suvendu adhikari
Bengal liberty Desk, ৬ জানুয়ারি, কলকাতা: চা বাগানের শ্রমিকদের SIR সংক্রান্ত সমস্যা দূর করতে এবার ময়দানে নেমে পড়ল বিজেপি। উত্তরবঙ্গের চা বাগান শ্রমিকদের শুনানিতে ডাকার বিষয়ে এবার মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে চিঠি দিলেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। আজ, মঙ্গলবার সল্টলেকে রাজ্য বিজেপির দফতরে সাংবাদিক বৈঠক করেন শুভেন্দু অধিকারী। যেখানে আলিপুরদুয়ারের সাংসদ মনোজ টিজ্ঞা, ফলাকাটার বিধায়ক দীপক বর্মনদের পাশে বসিয়ে ওই চিঠির কথা জানান বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী নিজেই। বিরোধী দলনেতার দাবি, আলিপুরদুয়ার ও জলপাইগুড়ি মতো জেলাতে চা বাগান শ্রমিকদের সমস্যা নিয়ে জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি দিয়েছেন তিনি। এদিন চা বাগান শ্রমিকদের বেতন সংকট, জমির অধিকার, ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR) এবং প্রশাসনিক অনিয়ম নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)।
কী বললেন বিরোধী দলনেতা? (Suvendu Adhikari)
সাংবাদিক বৈঠকে শুভেন্দু বলেন, ‘আলিপুরদুয়ার ও জলপাইগুড়ি জেলার একাধিক চা বাগানে গত চার থেকে পাঁচ মাস ধরে শ্রমিকরা বেতন পাচ্ছেন না। মধু, ভার্নাবাড়ি, লঙ্কাপাড়া, রামঝোড়, চামুর্চি, আমবাড়ি, দেবপাড়া, মোগলকাটা, রেড ব্যাংক, রায়পুর সহ বহু চা বাগান কার্যত বন্ধ বা সংকটজনক অবস্থায় রয়েছে। এই পরিস্থিতির জন্য সরাসরি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের শ্রম দফতরের ব্যর্থতাকে দায়ী করেন তিনি এবং অবিলম্বে শ্রমিকদের পাঁচ মাসের বকেয়া বেতন মেটানোর দাবি জানান বিরোধী দলনেতা। একই সঙ্গে তাঁর অভিযোগ, তৃণমূল সরকার চা বাগানের জমির ১৫ থেকে ৩০ শতাংশ বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য অনুমতি দিয়ে চা শিল্প ধ্বংসের পরিকল্পনা করছে।
বিরোধী দলনেতা আরও বলেন, ২০০৬ সালের ‘ফরেস্ট রাইটস অ্যাক্ট’ অনুযায়ী চা বাগান শ্রমিকদের জমির মালিকানা বা অধিকার পাওয়ার কথা থাকলেও পশ্চিমবঙ্গ সরকার সেই আইন কার্যকর করেনি। একমাত্র এই রাজ্যেই ফরেস্ট রাইটস অ্যাক্ট মানা হচ্ছে না বলেও দাবি করেন তিনি। লিজ বা ভাড়াটিয়া ব্যবস্থার মাধ্যমে শ্রমিকদের অধিকার খর্ব করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তোলেন বিরোদা দলনেতা।
ভোটার তালিকা সংশোধন প্রসঙ্গে তিনি জানান, SIR চলাকালীন বহু চা বাগান শ্রমিকের কাছে জন্ম বা শিক্ষাগত শংসাপত্র না থাকায় ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই বিষয়ে দার্জিলিং ও উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন চা বাগান এলাকার পরিস্থিতি তুলে ধরে দলের সাংসদ রাজু বিস্তার লিখিত আবেদনের কথা উল্লেখ করেন তিনি। বিজেপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ফরেস্ট রাইটস অ্যাক্টের অধীনে থাকা নথিকে SIR-এর বৈধ দলিল হিসেবে গ্রহণ করতে হবে, যাতে একজন চা বাগান শ্রমিকের নামও ভোটার তালিকা থেকে বাদ না যায়। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে নির্বাচন কমিশন এই যুক্তিসঙ্গত দাবি গ্রহণ করবে।
শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ২০১৪ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে রাজ্যে প্রায় ১ কোটি ২৪ লক্ষ ভোটার বেড়েছে, যা জনসংখ্যাগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। এই কারণেই স্বচ্ছ ভোটার তালিকার স্বার্থে SIR প্রক্রিয়াকে তিনি সমর্থন করেন। একই সঙ্গে তাঁর অভিযোগ, বেআইনিভাবে ডোমিসাইল, জন্ম এবং অন্যান্য শংসাপত্র ইস্যু করে ভোটার তালিকায় ভুয়ো নাম ঢোকানোর চেষ্টা চলছে।
প্রশাসনিক স্তরে অনিয়মের প্রসঙ্গ তুলে শুভেন্দু বলেন, UPSC-র চিঠিতে রাজ্যের শীর্ষ প্রশাসনিক নিয়োগে নিয়মভঙ্গের বিষয় স্পষ্ট হয়েছে। সিনিয়র অফিসারদের বঞ্চিত করে জুনিয়রদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হচ্ছে এবং বেআইনি কাজের জন্য প্রশাসনিক সুরক্ষা দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
শুভেন্দুর হুঁশিয়ারি
শুভেন্দুর হুঁশিয়ারি, ভোটার তালিকায় ভুয়ো বা মৃত ভোটার ইচ্ছাকৃতভাবে রাখার চেষ্টা হলে বিজেপি আইনি পথে যাবে এবং প্রয়োজনে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হবে। চা বাগান শ্রমিকদের নিয়ে রাজনীতি নয়, তাদের ন্যায্য অধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেন বিরোধী দলনেতা (Suvendu Adhikari)।
