Rudranil Ghosh viral video
Bengal liberty desk, kolkata:
ভোটের লড়াই মানেই কি কেবল তিক্ততা আর আক্রমণ? না কি রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠেও সৌজন্যের ভাষা শেখানো যায়? শিবপুরের বিজেপি প্রার্থী রুদ্রনীল ঘোষ সম্ভবত দ্বিতীয় পথটিকেই বেছে নিলেন Rudranil Ghosh viral video। বৃহস্পতিবার প্রচারের ময়দানে তৃণমূল কর্মীর ‘ জয় বাংলা ‘ স্লোগান শুনে মেজাজ না হারিয়ে তাঁকে সজোরে জড়িয়ে ধরে চুমু খেলেন রুদ্রনীল। ভোট-প্রচারের মাঝে এমন অভাবনীয় এবং বিরল দৃশ্য দেখে তাজ্জব উপস্থিত সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।

ঠিক কী ঘটেছিল? Rudranil Ghosh viral video
বৃহস্পতিবার শিবপুর বিধানসভা কেন্দ্রের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ডব্লু রোড এলাকায় দলীয় কর্মীদের নিয়ে জনসংযোগ করছিলেন বিজেপি প্রার্থী রুদ্রনীল ঘোষ। ঠিক সেই সময় তাঁর প্রচারের একদম সামনে দাঁড়িয়ে এক তৃণমূল সমর্থক ও আইএনটিটিইউসি নেতা শক্তি দেবনাথ হাত উঁচিয়ে ‘জয় বাংলা’, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জিন্দাবাদ’ ও ‘অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জিন্দাবাদ’ স্লোগান দিতে শুরু করেন। সাধারণত এমন পরিস্থিতিতে দু-পক্ষের মধ্যে বচসা বা উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় ঘটে, কিন্তু রুদ্রনীল হাসিমুখে সেই তৃণমূল কর্মীর দিকে এগিয়ে যান। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তাঁকে জড়িয়ে ধরে গালে চুমু খেতে শুরু করেন তিনি।
অভাবনীয় এক মুহূর্ত:
বিজেপি প্রার্থীর এই ‘ম্যাজিক জাদুকি ঝপ্পি’ দেখে থতমত খেয়ে যান ওই তৃণমূল সমর্থকও। রুদ্রনীল যে এভাবে ভালোবাসার অস্ত্র দিয়ে তাঁর স্লোগান থামিয়ে দেবেন, তা হয়তো কারও কল্পনাতেই ছিল না। এই অভাবনীয় পরিস্থিতির ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড়ের গতিতে ভাইরাল হয়েছে। অনেকেই বলছেন, রুদ্রনীল এখানে অভিনেতা হিসেবে নয়, বরং একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদের মতো পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নিয়েছেন।
রুদ্রনীলের প্রতিক্রিয়া:
এই অদ্ভুত কাণ্ড ঘটিয়ে রুদ্রনীল ঘোষ বলেন, “এলাকার এক ভাই জয় বাংলা বলেছিল। আমার এলাকার ভাই, তাই ওকে জড়িয়ে ধরে চুমু খেয়েছি। ভালোবাসা থাকলে সব স্লোগানই সুন্দর।” যদিও তৃণমূল নেতার দাবি, জয় বাংলা শুনে রুদ্রনীল ‘মানসিকভাবে অস্থির’ হয়ে গিয়ে তাঁর সাথে ধস্তাধস্তি করেছেন। তবে ভাইরাল ভিডিও বলছে অন্য কথা।
শিবপুরের ঘরের ছেলে বলে পরিচিত বিজেপি নেতা রুদ্রনীল ঘোষ বুঝিয়ে দিলেন, ভোটের ময়দান যুদ্ধের ক্ষেত্র হলেও সেখানে সৌজন্য আর ভালোবাসার জায়গা ফুরিয়ে যায়নি। যেখানে গালি আর গুলির খবর রোজ শিরোনামে আসে, সেখানে রুদ্রনীলের এই ‘চুমু-কাণ্ড’ এক অন্য ঘরানার রাজনীতির সাক্ষী হয়ে রইল।
