Noida Workers Protest
Bengal Liberty, ১৩ এপ্রিল :
এবার অগ্নিগর্ভ উত্তরপ্রদেশের নয়ডা। সোমবার শ্রমিক আন্দোলনের জেরে উত্তাল হয়ে উঠল গোটা নয়ডা (Noida Workers Protest)। বেতন বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিক সংগঠনের তিনদিনের আন্দোলনের শেষ দিনেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। বিক্ষোভ ঘিরে শুরু হয় ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগের ঘটনা এবং পথ অবরোধ। যার জেরে কার্যত স্তব্ধ হয়ে পড়ে দিল্লির এই গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল। এই প্রতিরোধের জেরে ডিএনডি ফ্লাইওয়ে ও চিল্লা বর্ডারে তৈরি হয়েছে চরম বিশৃঙ্খলা, কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটে আটকে পড়েন হাজার হাজার নিত্যযাত্রী (Noida Workers Protest)।

উত্তেজনা থেকে হিংসা (Noida Workers Protest)
সোমবার সকাল থেকেই নয়ডার ফেজ-২ এলাকা, বিশেষত সেক্টর ১ ও ৮৪ ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বেতন বৃদ্ধির দাবিতে বিপুল সংখ্যক শ্রমিক রাস্তায় নেমে স্লোগান দিতে শুরু করে। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত আকার নেয়। সেক্টর ৫৯ ও ৬০-এ বিক্ষোভ চরম হিংসাত্মক রূপ ধারণ করে। অভিযোগ, আন্দোলনকারীরা একাধিক গাড়ি ভাঙচুর করেন এবং অন্তত দুটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বিশাল পুলিশ বাহিনী। তবে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় শেষপর্যন্ত পুলিশ কিছুটা লাঠিচার্জ করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে। এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে প্রভিন্সিয়াল আর্মড কনস্ট্যাবুলারি ও র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স।

চরম দুর্ভোগে নিত্যযাত্রীরা (Noida Workers Protest)
আন্দোলনের সরাসরি প্রভাব পড়ে যান চলাচলে। দিল্লি ও নয়ডার মধ্যে সংযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ ডিএনডি ফ্লাইওয়েতে কয়েক ঘণ্টা কার্যত থমকে যায় ট্রাফিক। অফিস টাইমে এই অবরোধের জেরে কয়েক কিলোমিটার জুড়ে গাড়ির দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়। দিল্লি ট্রাফিক পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, চিল্লা বর্ডারে নয়ডা লিঙ্ক রোড সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে দিল্লি থেকে নয়ডার দিকে যাতায়াতকারী হাজার হাজার মানুষকে চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়েছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তৎপর প্রশাসন (Noida Workers Protest)
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নয়ডা কর্তৃপক্ষ দ্রুত একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের আয়োজন করে। সেখানে শ্রমিকদের স্বার্থরক্ষা, ওভারটাইমে দ্বিগুণ মজুরি, বোনাস এবং কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা-এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। গৌতম বুদ্ধ নগরের জেলাশাসক মেধা রূপম জানিয়েছেন, শ্রমিকদের অভিযোগ শোনার জন্য চালু করা হয়েছে বিশেষ কন্ট্রোল রুম ও হেল্পলাইন নম্বর। পাশাপাশি গোটা শিল্পাঞ্চলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ ও প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকরা সার্বিক পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছেন।
