Republic Day
Bengal Liberty, Kolkata:
২৬ জানুয়ারি (Republic Day) প্রজাতন্ত্র দিবসকে সামনে রেখে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রাজধানী দিল্লি। আলোকসজ্জা, কুচকাওয়াজের মহড়া, কড়া নিরাপত্তা সব মিলিয়ে উৎসবের রঙে সেজে উঠেছে করতব্য পথ (Kartavya Path) ও তার আশপাশের এলাকা। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর নেতৃত্বে দেশের ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবস উদযাপন হতে চলেছে বিশেষ তাৎপর্য নিয়ে।
রাজপথ জুড়ে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। সাজানো হয়েছে রঙিন লাইটিং, তেরঙ্গা পতাকা ও থিম-ভিত্তিক ডেকোরেশনে। প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই মহড়া সম্পন্ন হয়েছে। দেশের সামরিক শক্তি, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য ও রাজ্যগুলির ট্যাবলো প্রদর্শনের জন্য প্রস্তুত মঞ্চ।
নিরাপত্তা ব্যবস্থাও চূড়ান্ত পর্যায়ে। দিল্লিজুড়ে বাড়ানো হয়েছে পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর নজরদারি। ড্রোন নজরদারি, কড়া তল্লাশি ও ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে রাজধানীকে কার্যত দুর্গে পরিণত করা হয়েছে। প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠানে কোনওরকম অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্কতা নিয়েছে।
দেশবাসীর কাছে প্রজাতন্ত্র দিবস শুধু একটি জাতীয় উৎসব নয়, বরং সংবিধান, গণতন্ত্র ও জাতীয় ঐক্যের প্রতীক। সেই আবহেই ২৬ জানুয়ারিকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত দিল্লি

প্রধান অতিথি ও দিনভিত্তিক কর্মসূচি(Republic Day)
এ বছর প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কোস্তা এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন।
২৬ জানুয়ারির সকালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জাতীয় যুদ্ধস্মৃতিতে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন। এরপর করতব্য পথে অনুষ্ঠিত হবে ঐতিহ্যবাহী কুচকাওয়াজ।
কুচকাওয়াজ ও ভারত পর্ব
২৬ জানুয়ারির কুচকাওয়াজ শুরু হবে সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে। দর্শকদের প্রবেশের জন্য গেট খুলবে সকাল ৭টা থেকে। সরাসরি টেলিভিশন সম্প্রচার শুরু হবে সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে।
কুচকাওয়াজের পর ২৬ থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত লালকেল্লায় আয়োজন করা হবে ‘ভারত পর্ব’। প্রজাতন্ত্র দিবসের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি হবে ২৮ জানুয়ারি, প্রধানমন্ত্রীর এনসিসি র্যালির মাধ্যমে।

সেনাবাহিনী ও ডিআরডিওর শক্তি প্রদর্শন(Republic Day)
এবারের কুচকাওয়াজে বিশেষ আকর্ষণ থাকবে তিন বাহিনীর যৌথ ট্যাবলো ‘অপারেশন সিন্দুর: জয়েন্টনেসের মাধ্যমে বিজয়’। এতে ভারতের সমন্বিত সামরিক নীতি, দেশীয় প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি ও অপারেশনাল সক্ষমতা তুলে ধরা হবে।
ভারতীয় সেনাবাহিনী তুলে ধরবে আধুনিক যুদ্ধ বিন্যাস, মেকানাইজড কলাম ও মার্চিং কন্টিনজেন্ট। প্রথমবারের মতো আরভিসি-র একটি বিশেষ প্রাণী দল অংশ নেবে—যেখানে থাকবে ব্যাকট্রিয়ান উট, জানস্কার পোনি, সেনা কুকুর ও প্রশিক্ষিত র্যাপ্টর।
ডিআরডিও প্রদর্শন করবে অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, যার মধ্যে থাকবে দীর্ঘপাল্লার হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ও নৌ-প্রযুক্তি সংক্রান্ত ট্যাবলো।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বিমান বাহিনীর নতুন সংযোজন
এ বছর কুচকাওয়াজে অংশ নিচ্ছেন প্রায় ২,৫০০ সাংস্কৃতিক শিল্পী। ‘বন্দে মাতরম’ ও আত্মনির্ভর ভারতের ভাবনায় অনুপ্রাণিত সমন্বিত সাংস্কৃতিক পরিবেশনা নজর কাড়বে দর্শকদের।
প্রথমবারের মতো ভারতীয় বিমান বাহিনীর মার্চিং ব্যান্ডে অংশ নেবেন মহিলা অগ্নিবীররা। মোট ৬৬ জন অগ্নিবীর—যার মধ্যে ৯ জন মহিলা—এই ঐতিহাসিক পরিবেশনায় অংশ নেবেন।

রাজ্য ও কেন্দ্রীয় ট্যাবলো(Republic Day)
এ বছর করতব্য পথে চলবে মোট ৩০টি ট্যাবলো। এর মধ্যে ১৭টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল থেকে এবং ১৩টি বিভিন্ন কেন্দ্রীয় মন্ত্রক ও দপ্তরের।
‘স্বতন্ত্রতার মন্ত্র: বন্দে মাতরম’ এবং ‘সমৃদ্ধির মন্ত্র: আত্মনির্ভর ভারত’—এই দুই থিমে ফুটে উঠবে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রাম, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য ও উন্নয়নের যাত্রাপথ। বিশেষভাবে স্মরণ করা হবে জাতীয় সংগীত ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর পূর্তি।
বিশেষ অতিথি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা
দেশজুড়ে প্রায় ১০ হাজার বিশেষ অতিথিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তালিকায় রয়েছেন প্যারা-অ্যাথলিট, প্রাকৃতিক চাষে যুক্ত কৃষক, ইসরো ও ডিআরডিও-র বিজ্ঞানী এবং বিভিন্ন জাতীয় প্রকল্পের উপভোক্তারা।
নিরাপত্তার দিক থেকে দিল্লিতে জারি করা হয়েছে সর্বোচ্চ সতর্কতা। এক হাজারেরও বেশি হাই-ডেফিনিশন সিসিটিভি, ফেস রিকগনিশন সিস্টেম, এআই-সজ্জিত স্মার্ট গ্লাস এবং বহুস্তরীয় নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। করতব্য পথ ও সংলগ্ন এলাকায় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ও বিশেষ বিধিনিষেধ কার্যকর থাকবে।



