West Bengal Politics 2026
Bengal Liberty, ১৮ই ফেব্রুয়ারী, নিবেদিতা পাঁজা :
২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ(West Bengal Politics 2026) দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। ২০২৬-এর পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগে এক অত্যন্ত জটিল ও গুরুত্বপূর্ণ সমীকরণ। কংগ্রেস, বামফ্রন্ট এবং নওসাদ সিদ্দিকির আইএসএফ-এর মধ্যেকার এই ‘বন্ধুত্ব ও বিচ্ছেদ’-এর খেলা রাজ্যের ভোটব্যাঙ্ককে কোন দিকে নিয়ে যাবে?

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এখন ‘একলা চলো’ এবং ‘নতুন বন্ধু খোঁজা’-র এক অদ্ভুত সন্ধিক্ষণ চলছে। লোকসভা নির্বাচনে যে ‘ইন্ডি’ জোটের সলতে পাকানো হয়েছিল, ২০২৬-এর বিধানসভা ভোটের আগে বাংলার মাটিতে তার সলিল সমাধি একপ্রকার নিশ্চিত হয়ে গিয়েছে। প্রদেশ কংগ্রেসের নতুন সেনাপতি শুভঙ্কর সরকারের স্পষ্ট ঘোষণা—আর বামেদের সঙ্গে নয়, ২৯৪টি আসনেই হাত প্রতীক নিজের শক্তিতে লড়বে। অন্যদিকে, ভাঙড়ের বিধায়ক নওসাদ সিদ্দিকি এখন বামেদের কাছে তুরুপের তাস, আর ভরতপুরের লড়াকু নেতা হুমায়ুন কবীর জোটের গোলকধাঁধায় পড়ে ‘সাথীহারা’।
কংগ্রেসের ‘একলা চলো’ নীতি: কেন এই আত্মঘাতী নাকি সাহসী সিদ্ধান্ত? (West Bengal Politics 2026)
দীর্ঘদিন ধরে বামেদের সঙ্গে জোট করে লড়াই করার পর কংগ্রেস নেতৃত্বের একাংশ মনে করছে, এই জোটে লাভের চেয়ে লোকসান বেশি হয়েছে। শুভঙ্কর সরকারের নেতৃত্বে কংগ্রেস এখন নিজের হারানো জমি ফিরে পেতে মরিয়া।

ভোটব্যাঙ্ক পুনরুদ্ধার: কংগ্রেস মনে করছে, বামেদের সঙ্গে থাকলে তৃণমূল-বিরোধী মুসলিম ভোট এবং হিন্দু ভোট—উভয়ই মেরুকরণের রাজনীতিতে হারিয়ে যাচ্ছে। একা লড়লে অন্তত মালদহ, মুর্শিদাবাদ এবং উত্তর দিনাজপুরের মতো খাস তালুকগুলোতে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা সম্ভব।
দিল্লির বার্তা: রাহুল গান্ধী বা মল্লিকার্জুন খাড়গের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এখন তৃণমূলের সঙ্গে জাতীয় স্তরে সখ্যতা বজায় রাখলেও, বাংলার কংগ্রেস কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করতে বামেদের সঙ্গ ত্যাগ করা ছাড়া উপায় ছিল না। কারণ, নিচুতলার কর্মীরা কাস্তে-হাতুড়ির সঙ্গে কাঁধ মেলাতে আর স্বচ্ছন্দ বোধ করছেন না।
নওশাদ সিদ্দিকি: বামেদের নতুন ‘অক্সিজেন’? (West Bengal Politics 2026)
কংগ্রেস হাত ছাড়লেও বামফ্রন্ট কিন্তু নওশাদ সিদ্দিকির ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট (ISF)-কে ছাড়তে নারাজ।

সংখ্যালঘু ভোটের রসায়ন: ২০১১ সালের পর থেকে বামেদের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া মুসলিম ভোট ব্যাংককে ফেরাতে নওশাদই এখন আলিমুদ্দিনের প্রধান ভরসা। ভাঙড় থেকে শুরু করে মিনাখাঁ বা ক্যানিং—দক্ষিণবঙ্গের এক বিশাল এলাকায় নওশাদের যে সাংগঠনিক শক্তি তৈরি হয়েছে, তাকে কাজে লাগিয়ে বামেরা আবার বিধানসভায় খাতা খুলতে চায়।
শরিকি কোন্দল: তবে এই পথ কণ্টকহীন নয়। ফরওয়ার্ড ব্লকের মতো বাম শরিকরা নওশাদকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া বা বেশি আসন ছাড়ার ঘোর বিরোধী। তাঁদের মতে, একজন পীরজাদার দলের সঙ্গে বেশি মাখামাখি বামেদের ধর্মনিরপেক্ষ ভাবমূর্তিকে কালিমালিপ্ত করতে পারে।
হুমায়ুন কবীর: এক ‘সাথীহারা’র রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ(West Bengal Politics 2026)
মুর্শিদাবাদের ভরতপুরের সদ্য বহিষ্কৃত তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর নিজের নতুন দল ‘জনতা উন্নয়ন পার্টি’ (JUP) গড়েও আজ কোণঠাসা।

জোটের অধরা স্বপ্ন: হুমায়ুন কবীর চেয়েছিলেন বাম-আইএসএফ-এর সঙ্গে জোট করে মুর্শিদাবাদ ও মালদহে তৃণমূলের ভিত নাড়িয়ে দিতে। কিন্তু আসন ভাগাভাগি নিয়ে নওসাদ ও বামেদের সঙ্গে তাঁর বনিবনা না হওয়ায় তিনি এখন একা।
ব্যক্তিগত লড়াই বনাম দলের লড়াই: হুমায়ুন কবীর বরাবরই একজন ‘জায়ান্ট কিলার’ হিসেবে পরিচিত। তবে একক শক্তিতে একটি রাজনৈতিক দলকে বিধানসভা নির্বাচনে জেতানো যে কতটা কঠিন, তা তিনি এখন হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূল তাঁর পরিবারে ভাঙন ধরিয়ে তাঁকে দুর্বল করতে চাইছে।
📷 https://t.co/zBORn5WfrW
মমতার থেকে ভরসা উঠে গিয়েছে: পার্থ চট্টোপাধ্যায়। Bengal Liberty। Partha Chatterjee। Mamata Banerjee@itspcofficial #MamataBanerjee #ParthaChatterjee #TMCWestBengal #bjpwestbengal #CpimWestBengal #BengalLiberty pic.twitter.com/ZPTOjrz2VQ— Bengal Liberty (@bengalliberty1) February 19, 2026
এই চারমূর্তির লড়াই (তৃণমূল, বিজেপি, বাম-নওসাদ এবং কংগ্রেস) বাংলার রাজনীতিতে এক নতুন মেরুকরণ তৈরি করছে। এই পরিবর্তনের ফলে ২০২৬-এর নির্বাচন মূলত চতুর্মুখী লড়াইয়ের (তৃণমূল, বিজেপি, বাম-আইএসএফ এবং কংগ্রেস) দিকে এগোচ্ছে। মুসলিম ভোট ব্যাংক এবং গ্রামীণ ভোট ভাগ হওয়ার সম্ভাবনা এই নির্বাচনে নির্ণায়ক ভূমিকা নিতে পারে। ২০২৬-এর পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন আর কেবল তৃণমূল বনাম বিজেপি-র লড়াই থাকছে না। নওসাদ সিদ্দিকি এবং হুমায়ুন কবীরের মতো আঞ্চলিক শক্তিগুলো যে ‘কিংমেকার’ হওয়ার স্বপ্ন দেখছে, তা কতটা সফল হবে তা সময়ই বলবে। তবে কংগ্রেসের বাম-বিচ্ছেদ প্রমাণ করে দিল যে, বাংলায় ‘আদর্শের’ চেয়ে ‘অস্তিত্ব রক্ষার’ রাজনীতিই এখন বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে।
হুমায়ুন সাথীহারা হলেও তিনি কি শেষ মুহূর্তে আব্বাস সিদ্দিকি বা ওয়েইসির মিমের সঙ্গে হাত মেলাবেন? নাকি নওসাদ সিদ্দিকি বামেদের কাঁধে চড়ে মহাকরণের দিকে এগোবেন? এই জটিল প্রশ্নের উত্তর লুকিয়ে আছে পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ মানুষের ব্যালট বক্সে।
