LPG gas shortage India
Bengal liberty desk, ১২ মার্চ:
ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধের জেরে তৈরি হওয়া রান্নার গ্যাসের তীব্র সংকট এবার থাবা বসালো রাজ্যের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে (LPG gas shortage India)। সাধারণ মানুষের হেঁশেল থেকে হোটেলের টেবিল পেরিয়ে জ্বালানির টান পড়েছে মন্দিরের অন্দরেও। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, ভক্তদের প্রসাদ বিতরণে বড় ধরনের কাটছাঁট করতে বাধ্য হচ্ছে কলকাতা ইসকন থেকে শুরু করে বর্ধমানের সর্বমঙ্গলা বা দিঘার জগন্নাথ মন্দির কর্তৃপক্ষ।
জ্বালানির আকালে বদলে যাচ্ছে মন্দিরের ভোগের মেনু। পর্যাপ্ত গ্যাস না থাকায় ভাত-ডাল-তরকারির বদলে এখন ইসকনে জুটছে শুধুই খিচুড়ি। কোথাও আবার ভক্তদের ভিড় সামলাতে না পেরে আপাতত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ভোগ বিতরণ। যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানির এই অনিশ্চয়তা এখন দুশ্চিন্তায় ফেলেছে মন্দির কর্তৃপক্ষ ও অগণিত ভক্তদের।

কোথায় কী পরিবর্তন? LPG gas shortage India
কলকাতা ইসকন: প্রতিদিন দুপুরে ভক্ত ও অফিসযাত্রী মিলিয়ে প্রায় ৩০০ জন এখানে অন্নপ্রসাদ খেতেন। মেনুতে থাকত ভাত, ডাল ও নানাবিধ পদ। কিন্তু গ্যাস বাঁচাতে এখন থেকে শুধুমাত্র খিচুড়ি পরিবেশন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বর্ধমান সর্বমঙ্গলা মন্দির: বর্ধমানের এই ঐতিহাসিক মন্দিরে ১৩ মার্চ থেকে ভক্তদের জন্য ভোগ ও বিশেষ ‘মালসাভোগ’ বিতরণ আপাতত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
দিঘার জগন্নাথ মন্দির: দিঘায় প্রতিদিন প্রায় ১০০০-১২০০ জনের জন্য প্রসাদ তৈরি হতো। বর্তমানে তা কমিয়ে মাত্র ২০০-২৫০ জনে নামিয়ে আনা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কাঠ ব্যবহার করেও সামান্য পরিমাণে রান্না চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা হচ্ছে।
বাগবাজার মায়ের বাড়ি: রামকৃষ্ণ মিশনের অধীনস্থ সারদা মায়ের বাড়িতে প্রতিদিন বিনামূল্যে ভোগ খাওয়ানো হতো। জ্বালানি সংকটের আগাম আঁচ পেয়ে কর্তৃপক্ষ সাময়িকভাবে এই পরিষেবা সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
কর্তৃপক্ষের উদ্বেগ LPG gas shortage India
ইসকন কলকাতার ভারপ্রাপ্ত রাধারমণ দাস জানিয়েছেন, তাঁদের মূল লক্ষ্য থাকে যেন মন্দিরের আশেপাশে কেউ অভুক্ত না থাকেন। কিন্তু গ্যাসের জোগান যেভাবে কমছে, তাতে দুপুরের পাশাপাশি সন্ধ্যার ভোগ বিতরণ চালিয়ে যাওয়াও এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তমলুকের বর্গভীমা মন্দিরেও একই সংকটের ছায়া।
সব মন্দিরের পক্ষ থেকেই জানানো হয়েছে, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এবং গ্যাসের জোগান নিয়মিত হলে আবারও আগের মতোই জাঁকজমকপূর্ণভাবে প্রসাদ বিতরণ শুরু হবে। ততদিন পর্যন্ত ভক্তদের এই পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
