World Kidney Day
Bengal Liberty Desk, কলকাতা :
আজ বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে বিশ্ব কিডনি দিবস(World Kidney Day)। মানুষের শরীরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ কিডনিকে সুস্থ রাখার গুরুত্ব সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতেই প্রতিবছর মার্চ মাসের দ্বিতীয় বৃহস্পতিবার এই দিনটি পালন করা হয়। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক জীবনযাত্রা, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস এবং বিভিন্ন দীর্ঘস্থায়ী রোগের কারণে কিডনি রোগের ঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে। তাই এই দিনটি শুধু একটি প্রতীকী দিবস নয়, বরং সুস্থ জীবনের জন্য সতর্কবার্তা।
চিকিৎসকদের মতে, কিডনি রোগকে অনেক সময় “নীরব ঘাতক” বলা হয়। কারণ প্রাথমিক পর্যায়ে এই রোগের তেমন স্পষ্ট কোনো লক্ষণ দেখা যায় না। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই মানুষ বুঝতেই পারেন না যে তাঁদের কিডনিতে সমস্যা তৈরি হয়েছে। যখন রোগের লক্ষণ স্পষ্ট হয়, তখন অনেক সময় রোগটি বেশ জটিল অবস্থায় পৌঁছে যায়। তাই নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

কিডনির জন্য ক্ষতিকর ওষুধসমূহ :
অনেকেই সামান্য ব্যথা বা অসুস্থতায় চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই ওষুধ খেয়ে থাকেন, যা কিডনির জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
ব্যথানাশক ওষুধ (Painkillers):
এনএসএআইডি (NSAIDs) জাতীয় ওষুধ যেমন আইবুপ্রোফেন বা ডাইক্লোফেনাক দীর্ঘ সময় ধরে বা অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে কিডনির কার্যক্ষমতা নষ্ট হতে পারে। এছাড়াও আইবুপ্রোফেন, ডাইক্লোফেনাক এবং ন্যাপ রোকসেন জাতীয় ওষুধ বেশিদিন খেলেও সমস্যা হতে পারে।
অ্যান্টিবায়োটিক:
নির্দিষ্ট কিছু শক্তিশালী অ্যান্টিবায়োটিক কিডনির ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এ ধরনের ওষুধ সেবন করা উচিত নয়।
বিশেষ করে ডায়াবেটিস এবং উচ্চ রক্তচাপ কিডনি রোগের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে ধরা হয়। দীর্ঘদিন ধরে এই দুটি রোগ নিয়ন্ত্রণে না থাকলে কিডনির ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে এবং ধীরে ধীরে কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এছাড়াও অতিরিক্ত লবণযুক্ত খাবার খাওয়া, ধূমপান, অ্যালকোহল সেবন, স্থূলতা এবং পর্যাপ্ত জল না পান করাও কিডনি সমস্যার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

কিডনি সুস্থ রাখার উপায় :
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু সহজ অভ্যাস মেনে চললেই কিডনিকে অনেকটাই সুস্থ রাখা সম্ভব। প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান করা, সুষম খাদ্য গ্রহণ করা, অতিরিক্ত লবণ ও তেলযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা, নিয়মিত শরীরচর্চা করা এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় ওষুধ সেবন থেকেও বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা, কারণ কিছু ওষুধ দীর্ঘদিন ব্যবহার করলে কিডনির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
বিশ্ব কিডনি দিবস উপলক্ষে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন হাসপাতাল, স্বাস্থ্য সংস্থা ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের উদ্যোগে সচেতনতা কর্মসূচি, স্বাস্থ্য পরীক্ষা শিবির এবং আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, কিডনি রোগ প্রতিরোধের ক্ষেত্রে সচেতনতা এবং সময়মতো পরীক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বিশেষজ্ঞদের স্পষ্ট বার্তা – শরীর সুস্থ রাখতে হলে কিডনির যত্ন নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। তাই নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং সচেতনতার মাধ্যমেই কিডনি রোগের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
