prasenjit baksi
Bengal Liberty: ন্যাশানল প্রেস ডে’তে প্রবীণ সাংবাদিক প্রসেনজিৎ বক্সির সাক্ষাৎকার।
প্রশ্ন: গদি মিডিয়া এবং দরবারি মিডিয়া কী? (prasenjit baksi)
উত্তর:কংগ্রেসের চরিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে রাহুল গান্ধির কংগ্রেস বা গান্ধি পরিবারের কংগ্রেস। এই সাম্রাজ্যর পক্ষে কথা বলতে গিয়ে কিছু সাংবাদিক তাঁদের প্রতিপক্ষ মিডিয়া চ্যানেলগুলোকে ‘গদি মিডিয়া’র তকমা দিয়েছে। তাঁরা বিহার নির্বাচনের আগে রাহুল গান্ধির ভাবমূর্তিকে পরিণত রাজনীতিক হিসেবে ব্যক্ত করার চেষ্টা করেছেন। তাঁদের ক্যাম্পেনের বিষয়বস্তু ছিল― ভোটাধিকার যাত্রায় রাহুল গান্ধি কতটা হাঁটল, কী পোশাক পরল, কখন ছবি তুলল ইত্যাদি। এর আগে যেন তিনি কিছুই জানতেন না, বুঝতেন না। ক্যাম্পেন করতেই সবাই মত্ত হয়ে উঠলেন। কেউ বিহারের সমাজব্যবস্থার সম্পর্কে আগ্রহ দেখলেন না। বিহারের সমস্যাগুলো সাংবাদ পরিবেশনের বিষয়বস্তু হল না। বিহারের লোকেরা কেন খান স্যারকে প্রোমোট করল? কেন আনন্দ স্যারকে প্রমোট করল? কেন বাকি রাজ্যের নিরিখে বিহারের ছাত্র-ছাত্রীরা তুলনামূলকভাবে বেশি আইপিএস, আইএএস হচ্ছেন? এই প্রমোশনগুলো কোথায়? সেইকারণেই তাঁদের দরবারি মিডিয়া বলা হচ্ছে। বিষয়টা অনেকটা ‘কাক কাকের মাংস খাওয়া’র মতো। তাঁরা যদি আজকে ‘গদি মিডিয়া’ নাম না-দিত, তাহলে তাঁদেরকেও দরবারি মিডিয়া বলা হ’ত না।
প্রশ্ন: ইউটুবের ওপর নির্ভর করা সাংবাদিকদের সাংবাদমাধ্যমের স্বীকৃতি দিতে নারাজ কেন আপনি? (prasenjit baksi)
উত্তর: সাংবাদিকতা একটা প্রসেস। ৫টা ইনফরমেশন আসবে। সেটা ক্রস চেক হবে। তারপরে মানুষের কাছে পৌঁছাবে। এক্ষেত্রে ইউটিউব হ’ল ব্যক্তি নির্ভর চ্যানেল। তথ্য সংগ্রহ করার যথাযথা পরিকাঠামো থাকে না। সুতরাং, তারা যেটা মনে করে, সেটা নিয়েই ভিডিও বানায়। কেউ বলার থাকেন না। ইউটিউব একটা থার্ড পার্টি প্লাটফর্ম। সরকার এই প্লাটফর্মকে নিয়ন্ত্রণ করে না। কালকে এই সংস্থার কর্ণধাররা যদি সংস্থাকে বিক্রি করে দেন, তা-হলে সরকার কার কাছে জবাবদিহি করবে? সমাজমাধ্যমে রাষ্ট্রদ্রোহ প্রচার হলে, সরকারকে সেই সংস্থার কর্তৃপক্ষকে জানাতে হয়। করুন, ‘রিচডাউন’-এর প্রয়োজন থাকে। এছাড়া, সরকারের আর কিছু করার উপায় থাকে না।
প্রশ্ন: মিডিয়া জায়েন্ট সংস্থারা তাহলে কেন সোশ্যাল মিডিয়ায় নির্ভর হচ্ছে? (prasenjit baksi)
উত্তর: সোশ্যাল মিডিয়ায় অডিয়েন্স কাউন্ট করা সহজ। কিন্তু, তারা সংবাদমাধ্যমের স্বীকৃতি পায় না। নবান্ন, বিধানসভার অভ্যন্তরে প্রবেশ করে খবর করার অনুমতি পশ্চিমবঙ্গ সরকার দেয় না। এদেরকে সরকার স্বীকৃত প্রেস কার্ড দেওয়া হয় না। এদের ক্রিয়েটার বলা যেতে পারে। সংবাদিক নয়।
ব্রিটিশ আমলে লাগু করা অফিসিলায় সিক্রেট এক্ট ১৯২৩ এখনও চলছে কেন? এটা কি ঔপনিবেশিক আইন নয়?
উত্তর: এ-নিয়ে প্রায়ই হইচই হয়। ৫-৭ বছর লেগে গেল ডেটা প্রটেকশন অ্যাক্ট শুরু করতে। ইউটিউব এবং ফেসবুকের সঙ্গে প্রায়ই ঝগড়া হয়।
প্রশ্ন: লাইভ সম্প্রচারের বিরোধী কেন? (prasenjit baksi)
উত্তর: রাষ্ট্রের জরুরী অবস্থায় শুধুমাত্র দর্শকের দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য সম্প্রচার না-করাই ভাল। এতে শত্রুদেশ সুযোগের সদ্ব্যবহার করে। যা ২৬/১১-তে অনেক সংবাদমাধ্যম করেছে।
প্রশ্ন: সরকারের নিয়ন্ত্রণে থেকে সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন করা সম্ভব? (prasenjit baksi)
উত্তর: নিয়ম মেনে সাংবাদিকতা করা মানে সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকা নয়। আজকে কেউ অপারেশন সিঁদুরের সামনে দাঁড়িয়ে ভিডিও করে পোস্ট করলে, সমস্ত তথ্য শত্রুদেশ পেয়ে যাবে। সজাগ হয়ে যাবে তারা। তখন ইন্টারনেট স্লো-ডাউন করা ছাড়া কিছু করার থাকবে না সরকারের।
