Sukanta Defamation Notice
Bengal Liberty Desk, ২১ ফেব্রুয়ারি, কলকাতা: রাজ্যের প্রাক্তন পুলিশপ্রধান রাজীব কুমার-কে ঘিরে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে। তাঁর বিরুদ্ধে প্রকাশ্য সভা ও সমাজমাধ্যমে মানহানিকর মন্তব্যের অভিযোগ তুলে কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার-কে আইনি নোটিস পাঠানো হয়েছে। এবং অন্যদিকে সেই নোটিসকে গুরুত্ব না দিয়ে পাল্টা কড়া অবস্থান নিলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার (Sukanta Defamation Notice)।
কী নিয়ে বিতর্ক (Sukanta Defamation Notice)?
বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজ্য জুড়ে বিজেপির কর্মসূচির অংশ হিসেবে একাধিক জনসভায় বক্তব্য রাখছেন সুকান্ত মজুমদার। অভিযোগ, সেই সব সভায় তিনি প্রাক্তন ডিজিপিকে লক্ষ্য করে একাধিক কটূক্তি করেন এবং কয়লা ও গরুপাচার সংক্রান্ত মামলার প্রসঙ্গ টেনে মন্তব্য করেন।
রাজীব কুমারের দাবি, মন্তব্যগুলি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং তাঁর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার লক্ষ্যেই করা হয়েছে (Sukanta Defamation Notice)।
আইনি নোটিসে কী বলা হয়েছে (Sukanta Defamation Notice)?

৩০ জানুয়ারি প্রেরিত দু’পাতার নোটিসে উল্লেখ করা হয়েছে—
একটি ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে রাজীব কুমার সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য করতে দেখা যাচ্ছে।
বক্তব্যগুলি ‘মিথ্যা, মনগড়া ও বিদ্বেষমূলক’।
এতে তাঁর পেশাগত সুনাম ও সামাজিক মর্যাদায় আঘাত লেগেছে।
নোটিসে দাবি করা হয়েছে—সংশ্লিষ্ট ভিডিয়ো অবিলম্বে সরাতে হবে। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম-সহ যে সব প্ল্যাটফর্মে তা ছড়িয়েছে, সেখানেই প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে সাত দিনের মধ্যে তা না হলে দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হবে।
চিঠি পৌঁছনো নিয়ে ধোঁয়াশা (Sukanta Defamation Notice)!
গত ৩০ জানুয়ারি রাজীব কুমারের আইনজীবীর তরফে আইনি নোটিস জারি করা হয়েছিল। তবে সুকান্ত মজুমদারের দফতরের দাবি, নোটিসটি বালুরঘাটে তাঁর সাংসদ কার্যালয়ের ঠিকানায় পাঠানো হয়। সে সময় তিনি সংসদের অধিবেশন ও অন্যান্য দলীয় কর্মসূচিতে ব্যস্ত থাকায় বালুরঘাটের বাইরে ছিলেন, ফলে চিঠিটি হাতে পেতে বিলম্ব হয়। পাশাপাশি, নোটিসটি ই-মেলের মাধ্যমেও পাঠানো হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য মেলেনি।
পাল্টা বার্তা সুকান্তর (Sukanta Defamation Notice)

চিঠির বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই পাল্টা আক্রমণ শানিয়েছেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। তিনি বলেন “ওঁর যা ভাবমূর্তি, তা তো আপনারা-আমরা সবাই জানি। ফাইল লোপাটে অভিযুক্ত বলে তাঁকে অনেকে মনে করেন। তাঁকে ধরতে সিবিআই গিয়েছিল তাঁর বাসভবনে। সাম্প্রতিক যে ঘটনা ঘটেছিল, তাতে দেখা গিয়েছে ‘ফাইল চুরিকাণ্ডে’ উনি মুখ্যমন্ত্রীর শাগরেদ হয়েছেন। হাতে হাত মিলিয়েছেন। এই যে ভাবমূর্তি, তা আমি আর কতটুকু উজ্জ্বল করতে পারব। উনি নিজেই উজ্জ্বল করে রেখেছেন। আদালতের কী কী পর্যবেক্ষণ আছে, আপনারা শুনেছেন। প্রয়োজনে আগামী দিনে আমরাও সমাজমাধ্যমের সামনে আনব। উনি আইনি পথে লড়তে চেয়েছেন, আমরা আইনি পথে লড়ব (Sukanta Defamation Notice)।”
আরও পড়ুন (Sukanta Defamation Notice)
প্রয়াত সাহিত্যিক মণিশংকর মুখোপাধ্যায়, (Manishankar Mukhopadhyay Passes Away) কী লিখলেন সুকান্ত?
পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের শীর্ষ পদে বড় রদবদল, (Piyush Pandey appointed Acting DGP) রাজীব কুমারের অবসরে রাজ্য পুলিশের ভারপ্রাপ্ত ডিজি পীযূষ পান্ডে
বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই বিতর্ক রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়িয়েছে। বিজেপি শিবিরের মতে, দুর্নীতি ও প্রশাসনিক দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা তাদের রাজনৈতিক কর্মসূচির অংশ। তবে এখন দেখার, বিষয়টি আইনি লড়াইয়ের কোন পর্যায়ে পৌঁছয় এবং রাজনৈতিক সমীকরণে তার কী প্রভাব পরে (Sukanta Defamation Notice)!
