IT Raid Debasish Kumar
Bengal Liberty, ১৭ এপ্রিল :
ভোট যত ঘনিয়ে আসছে, ততই রাজ্য রাজনীতিতে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলির তৎপরতা বিশেষ ভাবে বাড়ছে। আজ, শুক্রবার ভোরে দক্ষিণ কলকাতার রাসবিহারী বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী দেবাশিস কুমারের বাড়িতে আয়কর দফতর হানা দিল (IT Raid Debasish Kumar)। ইডির জিজ্ঞাসাবাদের পর এবার সরাসরি আয়কর হানা রাসবিহারীর তৃণমূল প্রার্থীর বাড়িতে। তাঁর মনোহরপুকুর রোডের বাসভবন ও নির্বাচনী কার্যালয়ে একযোগে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। কড়া নিরাপত্তার মধ্যে গোটা অভিযান চলছে। দুই জায়গাতেই মোতায়েন করা হয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিপুল সংখ্যক জওয়ান। রাজধানী কলকাতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও হাই-প্রোফাইল আসনে প্রার্থীর বাড়িতে এই তল্লাশি ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাপানউতোর শুরু হয়েছে। আয়কর দফতরের হঠাৎ হানা আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে নির্বাচনী আবহ (IT Raid Debasish Kumar)।

ইডির পর আয়কর হানা, কারণ কী? (IT Raid Debasish Kumar)
সম্প্রতি জমি দখল সংক্রান্ত একটি মামলায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED) একাধিকবার তলব করেছিল তৃণমূল প্রার্থী দেবাশিস কুমারকে। এপ্রিলের ১ থেকে ৯ তারিখের মধ্যে অন্তত তিনবার তাঁকে সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরা দিতে হয় এবং দীর্ঘ সময় ধরে জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হয় তৃণমূল প্রার্থীকে। সেই পর্ব কাটতে না কাটতেই এবার আয়কর দফতরের হানা। সব মিলিয়ে চাপ আরও বাড়ল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
যদিও আয়কর দফতরের পক্ষ থেকে তল্লাশির নির্দিষ্ট কারণ জানানো হয়নি, প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে প্রার্থীর আয় ও ব্যয়ের অসঙ্গতি খতিয়ে দেখতেই এই অভিযান। নির্বাচনী কার্যালয় ও ব্যক্তিগত নথিপত্র খতিয়ে দেখে আর্থিক লেনদেনের কোনও অসঙ্গতি বা গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ পাওয়া যায় কি না, তা খুঁজে দেখছেন তদন্তকারীরা।

কতোটা চাপে দেবাশিস কুমার? (IT Raid Debasish Kumar)
ইডির তলব প্রসঙ্গে আগেই প্রতিক্রিয়া জানালেও আয়কর দফতরের এই হানা নিয়ে এখনও নীরব রয়েছেন দেবাশিস কুমার। সিজিও কমপ্লেক্স থেকে বেরিয়ে আগেরবার তিনি সংক্ষিপ্তভাবে বলেছিলেন, “যা বলার দল বলবে।” পাশাপাশি, কেন্দ্রীয় সংস্থার এই ধরনের পদক্ষেপ নির্বাচনে কোনও প্রভাব ফেলবে না বলেও একাধিকবার দাবি করেছেন তিনি। দেবাশিস কুমার জানান, ” আমার বিধানসভায় যা ফলাফল হওয়ার তাই হবে।” অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, বিজেপি সরাসরি রাজনৈতিক লড়াইয়ে সুবিধা করতে না পেরে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলিকে ব্যবহার করে প্রার্থীদের উপর চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। তবে একেবারে ভোটের মুখে এই কেন্দ্রীয় অভিযান আসন্ন নির্বাচনের ফলাফলে আদৌ প্রভাব ফেলবে কিনা সেটাই দেখার।
