Bengal Liberty : দীর্ঘদিন ধরে শিলিগুড়ি-জলপাইগুড়ি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (এসজেডিএ)-কে ঘিরে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে বড় পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার (SJDA)। এলইউসিসি (LUCC) সার্টিফিকেট প্রদান থেকে বহুতল প্রকল্পের বণ্টন, নির্মাণ অনুমোদন-সহ একাধিক বিষয়ে অনিয়মের অভিযোগের তদন্তে অবসরপ্রাপ্ত এক বিচারপতির তত্ত্বাবধানে বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাশাপাশি গত ১৫ বছরের আয়-ব্যয়ের স্পেশাল অডিট এবং দীর্ঘদিন একই পদে থাকা আধিকারিকদের ভূমিকা খতিয়ে দেখারও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে (SJDA)।

প্রথম বোর্ড বৈঠকেই একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত (SJDA)
রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠনের পর প্রথমবার শিলিগুড়ির মাটিগাড়ায় এসজেডিএ কার্যালয়ে বোর্ড বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী তথা পরিষদীয় মন্ত্রী শংকর ঘোষ, পরিবহন ও অর্থ দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী আনন্দময় বর্মন, বিধায়ক শিখা চ্যাটার্জী, দুর্গা মুর্মু, দীনেশ সরকার-সহ এসজেডিএ-র আধিকারিক এবং পুলিশ প্রশাসনের প্রতিনিধিরা। প্রায় তিন ঘণ্টার বৈঠকে দফতরের বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। একই সঙ্গে শিলিগুড়ি ও জলপাইগুড়ির উন্নয়নের জন্য প্রাথমিকভাবে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া জলপাইগুড়ি জেলার এসজেডিএ-র বাইরে থাকা কিছু এলাকাকে উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের আওতায় আনার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

এলইউসিসি ও বহুতল বণ্টনে অনিয়মের অভিযোগ (SJDA)
মন্ত্রী শংকর ঘোষ জানান, তৃণমূল সরকারের আমলে গত ১৫ বছরে এসজেডিএ-র আয়-ব্যয়ের হিসাব নিয়ে স্পেশাল অডিট করা হবে। তাঁর দাবি, এলইউসিসি প্রদানের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। ইকো সেনসিটিভ জোনের নিয়মের অপব্যাখ্যা করে একাধিক প্রভাবশালী নির্মাণ সংস্থা নিয়ম ভেঙে নির্মাণ করেছে বলেও অভিযোগ ওঠে। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে অনুমোদিত পরিকল্পনা ছাড়াই বহুতল নির্মাণ হয়েছে বলেও বৈঠকে উল্লেখ করা হয়। অন্যদিকে, শিলিগুড়ির কাওয়াখালিতে এসজেডিএ নির্মিত পুনর্বাসন প্রকল্পের বহুতল লটারির মাধ্যমে বণ্টনের কথা থাকলেও সেখানে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সেই অভিযোগের তদন্তও থার্ড পার্টির মাধ্যমে করানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বোর্ড।
আরও খবর

অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির তত্ত্বাবধানে তদন্ত (SJDA)
শংকর ঘোষ জানান, এলইউসিসি-সহ বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে একটি ইন্টারনাল অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ইনকোয়ারি শুরু হবে, যা অবসরপ্রাপ্ত এক বিচারপতির তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে। মুখ্যমন্ত্রীর অনুমতি নিয়েই এই তদন্ত শুরু হচ্ছে বলে তিনি জানান। মন্ত্রী বলেন, যাঁরা জেনে-বুঝে অনিয়মে মদত দিয়েছেন, সেই আধিকারিক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তদন্তের আওতায় আনা হবে। তাঁর অভিযোগ, একাংশ আমলা ও অসাধু ব্যবসায়ীদের যোগসাজশে পুরো ব্যবস্থাই দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছিল। তদন্তে দোষ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও স্পষ্ট জানিয়েছেন তিনি।
আরও পড়ুন :
https://bengalliberty.com/2026/08/07/agnimitra-paul-16/


