Birbhum incident
সৌমিত্র বোস,Bengal Liberty: সম্প্রতি ভাষা বিতর্ক শুরু হয়েছে। শুরু করেছে উত্তর ভারতের কিছু অশিক্ষিত বানিয়ে যাদের হাতে এখন দেশের শাসন ক্ষমতা। যা তারা জোগাড় করেছে ভারতীয় মানুষের ভোট চুরিসহ বিভিন্ন কর্মপ্রণালীর মাধ্যমে।
প্রথম আঘাত এনেছে শিক্ষা সংস্কৃতির ওপরে, কারণ বানিয়ারা শিক্ষা পছন্দ করে না।ওদের কাছে এই নিয়োগ ফুজুল খরচ। তারই অঙ্গ প্রথম আঘাত ভাষা বৈচিত্রে।
অরুন্ধুতি রায় বলেন ফ্যাসিবাদের প্রথম কর্মপ্রণালী সবকিছুকে বৈচিত্রহীন সমান ভাবে লেবেল করে দেওয়া। স্বাভাবিকভাবেই ভাষা সকল এবং ভাষাবৈচিত্রের যাবতীয় চারিত্রিক বৈশিষ্টকে মেরে পিটে এক করে দেওয়াটাই যে তার কর্মপদ্ধতি হবে তাতে আর অস্বাভাবিকতা থাকবে কেন? এমনিতে তো ব্রিটিশের বানানো সাম্রাজ্যবাদি পরিকল্পনায় কলকাতার ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের থেকে উইলিয়াম জোন্স এবং গিলক্রিস্ট সাহেব মিলে নিজেরাই একটা ভাষা বানিয়েছিলো দেড়শো বছর আগে , যাতে তারা বিহার থেকে ব্রজভূমি পর্যন্ত যাবতীয় প্রাকৃত-উদ্ভূত আঞ্চলিক ভাষাকে বুলডোজার দিয়ে চালিয়ে সমান করে দেওয়ার প্রক্রিয়ায় এক হাঁসজারু ভাষা তৈরী করেছিল নিজেদের করণিক প্রয়োজনে। এই ভাষাটিকে যে প্রাক্তন নাগরিক প্রয়োজনে বানানো হয়েছিল [ সংস্কৃত মানে যাহা সংস্কার করা হইয়াছিল, এবং যা নাগরাক্ষরে লেখা হয়েছিল [নাগরাক্ষর সমাজের নাগরী বা নগরের মানুষের জন্যে এক কনস্ট্রাটেড বা তৈরী করা ভাষা , প্রাকৃতজ নয় বা মানুষের চলিত ও প্রচলিত বাগবিন্যাসের ভাষা নয় অর্থাৎ রাজন্যকুলের আদরে সাধারণ মানুষের সঙ্গে ফারাক রাখার জন্য তৈরী হয়েছিল।
ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবিস্তারের প্রয়োজনে রাজন্যকুল ও পুরোহিতদের হাত থেকে তা চলে এলো স্তাবক মুৎসুদ্দি বানিয়াদের হাতে। তখন এই শ্রেষ্ঠী বানিয়াদের হাতেই পয়সা ও সম্পদ। তারা এই বুল্ডোজারই হিন্দি ভাষার প্রবর্তন করল যার কোনো মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক রইলো না , অর্থাৎ ভাষার ও ভাষা বিকাশের প্রাথমিক শর্ত বা মানুষের ভাব প্রকাশের মাধ্যম। তার থেকে বিচ্যুত করা হলো। ] ভাষা সেই থেকে একটা জনবিরোধী হাতিয়ার হিসোবে তৈরী হলো মানুষের ওপর শাসন ও শোষণের প্রয়োজনে , মানুষের মুখের বুলি কে অপমানকে তাদের ব্রাত্য ও বে-বাক বানাবার জন্যে তাদের অশিক্ষিত বলে বানিয়াম বেসাতিকে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করবার জন্য। পুরোনো সমাজে বানিয়াদের সম্মানের স্থান দেওয়া হত। তারা তখন বিদেশী সাম্রাজ্যবাদীদের দালালি করে নিজেদের সমাজসংস্কারক বানানোর লক্ষ্যে নিয়ে চললো। পয়সা হলে এবার সামাজিক সম্মানটাও যে চাই। তাই সারা পৃথিবীতেই একসময়ে বানিয়ারাই ফ্যাসিবাদী এবং একনায়কের শ্রেষ্ঠত্ব কায়েম করবে এটাই ভবিতব্য, . মার্কিন দেশের নির্বোধ ট্রাম্প বা স্বৈরাচারী হিটলার আর মোদী -শাহরাই তো শিক্ষা কে সাজাবে। হিন্দি তাদের মাতৃভাষা না হলেও, তারা একটা বস্তির প্রয়োজনে এক বুলডোজার ভাষাকে সবার ওপর চাপিয়ে দেবেই এটাই তো স্বাভাবিক। গুজরাটকে এমন এক ক্ষেত্র বানিয়েছে যেখানে কোনো কবি সাহিত্যিক, বৈজ্ঞানিক সাংস্কৃতিক গুণী মানুষের কোনো মান মর্যাদা। কারণ সে রাজ্যের এদের চেনে না। থাকলেও তা নিয়ে বানিয়েদের কোনো গর্বানুভূতি নেই। তাই তারা একটা leveller খুঁজে বেড়ায় আর বার করে আনে। বানিয়াদের বেসাতি চরিত্র তো সারা বিশ্বে একইরকম হবার কথা , হয়েছেও তাই।

মানুষের দৈনন্দিন সম্মিলিত জীবনচর্যায় ভাষার পরিবর্তনের চরিত্র কি ?
ভাষা এক সম্মিলিত জনগোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের আলাপচারিতার এক সাধারণীকরণ। সুতরাং যা প্রাকৃতজ বা বানানো বা কনস্ট্রাটেড নয়, তাইই ভাষা, যে ভাষা প্রাকৃতজ নয়, তার পেছনে সরকারি উদ্দেশ্য থাকে , যা শোষণের ও শাসনের হাতিয়ার অর্থাৎ সামরিক প্রকল্প, মানুষকে তার সম্মিলিত চর্যার থেকে সরিয়ে নিয়ে এক বিশেষ বিভাজনের হায়ারার্কি তৈরী করা, যেখানে কিছু সুবিধাভোগী কে তাদের চৌর্যকর্মের সুবিধাকে চিরন্তন রাখার কায়দা। তাই প্রাকৃতজ বৈচিত্র ছাড়া যে কোনো কনস্ট্রাটেড বা বানোয়াট manufactured ” ভাষা” হয়ে ওঠে সেই স্বাভাবিক স্রোতস্বীনী চলার পথ কে রুদ্ধ করে দেওয়া , সংস্কৃত ভাষা বা ল্যাটিন এখন আর কেউ বলে না। ‘হিন্দি” নামক ভজঘট বস্তুটির কোনো টিকে থাকার সম্ভাবনা নেই. এর পেছনে ব্যাটারি দেওয়া তাই নির্বুদ্ধিতা।
