(Siliguri Mahakal Mandir)
Bengal Liberty, শিলিগুড়ি, ১৬ জানুয়ারি :
শিলিগুড়িতে প্রস্তাবিত মহাকাল মন্দিরের (Siliguri Mahakal Mandir) শিলান্যাসকে কেন্দ্র করে ফের বিতর্কে রাজ্য সরকার। ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে রাজনৈতিক বার্তা দিয়ে ভিনরাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিক (Migrant Workers) নির্যাতনের অভিযোগ তুলে বিজেপিকে আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তবে তার সাথেই নতুন করে প্রশ্ন ওঠে— সরকারি অর্থে একের পর এক ধর্মীয় পরিকাঠামো নির্মাণ কি আদৌ সংবিধানসম্মত?বিরোধীদের কটাক্ষ শিলিগুড়ির মহাকাল মন্দির শুধু একটি ধর্মীয় প্রকল্প নয়, বরং সরকারি টাকায় ধর্ম ও রাজনীতির মেলবন্ধন, যা নিয়ে গোটা রাজ্যে উত্তেজনা ছড়িয়েছে।

শিলিগুড়ির মাটিগাড়ায় প্রায় ৫৪ বিঘা সরকারি জমিতে মহাকাল মন্দির(Siliguri Mahakal Mandir) ও একটি আধুনিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে রাজ্য সরকার। প্রশাসনের দাবি, জমি চিহ্নিতকরণ ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন। তবে বিরোধীদের অভিযোগ, প্রথমে দিঘার জগন্নাথ মন্দির (Jagannath Temple in Digha), তারপর নিউটাউনের দুর্গাঙ্গন (Durga Angan in Newtown) এবার মহাকাল মন্দির (Siliguri Mahakal Mandir)— সরকারি কোষাগারের টাকা ব্যবহার করে ধারাবাহিকভাবে ধর্মীয় স্থাপনা নির্মাণ করে ভোটের রাজনীতি করছেন মুখ্যমন্ত্রী।

তৃণমূল সরকারের এই উদ্যোগকে ‘ভোট জেতার কৌশল’ বলেই কটাক্ষ করছে বিরোধীরা। এদিন শিলিগুড়িতে প্রস্তাবিত মহাকাল মন্দিরের (Siliguri Mahakal Mandir) শিলান্যাস অনুষ্ঠানে বিজেপির বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক রাজনীতির অভিযোগ তুলে আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী শিলান্যাস মঞ্চ থেকে মানবিকতার পাঠ দেন। তারপরই বিরোধীরা একযোগে অভিযোগ তোলেন, রাজ্যের ভেতরেই কর্মসংস্থান, শিল্প ও আইন-শৃঙ্খলার বেহাল অবস্থার কথা এড়িয়ে গিয়ে ভিনরাজ্যের প্রসঙ্গ তুলে দায় এড়ানোর চেষ্টা করছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁদের দাবি, রাজ্যের শ্রমিকদের রাজ্য ছাড়তে বাধ্য করেছে তৃণমূলের ব্যর্থ সরকার। রাজ্যে চাকরি, কর্মস্থল না থাকায় একাধিক মানুষ কার্যত রাজ্যের বাইরে কর্মসংস্থানে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।

উত্তরবঙ্গে বড় ধর্মীয় প্রকল্প ঘোষণা করে রাজনৈতিক বার্তা ছড়ানোর এই কৌশলকে আসন্ন ভোটে এগিয়ে থাকার অঙ্ক হিসেবেই দেখছে রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল। সরকারি অর্থে জগন্নাথ মন্দির, দুর্গাঙ্গন ও এখন মহাকাল মন্দির (Siliguri Mahakal Mandir)— এই ধারাবাহিকতায় স্পষ্ট যে ধর্মীয় আবেগকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক জমি শক্ত করতে চাইছে তৃণমূল
