EC guidelines WB Police
Bengal Liberty Desk, ২৮ মার্চ: ভোট যত এগোচ্ছে, ততই আইনশৃঙ্খলা নিয়ে কড়া হচ্ছে নির্বাচন কমিশন। আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি শক্ত হাতে নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাজ্যের থানাগুলিকে কড়া বার্তা দিল নির্বাচন কমিশন। এবার থানার OC-দের জন্য জারি করা হল একগুচ্ছ কঠোর নির্দেশিকা। ভোটের সময় কোনওরকম অশান্তি বা হিংসা বরদাস্ত করা হবে না। দায়িত্বে গাফিলতি ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে কড়া বার্তা কমিশনের (EC guidelines WB Police)।
ফৌজদারি মামলার দ্রুত নিষ্পত্তিতে জোর (EC guidelines WB Police)

কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, আগের নির্বাচনের সময় দায়ের হওয়া সমস্ত অপরাধমূলক মামলার তদন্ত দ্রুত শেষ করতে হবে। যেসব ক্ষেত্রে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি রয়েছে, সেগুলিও দ্রুত কার্যকর করার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। স্পষ্ট নির্দেশ কোনও ওয়ারেন্ট ১০ দিনের বেশি ঝুলিয়ে রাখা যাবে না। পাশাপাশি, থানাভিত্তিকভাবে পলাতক ও ‘ওয়ান্টেড’ অভিযুক্তদের তালিকা তৈরি করে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।
অপরাধপ্রবণ এলাকায় বাড়তি নজরদারি (EC guidelines WB Police)

অপরাধপ্রবণ ও মাদক কারবারিদের সক্রিয় এলাকা চিহ্নিত করে সেখানে টহল ও পিকেটিং জোরদার করতে বলা হয়েছে অফিসারদের। সন্দেহভাজন হোটেল, বার, গেস্ট হাউস বা ধর্মশালায় নিয়মিত তল্লাশি চালাতে হবে, যাতে বাইরে থেকে কেউ এসে অশান্তি ছড়াতে না পারে।
কোনও নির্বাচনী অপরাধ বা আইনশৃঙ্খলার খবর পেলেই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সীমান্তে কড়া নজর, দিনরাত নাকা চেকিং (EC guidelines WB Police)
আন্তঃজেলা ও আন্তঃরাজ্য সীমান্তে বেআইনি কার্যকলাপ রুখতে ২৪ ঘণ্টা নাকা চেকিং চালানোর নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। বিশেষ করে অবৈধ মদ, নগদ অর্থ বা অস্ত্র পাচার ঠেকাতে এক জেলা থেকে অন্য জেলার পুলিশের মধ্যে তথ্য আদানপ্রদানের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এবং সীমান্তবর্তী প্রধান সড়ক ছাড়াও ছোট লিঙ্ক রোড ও কাঁচা পথেও নজরদারি বাড়াতে হবে।
প্রতিটি নাকা পয়েন্টে গাড়িতে গাড়িতে তল্লাশি চালানোর পাশাপাশি সিসিটিভি ক্যামেরা সচল রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
সভা, মিছিল ও VIP নিরাপত্তায় কড়া নজর (EC guidelines WB Police)
রাজনৈতিক দলগুলির সভা, রোড শো, পথসভা সব ক্ষেত্রেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়মিত খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। বিশেষ করে যেসব নেতা বা ব্যক্তি হুমকির মুখে রয়েছেন বা নিরাপত্তাপ্রাপ্ত, তাঁদের সুরক্ষায় কোনও ফাঁক রাখা যাবে না এমনটাই নির্দেশ কমিশনের। নির্বাচনী পর্যবেক্ষক ও আধিকারিকদের সফরকালীন নিরাপত্তাও নিশ্চিত করতে হবে বলে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন-
Mamata Banerjee: ভোটের মুখে মমতার ‘উস্কানি’? মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যে ক্ষুব্ধ কমিশন, সিইও-র কাছে রিপোর্ট তলব
Kolkata Voter turnout: কলকাতায় ভোট বাড়াতে কমিশনের বড় চ্যালেঞ্জ! ৯০% টার্গেট সামনে রেখে কী বললেন CEO মনোজ আগরওয়াল?
প্রশাসনের উপর সরাসরি নজর কমিশনের (EC guidelines WB Police)
নির্বাচন কমিশনের স্পষ্ট বার্তা ভোট সংক্রান্ত কাজে যুক্ত প্রতিটি আধিকারিক কমিশনের সরাসরি নিয়ন্ত্রণে থাকবেন। ফলে কোনও নির্দেশ অমান্য করা হলে বা দায়িত্ব পালনে গাফিলতি ধরা পড়লে তা গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভোটের আগে এই বিস্তৃত নির্দেশিকা থেকে পরিষ্কার, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করাতে এবার কোনও ঝুঁকি নিতে নারাজ কমিশন। মাঠের স্তরে এই নির্দেশ কতটা কার্যকর হয়, সেটাই এখন দেখার।
