Yogi Adityanath
Bengal Liberty, ১১ এপ্রিল :
ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের আবহে গেরুয়া শিবিরের রণকৌশলে এবার যুক্ত হতে চলেছে নতুন এক গতি (Yogi Adityanath)। মোদি-শাহের ঝোড়ো সফরের পর বাংলার রাজনৈতিক অন্দরে এখন একটাই গুঞ্জন-কবে বাংলায় পা রাখছেন লখনউয়ের সেই ‘ফায়ারব্র্যান্ড’ নেতা যোগী আদিত্যনাথ? যাঁর একেকটি সভা মানেই হিন্দুত্বের জয়ধ্বনি আর বিরোধীদের প্রতি কড়া হুঙ্কার। তবে প্রশ্ন একটাই, উত্তরপ্রদেশের সেই কঠোর প্রশাসনিক মডেল কি বাংলার ভোটের ময়দানেও তুরুপের তাস হয়ে উঠবে? আপাতত এক ডজন কর্মসূচির নীল নকশা হাতে নিয়ে এই হাই-ভোল্টেজ নেতার অপেক্ষায় প্রহর গুনছে পদ্ম শিবির। তবে অপেক্ষার আর বেশি দেরি না, কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ঝড়ো হাওয়া নিয়ে বঙ্গে আসতে চলেছেন যোগী (Yogi Adityanath)।

বঙ্গে যোগী-ঝড়ের সূচনা (Yogi Adityanath)
দলীয় সূচি অনুযায়ী, আগামী রবিবার থেকেই বঙ্গের ময়দানে নামছেন যোগী আদিত্যনাথ। প্রথম দিনেই বাঁকুড়ার পাত্রসায়ের এবং পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথিতে তাঁর দুটি হাই-ভোল্টেজ জনসভা করার কথা রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাঁকুড়া ও মেদিনীপুরের মতো এলাকায় যেখানে ধর্মীয় ও জাতিগত সমীকরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, সেখানে প্রচারের শুরুতে যোগীর এই উপস্থিতি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। দলীয় সূত্রের খবর, পরিস্থিতি ও চাহিদার নিরিখে আগামীতে রাজ্যে তাঁর কর্মসূচির সংখ্যা আরও বাড়ানো হতে পারে।

হিন্দুত্বের আইকন যোগী আদিত্যনাথ (Yogi Adityanath)
বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের কাছে যোগী আদিত্যনাথ কেবল একজন মুখ্যমন্ত্রী নন, বরং কট্টর হিন্দুত্বের এক শক্তিশালী আইকন। উত্তরপ্রদেশে অপরাধ দমনে তাঁর কড়া হিন্দুত্বের সওয়াল তাঁকে জাতীয় স্তরে এক আলাদা পরিচিতি দিয়েছে। বাংলায় শাসকদল তৃণমূলের বিরুদ্ধে ‘দুর্নীতি’ ও ‘তোষণ’-এর যে অভিযোগ বিজেপি লাগাতার তুলে আসছে, যোগীর চড়া সুরের আক্রমণ তাতে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলেই মনে করছে পদ্ম-শিবির। বাংলায় মেরুকরণের রাজনীতিতে যোগীর এই স্পষ্ট ও জোরালো বক্তব্য হিন্দু ভোটব্যাঙ্ককে সংহত করার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রধান অস্ত্র হতে চলেছে।

পর্যবেক্ষকদের মতে, বাংলায় পদ্ম ব্রিগেডের প্রচারে যোগীর এই এন্ট্রি নিচুতলার কর্মীদের মানসিকভাবে অনেকটাই চাঙ্গা করবে। উত্তরপ্রদেশের ‘সুশাসন’-এর মডেলের উদাহরণ টেনে তিনি বাংলার মানুষের কাছে ঠিক কী বিকল্প তুলে ধরেন এবং লখনউ থেকে সরাসরি বাংলার জনসভায় পা রেখে তাঁর প্রথম বার্তা কী হয়, সেদিকেই এখন তীক্ষ্ণ নজর রাখছে রাজনৈতিক মহল। তাঁর এই এক ডজন হাই-ভোল্টেজ কর্মসূচি ছাব্বিশের বিধানসভার ফলাফল নির্ধারণে কতটা নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা রাজ্য।
