Muslim vote bank Bengal
Bengal Liberty, কলকাতা ১৪ মার্চ ২০২৬ :
২০১১ সাল থেকে ক্ষমতায় রয়েছেন মমতা বন্দোপাধ্যায়। বহু প্রতিশ্রুতি, আশ্বাস ও ভরসার কথা তাঁর বক্তৃতায় শোনা গেছে (Muslim vote bank Bengal)। তাঁর মতে, তিনি সবার জন্য সব কিছুই করেছেন এবং তাঁর সরকারে সবাই খুব শান্তিতে ও নিরাপদে বাস করছেন। কিন্তু আসলে সত্যি কি তাই?
৩৪ বছরের বাম ক্ষমতাকে চূর্ণ করে মসনদে বসেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে যাদের জন্য তিনি ক্ষমতায় বসেছেন, তাঁদেরকেই কি দূরে সরিয়ে দিয়েছেন? সংখ্যালঘু বা মুসলিম সম্প্রদায়ের বিরাট ভোটব্যাংককে হাতিয়ার করে একের পর এক নির্বাচনে জয়লাভ করেছেন তিনি। তারপর সেই সংখ্যালঘু মানুষদের আশ্বাসবাণী ও ‘ললিপপ’ দেওয়াতেই সীমাবদ্ধ থেকেছেন এমনটাই অভিযোগ অনেকের।

এর বেশি কিছু করলে মাননীয়ার সমস্যা নাকি দ্বিগুণ হবে। সেই গুপি গায়েন বাঘা বায়েন এর বিখ্যাত সংলাপ আজকের দিনে যেন প্রযোজ্য – “ ওরা যত বেশি জানবে, তত কম মানবে।”
এই এক ফর্মুলাকে ব্যবহার করেই এতদিন ক্ষমতায় টিকে আছেন এমনটাই মনে করছেন অনেকে। তবে হয়তো আর বেশিদিন নয়। রাজ্যের এক বড় অংশের সংখ্যালঘু মুসলমানদের দাবি
সংখ্যালঘুদের বড়ো দাবি Muslim vote bank Bengal
“মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শুধু আমাদের রাজনীতির জন্য বছরের পর বছর ব্যবহার করে এসেছেন। তাঁর কাছ থেকে শুধুই প্রতিশ্রুতি ছাড়া আর কিছু মেলেনি। রাজ্যের মাদ্রাসাগুলির বেহাল অবস্থা, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, ব্যবসা-বাণিজ্য সব কিছু গলাটিপে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ। শুধু নিজের স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য বছরের পর বছর সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে ব্যবহার করা হয়েছে।”
তবে এখন অনেকেই বুঝতে পারছেন তিনি কোন খেলায় নেমেছেন।
এবার কি বিজেপির উপর আস্থা জাগবে সংখ্যালঘুদের? :
অনেক সংখ্যালঘু মনে করছেন, প্রথমে ৩৪ বছর সিপিএম এবং তারপর প্রায় ১৫ বছর তৃণমূল – সবাই সংখ্যালঘু ভোটকে কাজে লাগিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ার দখল করেছেন।
উত্তর প্রদেশ হোক কিংবা বিহার অনেক বড় শতাংশ সংখ্যালঘু ভোট বিজেপির ঝুলিতে গেছে। সমর্থকদের দাবি, বিজেপি যখন উন্নয়ন করে তখন কারোর ধর্ম দেখে করে না। তাঁদের একটাই কথা আমরা সবাই ভারতবর্ষের নাগরিক, আমরা একসঙ্গে মিলে ইউনাইটেড ইন্ডিয়া গড়ে তুলব।
এবার দেখে নেওয়া যাক, নরেন্দ্র মোদি সংখ্যালঘু সংখ্যালঘুদের জন্য কী কী করেছেন –
মোদির আমলে সংখ্যালঘুরা:
* মোদির আমলে প্রায় ৪.৫২ কোটি স্কলারশিপ সংখ্যালঘু ছাত্রছাত্রীদের প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি স্কিল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামেও জোর দেওয়া হয়েছে। নয়া মঞ্জিল স্কিম-এর মাধ্যমে বহু মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ উপকৃত হয়েছেন।
* ট্রিপল তালাক প্রথা বন্ধ করে মুসলিম মহিলাদের শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
* বিভিন্ন জেনারেল ওয়েলফেয়ার স্কিমস-এর মাধ্যমে ঘরে ঘরে শৌচাগার, বাড়ি নির্মাণসহ নানা প্রকল্পে সংখ্যালঘু মুসলমানরাও সুবিধা পেয়েছেন।
তবে মুসলিম সম্প্রদায়ের একাংশ এখন সচেতন হয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে। সামনে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা। লোকসভা নির্বাচনের নিরিখে অনেক জায়গাতেই বিজেপি এগিয়ে রয়েছে এবার দেখার বিষয়, শেষ পর্যন্ত কোন পক্ষ জয়ী হয় মুসলিম ভোটে কি পশ্চিমবঙ্গে পদ্ম ফুটবে?
