Mamata's fourth letter to Gyanesh Kumar
Bengal Liberty: ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে নির্বাচন কমিশনের (Election commission) বিরুদ্ধে ক্ষোভ ও হতাশা—দু’টিই এবার একসঙ্গে তুলে ধরলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। এই নিয়ে চতুর্থবার দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে (Gyanesh Kumar) চিঠি পাঠালেন তিনি। উল্লেখযোগ্য ভাবে, চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী লিখে দিয়েছেন— “জানি এই চিঠির কোনও উত্তর আসবে না, তবু নিজের কর্তব্য থেকেই আবার লিখছি।”
চিঠিতে উল্লেখিত মমতার অভিযোগ (Mamata banarjee)
চিঠির পরতে পরতে এসআইআর প্রক্রিয়ায় সাধারণ মানুষের ‘হেনস্থা’র অভিযোগ তুলে ধরেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, সংবেদনশীলতাহীন এই প্রক্রিয়ার জেরে রাজ্যে এক ধরনের আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। সেই ‘আতঙ্কের’ ফলেই এসআইআর পর্বে ৭৭ জনের মৃত্যুর অভিযোগও নতুন করে তুলেছেন মমতা।
এসআইআর শুনানির নামে হেনস্থার অভিযোগ (Mamata banarjee)
মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, এসআইআর শুনানির নামে শুধু সাধারণ মানুষই নয়, নোবেলজয়ী অধ্যাপক অমর্ত্য সেন, কবি জয় গোস্বামী, অভিনেতা দীপক অধিকারী (Dev) কিংবা ক্রিকেটার মহম্মদ শামির মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিদেরও তলব করা হয়েছে। এতে নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করেন তিনি। পাশাপাশি, বিবাহসূত্রে নাম বা ঠিকানা বদল করা মহিলাদেরও শুনানির নামে হয়রানির অভিযোগ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
পর্যবেক্ষক ও মাইক্রো অবজ়ার্ভারদের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ (Mamata banarjee)
শুনানিপর্বে নিযুক্ত পর্যবেক্ষক ও মাইক্রো অবজারভার ভূমিকা নিয়েও তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন মমতা। তাঁর দাবি, পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ছাড়াই একতরফা ভাবে তাঁদের নিয়োগ করা হয়েছে। অনেকেই নিজেদের এক্তিয়ারের বাইরে গিয়ে কাজ করছেন। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষকে ‘দেশদ্রোহী’ বলেও দাগিয়ে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ তালিকাকে অযৌক্তিক ব্যাখ্যা (Mamata banarjee)
চিঠিতে নির্বাচন কমিশনের তথাকথিত ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ তালিকাকে সম্পূর্ণ অযৌক্তিক বলে দাবি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি, পশ্চিমবঙ্গে ব্যবহৃত এসআইআর পোর্টাল অন্য রাজ্যের তুলনায় আলাদা কেন, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, এই পোর্টাল বিজেপির আইটি সেলের তৈরি।
গঙ্গাসাগর মেলার প্রসঙ্গ টেনে মমতা জানিয়েছেন, ওই সময়ে রাজ্য পুলিশের বড় অংশ নিরাপত্তার কাজে নিযুক্ত থাকবে। ফলে তথাকথিত পর্যবেক্ষকদের নিরাপত্তার চেয়ে সাধারণ মানুষের সুরক্ষাই রাজ্য সরকারের কাছে অগ্রাধিকার। পরিযায়ী শ্রমিকদের বিষয়েও কমিশনের ভূমিকার সমালোচনা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। মমতার কথায়, কমিশনের কার্যকলাপ দেখে মনে হচ্ছে, লক্ষ্য ভোটার তালিকা সংশোধন নয়, বরং নাম বাদ দেওয়া।
চিঠির শেষে আবারও নিজের হতাশার কথা স্পষ্ট করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। হাতে লেখা দু’টি লাইনে তিনি জানিয়েছেন, উত্তর না পেলেও বিষয়গুলি কমিশনের নজরে আনা তাঁর সাংবিধানিক দায়িত্ব—আর সেই দায়িত্ব পালনের কারণেই তিনি বারবার চিঠি লিখে যাচ্ছেন।
