Vladimir Putin
Bengal Liberty: ৪-৫ ডিসেম্বর দিল্লি সফরে আসছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তেমনটাই জানিয়েছে বিদেশ মন্ত্রক।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে তাঁর বৈঠকে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা যে বড় কেন্দ্রবিন্দু হতে চলেছে, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন প্রতিরক্ষা সচিব রাজেশ কুমার সিং। জানা গিয়েছে, পুতিনের সফরে বাড়তি এস-৪০০ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম কেনা ও সুখোই-৩০ এমকেআই যুদ্ধবিমানের আধুনিকীকরণ নিয়ে আলোচনা হতে পারে। ভারতীয় বায়ুসেনার লক্ষ্য ২৫৯টি উন্নত সুখোই সংগ্রহের। এর মধ্যে ৮৪টি বিমান কেনার প্রক্রিয়া ক্যাবিনেট কমিটির অনুমোদনের অপেক্ষায়।
তবে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা আলোচনা সত্ত্বেও বড় কোনও ঘোষণা যে প্রকাশ্যে আসবে না। সেই ইঙ্গিত আগেই দিয়ে রেখেছেন প্রতিরক্ষা সচিব। তিনি জানিয়েছেন, অতিরিক্ত এস-৪০০ কেনা, ব্যাটারি ডেলিভারিতে বিলম্ব দূর করা, এবং সরঞ্জাম সরবরাহে রাশিয়ার ভূমিকা সবই আলোচনার বিষয় হবে। নির্ধারিত প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের মধ্যেই এস-৪০০ ব্যাটারিগুলি হাতে পাওয়া যাবে বলে আশাবাদী সরকার।
সুখোই আপগ্রেড নিয়েও দুই পক্ষ গুরুত্ব দিচ্ছে। উন্নত রেডার, ডিজিটাল ককপিট, এমকে-৩, ব্রহ্মস, রুদ্রম ও আর-৩৭এম-সহ দীর্ঘ-পাল্লার অস্ত্র যুক্ত হওয়ার কথা। মিগ-২১ অবসর নেওয়ার পর বায়ুসেনার ঘাটতি পূরণে এই ‘সুপার-সুখোই’ বড় শক্তি হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এখনই এই আপগ্রেড বা অতিরিক্ত এস-৪০০ নিয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না করার পিছনে রয়েছে কূটনৈতিক বিষয়। কারণ একদিকে মার্কিন-ভারত সম্পর্কে টানাপোড়েন বাড়ছে, অন্যদিকে কিছুদিন আগেই ভারত আমেরিকার সঙ্গে সি-হক হেলিকপ্টার ও তেজস ইঞ্জিন কেনার প্রায় ৯,০০০ কোটি টাকার চুক্তি করেছে। তাই ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রেখেই রাশিয়ার সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এগিয়ে নিতে চাইছে নয়া দিল্লি।
সব মিলিয়ে, পুতিনের সফর ঘিরে দিল্লিতে বাড়ছে কূটনৈতিক উষ্ণতা তা প্রকাশ্যে না এলেও নেপথ্যের আলোচনা যে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হতে চলেছে, তা পরিষ্কার।

