যের কি আবহ, তা-আমরা স্পষ্ট দেখতে পারছি। বিশেষ করে SIR-কে কেন্দ্র করে বাংলার পারদ যে হু-হু করে তপ্ত হচ্ছে, তা স্পষ্টই আমরা অনুধাবন করতে পারছি। এই মুহূর্তে রাজ্যের আবহাওয়া কিছুটা উত্তরে বাতাস ঢুকে পড়লেও, নবান্নের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে উত্তাপ চাক্ষুষ করতে পারছি আমরা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চাপের মুখে ঘেমে স্নান। কপালে চিন্তার ভাঁজ। মূলত ৩০% ভোট ব্যাংককে অক্ষত রাখার এই চাপ এটা।
গত রবিবার জাতীয় নির্বাচন কমিশন জানিয়ে দেয় যে, সোমবার বিকেলে দিল্লিতে সাংবাদিক সম্মেলন হবে। খবর ছড়িয়ে পড়তেই রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতে সোমবার সকালেই রাজ্যের আমলা মহলে বড় ধরনের রদবদল ঘটিয়ে ফেলেন মমতা। জেলাশাসক, মহকুমা শাসক থেকে শুরু করে বিডিও পর্যন্ত বদলি করতে পিছ-পা হয়নি নবান্ন।
এখানে বলে রাখা ভালো যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২১ জুলাইয়ের সভা থেকে চিৎকার করে বলেছিলেন, ‘কমিশন ঘেরাও হবে। SIR করতে দেব না।’ আজ ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধনের দিনক্ষণ ঘোষণা হতেই তৃণমূল বলছে, ‘আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই!’ কেন এই সুরের ১৮০ ডিগ্রি পরিবর্তন? উত্তর একমাত্র তৃণমূল সুপ্রিমো-ই দিতে পারবেন হয়তো।
আরও খবর
এদিকে, বিজেপির মুখে চওড়া হাসি। প্রত্যাশিতভাবে তারা SIR-কে স্বাগত জানাচ্ছেন। কিন্তু, BLO-২ দিতে গিয়ে রাজ্যের গেরুয়া শিবিরকে যে ল্যাজে-গোবরে হতে হয়েছে, সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। কারণ, সাংগঠনিকভাবে দলটার আজও প্রবল দুর্বল।
‘শূন্য’ বাম ২৬-এ খাতা খুলতে পারবে কি-না, সেটা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে বিস্তর। কিন্তু, যে বাম মৃত ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার জন্য বারবার রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক দফতরে দিস্তা-দিস্তা কাগজ জমা করেছিল, তারা কেন SIR নিয়ে উদ্বিগ্ন? তাহলে কি মমতার লাইনে SIR নীতিকে ‘গ্রিন সিগন্যাল’ দিচ্ছেন সেলিম সাহেব?
ইতিমধ্যে যে আমলারা বদলি হয়েছেন, বা নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন, তাঁরা SIR সংক্রান্ত বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত তো? যদি এখানে কোনও গলদ থেকে থাকে, তা-হলে নির্বাচন কমিশনের মাথায় যে বড় চাপ পড়বে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। কারণ, সংশ্লিষ্ট আমলাদের আবার হয়তো নতুন করে ট্রেনিং দিতে হতে পারে। এবং, সেটা হলে বেশ কিছুটা সময় লাগবে। এতে হয়তো SIR প্রক্রিয়া কিছুটা বাধাপ্রাপ্ত হতে পারে।
মঙ্গলবার জাতীয় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্স করবেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল। সেখানে এই প্রসঙ্গটা অবশ্যই উঠবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।


