justice for Rahul demand
Bengal Liberty Desk, Kolkata:
রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর এক সপ্তাহ পার। justice for Rahul demand ঘটনার পর প্রথমদিকে কার্যত ভেঙে পড়েছিলেন সহ-অভিনেত্রী শ্বেতা মিশ্র। শোক ও আতঙ্কে তিনি দীর্ঘ সময় প্রকাশ্যে কিছু বলতে চাননি। তবে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি সামলে নিয়ে তিনি এবার ঘটনার সত্য সামনে আনার দাবি তুলেছেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে সেই দিনের ঘটনার বিস্তারিত এবং কেন তিনি মনে করছেন বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি।

কী ঘটেছিল সেদিন! justice for Rahul demand
গত ২৯ মার্চ তালসারির সমুদ্রতীরবর্তী এলাকায় ‘ভোলে বাবা, পার করেগা’ ধারাবাহিকের একটি দৃশ্যের শুটিং করতে গিয়ে হঠাৎ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। তখন তিনি এবং অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্য়োপাধ্য়ায় দুজনেই সমুদ্রের জলে পড়ে যান। শ্বেতা জানান, ঢেউ তখন বেশ প্রবল ছিল এবং তিনি নিজেও জলে পড়ে ভীষণভাবে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, কয়েক মুহূর্তের জন্য তিনি বুঝতেই পারেননি কী হচ্ছে। জলে পড়ে তিনি দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন এবং নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা করছিলেন।
শ্বেতার কথায়, ইউনিটের কিছু সদস্য এবং স্থানীয় লোকজন তাঁদের দেখতে পেয়ে দ্রুত উদ্ধার করতে এগিয়ে আসেন। তাঁদের চেষ্টাতেই তিনি জলের বাইরে আসতে পারেন। তবে সেই সময় রাহুল কোথায় ছিলেন বা তিনি কী অবস্থায় ছিলেন, তা স্পষ্টভাবে কেউ বুঝতে পারেননি। তিনি বলেন, “আমি নিজেই তখন বাঁচার জন্য লড়ছিলাম। পরে যখন উঠে আসি, তখন জানতে পারি রাহুলদাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।”

মানসিক ভেঙে পড়েন শ্বেতা
এই ঘটনার পর শ্বেতা গভীর মানসিক আঘাত পান। তিনি জানান, ওই ঘটনার স্মৃতি এখনও তাঁর মনে তীব্রভাবে ফিরে আসে। তিনি বলেন, ঘটনার পর তিনি এতটাই শকে ছিলেন যে কিছুক্ষণ ঠিকভাবে কথা বলতেও পারেননি। বারবার তাঁর মনে হচ্ছিল—এই ঘটনাটা যেন দুঃস্বপ্ন। শ্বেতার কথায়, “আমি এখনও বিশ্বাস করতে পারছি না রাহুলদা আর নেই। সবকিছু খুব দ্রুত ঘটে গেছে।”
কিছুদিন চুপ থাকার পর এবার শ্বেতার দাবি, শ্যুটিংয়ের সময় যথেষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল কি না সমুদ্রের মতো ঝুঁকিপূর্ণ জায়গায় শ্যুটিংয়ের আগে সুরক্ষা ব্যবস্থা ঠিকভাবে নেওয়া হয়েছিল কিনা, উদ্ধারকাজে কোনও গাফিলতি ছিল কিনা এই প্রশ্নগুলোর উত্তর পাওয়া দরকার। তিনি বলেন, “আমি শুধু চাই সত্যিটা সামনে আসুক। যদি কোথাও ভুল হয়ে থাকে, তার বিচার হোক। আমি কোনোদিনই অন্যায়ের সঙ্গে আপোশ করিনি, বরাবর সত্যকে প্রাধান্য দিয়েছি।”
সোশ্যাল মিডিয়ায় আবেগঘন পোস্ট
ঘটনার কয়েকদিন পর শ্বেতা সোশ্যাল মিডিয়ায় রাহুলের সঙ্গে একটি ছবি পোস্ট করেন। সেখানে তিনি আবেগঘন বার্তা লিখে বলেন, রাহুলকে তিনি একজন ভালো মানুষ এবং সহকর্মী হিসেবে মনে রাখবেন। একইসঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, এই ঘটনার প্রকৃত কারণ সামনে আসা জরুরি।
শ্বেতার এই বক্তব্য সামনে আসার পর আবারও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। টলিউডের অনেকেই মনে করছেন, সমুদ্রতীরে শ্যুটিংয়ের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা আরও কড়া হওয়া উচিত ছিল। এখন প্রশ্ন উঠছে— রাহুলের মৃত্যুর ঘটনায় সত্যিই কি কোনও গাফিলতি ছিল, নাকি এটি নিছক দুর্ঘটনা? সেই উত্তরই এখন খুঁজছে পরিবার, সহকর্মী এবং দর্শকরা।
ফোরামের কর্মবিরতির নোটিশ শেয়ার
রবিবার সন্ধের বৈঠকে আর্টিস্ট ফোরাম এবং ফেডারেশনের তরফে শিল্পী ও কলাকুশলীদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে আগামী মঙ্গলবার অর্থাৎ ৭ এপ্রিল থেকে শুটিং বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ফোরামের কর্মবিরতির নোটিশ নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে শেয়ার করে শ্বেতা মিশ্র রাহুলের মৃত্যুর বিচারের দাবিতে বাকিদেরও শামিল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এখন নজর সেদিকেই— সত্য সামনে এসে প্রকৃত দোষীরা শাস্তি পায়, নাকি প্রতিবারের মতো তৃণমূল সরকারের প্রভাবেই আসল অপরাধীরা আড়ালেই থেকে যায়।

