Mamata Banerjee on LPG crisis
Bengal Liberty Desk, ২৭ মার্চ, কলকাতা: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আবহে রাজ্যে রান্নার গ্যাসের (LPG) তীব্র সঙ্কট ও সরবরাহ ঘাটতি নিয়ে ফের কেন্দ্রীয় সরকারকে তুলোধনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে দেশে জ্বালানি নিয়ে ক্রমেই বাড়ছে উদ্বেগ। আজ, শুক্রবার দুর্গাপুর যাওয়ার পথে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এ রাজ্যের অন্য কোথাও উৎপাদিত গ্যাস এই সঙ্কটকালীন পরিস্থিতিতে রাজ্যের বাইরে পাঠানো যাবে না (Mamata Banerjee on LPG crisis)।
মমতার মন্তব্যে শুরু বিতর্ক (Mamata Banerjee on LPG crisis)!

এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ভোটের সময় ভিনরাজ্য থেকে বিপুল সংখ্যক সরকারি কর্মী ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান রাজ্যে আসবেন। তাঁদের রান্নার প্রয়োজন মেটাতে গিয়ে রাজ্যের সাধারণ মানুষের গ্যাসের জোগানে কোনও সমস্যা হলে তা মেনে নেওয়া হবে না। এরপর তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনাও করেন। তাঁর বক্তব্য, আগে পেট্রল-ডিজেলের দাম কমানো উচিত।
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, হলদিয়ায় উৎপাদিত গ্যাস এই সঙ্কটকালে অন্য রাজ্যে পাঠানো যাবে না। আর মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। খোদ সরকারি এবং শিল্প মহলের পরিসংখ্যান বলছে, মুখ্যমন্ত্রীর এই অবস্থান আখেরে হিতে বিপরীত হতে পারে। কারণ, পশ্চিমবঙ্গ তার মোট রান্নার গ্যাসের চাহিদার সিংহভাগের জন্যই প্রতিবেশী রাজ্য ও আমদানির ওপর নির্ভরশীল।
পরিসংখ্যানের বাস্তব চিত্র- কোথা থেকে আসে বাংলার গ্যাস (Mamata Banerjee on LPG crisis)?

বিশেষজ্ঞদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের রান্নার গ্যাসের জোগানের বিন্যাস নিচে আলোচনা করা হল-
ওড়িশার পারাদ্বীপ: বাংলার চাহিদার প্রায় ৪০-৫০ শতাংশ বা তারও বেশি গ্যাস আসে ওড়িশার পারাদ্বীপ থেকে।
হলদিয়া বন্দর: বিদেশের জাহাজ থেকে হলদিয়া বন্দরে নামা গ্যাস মেটায় প্রায় ৩০-৪০ শতাংশ চাহিদা।
হলদিয়া রিফাইনারি: যে হলদিয়া রিফাইনারির গ্যাস আটকে দেওয়ার কথা মুখ্যমন্ত্রী বলছেন, তা বাংলার মোট প্রয়োজনের মাত্র ৫-৭ শতাংশ উৎপাদন করে।
বিহার ও অসম: বাকি ৫-১০ শতাংশ জোগান আসে বিহার বা অসমের মতো রাজ্য থেকে।
অর্থনীতিবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মুখ্যমন্ত্রী যদি ‘নিজের রাজ্যের সম্পদ অন্যকে দেব না’—এই নীতিতে অটল থাকেন, তবে তার ফল হবে ভয়াবহ।
পশ্চিমবঙ্গ যদি হলদিয়ার মাত্র ৫-৭ শতাংশ গ্যাস আটকে দেয়, তবে ওড়িশা বা অসমও যদি একই যুক্তি দেখিয়ে তাদের উৎপাদিত ৫০ শতাংশ গ্যাস বাংলায় পাঠানো বন্ধ করে দেয়, তবে কয়েক দিনের মধ্যেই গোটা রাজ্য অচল হয়ে পড়বে।
ভারত একটি যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোয় চলে যেখানে রাজ্যগুলো একে অপরের ওপর নির্ভরশীল। এই ধরণের ‘বিভেদকামী’ রাজনীতি জাতীয় সংহতির জন্য বড় হুমকি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
হলদিয়া বন্দরে যে গ্যাস নামে, তা কেবল বাংলার জন্য নয়, বরং পূর্ব ভারতের একটি বড় অংশের জন্য আসে। সেই সরবরাহ শৃঙ্খলে হস্তক্ষেপ করলে আন্তর্জাতিক মহলে ভুল বার্তা যাবে।
আরও পড়ুন –
Mamata Banerjee: লক্ষ্মীবারে দুর্যোগের পরে শুক্রে আকাশপথে অন্ডাল যাচ্ছেন না মমতা, সড়কপথেই দুর্গাপুর পাড়ি দিচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী!
বিরোধীদের তোপ (Mamata Banerjee on LPG crisis)-
বিজেপি এবং অন্যান্য বিরোধী দলগুলির দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেবল রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে এবং নিজের ব্যর্থতা ঢাকতে এই ধরণের অবাস্তব মন্তব্য করছেন। তাদের প্রশ্ন, “অর্ধেক গ্যাস যে ওড়িশা থেকে আসে, ওড়িশা সরকার যদি আগামীতে একই অবস্থান নেয়, তবে বাংলার মানুষ কি খাবে?”
জ্বালানি সঙ্কটের সময় সমাধানের পথ না খুঁজে এই ধরণের সংকীর্ণ আঞ্চলিক দাবি বাংলার সাধারণ মানুষের বিপদ আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এখন দেখার, এই পরিসংখ্যান সামনে আসার পর রাজ্য সরকার তার অবস্থান বদল করে কি না।
