Police summon residents on I-PAC ED raid
Bengal Liberty Desk, ৮ জানুয়ারি, কলকাতা: পাঁচ ঘণ্টা পার! লক্ষ্মীবারে শহরের ৩ জায়গায় ইডি অভিযান। সল্টলেকের সেক্টর ফাইভে অবস্থিত ভোটকুশলী সংস্থা আইপ্যাক (IPAC)-এর অফিসে আজ, বৃহস্পতিবার সকালে Enforcement Directorate (ED)-র তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে। জানা গিয়েছে, দিল্লির একটি পুরনো মামলার সূত্রে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার বিশেষ দল গতকাল, বুধবারই পৌঁছে গিয়েছে কলকাতায়। অফিস ছাড়াও লাউডন স্ট্রীটে আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের (Pratik Jain) বাড়িতেও অভিযান চালানো হচ্ছে বলে খবর। এর পাসাপাশি পোস্তায় আরও একজন ব্যবসা্য়ীর বাড়িতে ইডি অভিযান চলছে বলে সূত্রের খবর।
এ দিন সকাল সাড়ে ছ’টা থেকে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের নিয়ে প্রায় ২০ জন অফিসার তল্লাশি অভিযান শুরু করেন। দিল্লি এবং কলকাতার অফিসারদের যৌথ দল ওই অভিযানে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন ইডির এক কর্তা। বেলা বাড়তেই প্রতীক জৈনের বাড়িতে এসে পৌঁছন কলকাতার পুলিশ কমিশলার ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
ED-র অভিযানের কারণ (Pratik Jain IPAC Office ED Raid)-

সূত্রের খবর, দিল্লিতে রেকর্ডে থাকা এক পুরনো মামলার সম্পর্কেই এই অভিযান চালানো হচ্ছে। সম্প্রতি বালি পাচার ও কয়লা পাচারের নতুন মামলায় একাধিক ব্যবসায়ী এবং চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টের যোগসূত্র পাওয়া গিয়েছে বলে দাবি তদন্তকারীদের। কয়লা ও বালি পাচারের কালো টাকা বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছে গচ্ছিত রাখা রয়েছে বলেও দাবি করেছেন তাঁরা। সেই সূত্রেই এ দিনের অভিযান। এছাড়াও সূত্রের দাবি, গোয়ার নির্বাচনে যে টাকা খরচ হয়েছিল। তা কয়লা দুর্নীতির টাকা। এমনকি, দিল্লি লিকার দুর্নীতির সঙ্গেও নাম জড়িয়েছে আই প্যাকের সহ প্রতিষ্ঠাতা প্রতীক জৈনের। নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতিতে আইপ্যাকের অফিসে নথি এবং অন্যান্য প্রমাণাদি খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। যদিও ঘটনার বিস্তারিত কারণ এখনও অফিসিয়ালভাবে জানানো হয়নি।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও বিশ্লেষণ (Pratik Jain IPAC Office ED Raid)–
আইপ্যাক রাজ্য সরকারের পরামর্শদাতা সংস্থা হিসেবেও পরিচিত। রাজ্য রাজনীতিতে এবং প্রশাসনিক যোগাযোগে আইপ্যাকের ভূমিকা থাকার কারণে এই অভিযান রাজনৈতিক মহলে তীব্র কৌতুহলের জন্ম দিয়েছে। আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের সঙ্গে তৃণমূল শাসকদলের শীর্ষ নেতৃত্ব ও প্রশাসনিক স্তরের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে বলে মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই ধরনের কেন্দ্রীয় সংস্থার অভিযান রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করতে পারে। বিশেষত শাসক দলের ঘনিষ্ঠ সংস্থা হিসেবে পরিচিত একটি প্রতিষ্ঠানের দফতর-মালিকের বাড়িতে ED-র হানা রাজনৈতিক ইঙ্গিতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছেন তারা। তবে কি এবার ফের দুর্নীতির জাঁতাকলে পড়ল তৃণমূল? প্রশ্ন রাজনৈতিক মহলে।
