West Bengal election
Bengal Liberty, Kolkata:
এবারের ভোট যেন এক পূর্ণাঙ্গ ‘অপারেশন’ West Bengal election। অতীতের অভিজ্ঞতা, রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং সম্ভাব্য অশান্তির আশঙ্কাকে সামনে রেখে পশ্চিমবঙ্গকে কার্যত এক অদৃশ্য সুরক্ষা বলয়ে মুড়ে ফেলেছে নির্বাচন কমিশন। সেই কারণেই গোটা রাজ্যের প্রতিটি বুথ অর্থাৎ ১০০ শতাংশ ভোটকেন্দ্রকেই সংবেদনশীল হিসেবে ধরে পরিকল্পনা করছে কমিশন। যা আগে কখনও এত বিস্তৃতভাবে দেখা যায়নি। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই সিদ্ধান্তই প্রমাণ করছে যে এবারের নির্বাচনকে ঘিরে কমিশন কতটা সতর্ক অবস্থান নিয়েছে এই মুহুর্তে।

‘একই মাপকাঠি’ নীতি West Bengal election
যতটুকু জানা গেছে কমিশনের নতুন কৌশলে বড় পরিবর্তন হল কোনও বুথকে আর ‘নিরাপদ’ ধরে নেওয়া হচ্ছে না। প্রতিটি কেন্দ্রেই সমান গুরুত্ব দিয়ে নজরদারি চালানো হবে। তবে তার মধ্যেই বিশেষভাবে চিহ্নিত করা হচ্ছে অতিসংবেদনশীল ও উচ্চ উত্তেজনাপ্রবণ এলাকাগুলি। এই সমস্ত জায়গায় বাড়তি বাহিনী, নজরদারি এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

প্রতি ১০ বুথে কুইক রেসপন্স টিম West Bengal election
নিরাপত্তার ক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার এবার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। প্রতি ১০টি বুথের জন্য একটি করে কুইক রেসপন্স টিম (QRT) মোতায়েন করা হচ্ছে, যাতে কোনও ঘটনা ঘটলেই সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া যায়। এই টিমগুলির গাড়িতে লাগানো থাকবে ক্যামেরা, যার মাধ্যমে সরাসরি লাইভ ফিড যাবে কমিশনের কন্ট্রোল রুমে। ওয়েবকাস্টিংয়ের মাধ্যমে প্রতিটি বুথের পরিস্থিতি রিয়েল টাইমে পর্যবেক্ষণ করা হবে। ফলে কোথাও কোনও অশান্তির ইঙ্গিত মিললেই দ্রুত কেন্দ্রীয় বাহিনী বা প্রশাসনকে সক্রিয় করা সম্ভব হয়। এই নজরদারি ব্যবস্থাকে এবারের নির্বাচনের ‘গেম চেঞ্জার’ বলেই মনে করছেন অনেক বিশেষজ্ঞ।
মার্চ থেকেই মোতায়েন কেন্দ্রীয় বাহিনী West Bengal election
নির্বাচনের বহু আগেই রাজ্যে মোতায়েন করা হয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। মার্চ মাসের শুরু থেকেই বিভিন্ন জেলায় রুট মার্চ, ফ্ল্যাগ মার্চ এবং টহলদারি চালানো হচ্ছে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় অতীতে অশান্তির নজির রয়েছে, সেখানে বাহিনীর উপস্থিতি আরও বাড়ানো হয়েছে।
ভোটের পরও নজরদারি West Bengal election
কমিশনের পরিকল্পনা শুধু ভোটের দিনেই সীমাবদ্ধ নয়। ফল ঘোষণার পরবর্তী সময়েও যাতে কোনও ধরনের হিংসা না ছড়ায়, তার জন্যও আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভোট মিটে যাওয়ার পরও রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন থাকবে। অতীতে ভোট পরবর্তী সংঘর্ষের অভিযোগ মাথায় রেখে এবারের এই পদক্ষেপকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। প্রয়োজনে স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে আরও বেশি বাহিনী পাঠানো হতে পারে।
মাঠে নেমে কড়া বার্তা সিইও West Bengal election
রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজকুমার আগরওয়াল ইতিমধ্যেই জেলায় জেলায় ঘুরে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছেন। বীরভূম-সহ একাধিক জেলায় প্রশাসনিক বৈঠক করে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের গাইডলাইনের বাইরে কোনও কাজ বরদাস্ত করা হবে না। ভোটগ্রহণ থেকে গণনা প্রতিটি ধাপেই স্বচ্ছতা বজায় রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে প্রশাসনকে। পাশাপাশি, নির্বাচনী আচরণবিধি ভাঙলে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে নিরাপত্তা, প্রযুক্তি, প্রশাসনিক নজরদারি এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর সমন্বয়ে এবারের নির্বাচনকে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইছে নির্বাচন কমিশন। ১০০% বুথে নজরদারি থেকে শুরু করে লাইভ ওয়েবকাস্টিং প্রতিটি পদক্ষেপই ইঙ্গিত দিচ্ছে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির। এখন দেখার, এত কড়া প্রস্তুতির পরও ভোটের দিন এবং তার পরবর্তী সময় কতটা শান্তিপূর্ণ থাকে। কারণ শেষ পর্যন্ত গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় পরীক্ষায় সফল হওয়াই কমিশনের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
