Mekhliganj rape incident
Bengal Liberty, কলকাতা:
আরও এক নাবালিকা ধর্ষণের ঘটনায় উত্তাল হয়ে উঠল পশ্চিমবঙ্গ। কোচবিহারের মেখলিগঞ্জের(Mekhliganj rape incident) জামালদহে নাবালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগ ঘিরে শনিবার রাত থেকে কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় এলাকা। স্থানীয়দের বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ, পুলিশের লাঠিচার্জ সব মিলিয়ে আবারও প্রশ্নের মুখে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তথাকথিত ‘মা–মেয়েদের সরকার’।

কীভাবে ঘটল ভয়াবহ ঘটনা (Mekhliganj rape incident)
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২২ জানুয়ারি দুপুরে নদীর ধারে জ্বালানির কাঠ সংগ্রহ করতে গিয়েছিল ১১ বছরের এক নাবালিকা। অভিযোগ, সেই সময়ই তারই প্রতিবেশী এনামুল মিঞা নামের এক ষাটোর্ধ্ব ব্যক্তি তাকে জঙ্গলের মধ্যে টেনে নিয়ে গিয়ে হাত-পা বেঁধে ধারালো অস্ত্র দেখিয়ে যৌন নির্যাতন চালায়। গোটা ঘটনাটি পাশের এক গৃহবধূর নজরে পড়লে তিনি কোনওরকমে নাবালিকাকে উদ্ধার করেন। কিন্তু অভিযুক্তের লাগাতার হুমকির কারণে প্রথমে পুলিশের কাছে অভিযোগ জানাতে সাহস পায়নি নির্যাতিতার পরিবার।
তবে শনিবার বিষয়টি জানাজানি হতেই স্থানীয় বাসিন্দারা এগিয়ে আসেন(Mekhliganj rape incident)। স্থানীয়দের সহায়তায় সন্ধ্যায় জামালদহ ফাঁড়িতে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়।
পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ (Mekhliganj rape incident)
অভিযোগ দায়েরের পরেও অভিযুক্তকে (Mekhliganj rape incident)দ্রুত গ্রেফতার না করায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। স্থানীয়দের দাবি, ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধেও পুলিশ টালবাহানা করছিল। এর প্রতিবাদে জামালদহ ফাঁড়ির সামনে বিক্ষোভ শুরু হয়। পরে টায়ার জ্বালিয়ে রাজ্য সড়ক অবরোধ করা হয়।
পাথরবৃষ্টি ও লাঠিচার্জ, আহত ওসি
পরিস্থিতি সামাল দিতে গেলে বিক্ষোভকারীদের ছোড়া পাথরে আহত হন মেখলিগঞ্জ থানার ওসি মহম্মদ শাহবাজ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পাল্টা লাঠিচার্জ করে পুলিশ। মুহূর্তের মধ্যে ছত্রভঙ্গ হয়ে যায় বিক্ষোভকারীরা। একাধিক ব্যক্তিকে আটক করা হয়।
এই ঘটনার প্রতিবাদে জামালদহ নাগরিকরা রবিবার ১২ ঘণ্টার বনধ ডাকে। পুলিশের তরফে দাবি করা হয়েছে, একজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে এবং পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
প্রশ্নের মুখে ‘মা–মেয়েদের সরকার’
এই ঘটনা নতুন নয়। অভয়া কাণ্ড থেকে দুর্গাপুর একটার পর একটা ঘটনা প্রমাণ করছে, পশ্চিমবঙ্গে নারী নিরাপত্তা আজ চরম সঙ্কটে(Mekhliganj rape incident)। সবচেয়ে বিতর্কিত বিষয়, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই একাধিকবার মন্তব্য করেছেন— “রাতে মেয়েরা রাস্তায় না বেরোলেই ভালো।” (Mekhliganj rape incident)

তীব্র আক্রমণ শুভেন্দু অধিকারীর (Mekhliganj rape incident)
মেখলিগঞ্জের(Mekhliganj rape incident) এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল এ তিনি একটি পোস্ট করেন সেখানে লেখেন “পশ্চিমবঙ্গ এখন ধর্ষকদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। রাজ্যে আইন-শৃঙ্খলা বলে আর কিছু নেই। তাই মহিলাদের কোনও সুরক্ষা নেই।” তিনি আরও দাবি করেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তোষণের রাজনীতির ফলেই একটি বিশেষ সম্প্রদায়ের দৌরাত্ম্য বেড়েছে। হিন্দু মা-বোনেদের রক্ষার স্বার্থে সবাইকে একত্রিত হতেই হবে। এই সরকারকে অবিলম্বে বিসর্জন দেওয়া ছাড়া আর কোনও পথ নেই।” শুভেন্দু এই সরকারকে কটাক্ষ করে বলেন,“পশ্চিমবঙ্গকে ধীরে ধীরে বাংলাদেশ বানানোর পথে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে যেখানে মেয়েদের ন্যূনতম স্বাধীনতা ও নিরাপত্তাও নেই।”

তবেপ্রশ্নথেকেইযায় ‘মা-মাটির-মেয়েদের সরকার’—এই স্লোগানেই বছরের পর বছর ক্ষমতায় রয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নিজে মহিলা হয়ে কেন তিনি মহিলাদের সুরক্ষিত করতে পারছেন না? (Mekhliganj rape incident)আদৌ কি নিরাপদ বাংলার মেয়েরা? মেখলিগঞ্জের মতো ঘটনাগুলি প্রমাণ করছে, এই সরকারে মেয়েরা সুরক্ষিত নয়, বরং ভয় আর অনিশ্চয়তার মধ্যেই বাঁচতে বাধ্য(Mekhliganj rape incident)। ‘মা-মেয়েদের সরকার’ নয়, আজ পশ্চিমবঙ্গ যেন ধীরে ধীরে ভয় আর ব্যর্থ প্রশাসনের রাজ্যে পরিণত হচ্ছে যার দায় এড়াতে পারে না মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে(Mekhliganj rape incident)।
