US military operation in Venezuela
Bengal Liberty: মধ্যরাতের বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল ভেনিজুয়েলার (Venezuela) রাজধানী কারাকাস (Caracas)। তার কিছু ক্ষণের মধ্যেই চাঞ্চল্যকর ঘোষণা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump)—ভেনেজ়ুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে (Nicolas Maduro) সস্ত্রীক বন্দি করে দেশছাড়া করা হয়েছে। শুক্রবার স্থানীয় সময় রাত ২টো থেকেই ভেনিজুয়েলায় আমেরিকার সামরিক অভিযান শুরু হয়েছে বলে দাবি করেছে ওয়াশিংটন (Washington)।
কারাকাসে বিস্ফোরণ, ছড়াল আতঙ্ক (Venezuela)
শুক্রবার মধ্যরাতে কারাকাসে পর পর সাত বার বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। মিরান্ডা (Miranda) ও আরাগুয়ার (Aragua) মতো প্রদেশ থেকেও হামলার খবর আসে। শুরুতে হামলার নেপথ্যে কারা, তা স্পষ্ট ছিল না।
ট্রাম্পের ঘোষণা ও স্পেশ্যাল ফোর্সের দাবি (Venezuela)
এই আবহেই সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে ট্রাম্প জানান,“ভেনেজ়ুয়েলা এবং তার নেতা মাদুরোর বিরুদ্ধে আমেরিকা সফল ভাবে বড় মাত্রার অভিযান চালিয়েছে। মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে বন্দি করা হয়েছে। তাঁরা দেশ ছেড়েছেন।”
তিনি জানান, শনিবার ফ্লরিডার মার-আ-লাগোয় সাংবাদিক বৈঠকে অভিযানের বিস্তারিত জানানো হবে। মার্কিন প্রশাসনের এক কর্তার দাবি, আমেরিকার স্পেশ্যাল ফোর্সই মাদুরোকে আটক করেছে।
ভেনিজুয়েলার অভিযোগ, আন্তর্জাতিক নিন্দা (Venezuela)
মাদুরোকে বন্দির দাবি নিয়ে মুখ না খুললেও মার্কিন সামরিক অভিযানের তীব্র নিন্দা করেছে ভেনেজুয়েলা সরকার। তাদের অভিযোগ, দেশের খনিজ তেল ও সম্পদ দখলের লক্ষ্যেই এই হামলা। সাধারণ মানুষের বসতি এলাকায় হামলার অভিযোগও তোলা হয়েছে। ইরান ও কিউবা এই অভিযানের নিন্দা জানিয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, অভিযানের বিষয়ে চরম গোপনীয়তা বজায় রাখা হয়েছিল। কংগ্রেসের সেনেটের ‘আর্মড সার্ভিসেস কমিটি’-কেও আগাম জানানো হয়নি বলে দাবি।
গোটা ভেনেজুয়েলায় জরুরি অবস্থা জারি হয়েছে। আমেরিকা, ব্রিটেন, দক্ষিণ কোরিয়াসহ একাধিক দেশ তাদের নাগরিকদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলেছে। ভেনেজুয়েলার আকাশসীমায় বাণিজ্যিক উড়ান আপাতত বন্ধ রেখেছে মার্কিন এফএএ।
পুরনো সংঘাত (Venezuela)
দীর্ঘ দিন ধরেই ভেনেজুয়েলাকে ঘিরে আমেরিকার সঙ্গে উত্তেজনা চলছিল। তেল ট্যাঙ্কার চলাচলে নিষেধাজ্ঞা, মাদুরোকে ‘অবৈধ শাসক’ আখ্যা এবং জঙ্গি কার্যকলাপে তেল ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছে ট্রাম্প প্রশাসন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বের বৃহত্তম তেল ভান্ডারগুলির একটির মালিক ভেনেজুয়েলা। পাশাপাশি চিন ও রাশিয়ার সঙ্গে মাদুরো সরকারের ঘনিষ্ঠতাও ওয়াশিংটনের অস্বস্তির কারণ।
সব মিলিয়ে, ট্রাম্পের এই দাবিতে ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ রাজনীতির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতিতেও গভীর প্রভাব ফেলতে চলেছে (Venezuela) ।
