Santanu sinha Biswas
নিজস্ব সংবাদদাতা, কান্দি:
মাত্র চার দিন আগেই টানা ১৪ ঘণ্টার ম্যারাথন তল্লাশির পর সিল করে দেওয়া হয়েছিল বাড়ি (Santanu Sinha Biswas)। মঙ্গলবার সকালে ফের সেই সিল খুলে মুর্শিদাবাদের কান্দি পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের জেমো বিশ্বাসপাড়ায় ডিসি শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের বিলাসবহুল আবাসনে পুনরায় তল্লাশি চালাল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। সকাল ১১টা নাগাদ কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া নিরাপত্তার মধ্যে তদন্তকারী আধিকারিকদের একটি দল সেখানে পৌঁছতেই এলাকায় নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, আগের দফার তল্লাশিতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি, আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত তথ্য এবং একাধিক ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণ হাতে পেয়েছিলেন তদন্তকারীরা। সেই সূত্র ধরেই দ্বিতীয় দফায় আরও গভীর অনুসন্ধানে নেমেছে ইডি। মঙ্গলবার সকাল থেকেই বাড়ির বিভিন্ন ঘর, নথিপত্র সংরক্ষণের জায়গা এবং অন্যান্য অংশ খুঁটিয়ে পরীক্ষা করতে দেখা যায় আধিকারিকদের।

৪ বিঘা জমিতে আড়াই কোটির ‘রাজপ্রাসাদ’ Santanu Sinha Biswas
তদন্তকারী সংস্থার প্রাথমিক অনুমান, বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেন এবং সম্পত্তি নির্মাণের সঙ্গে একাধিক আর্থিক অসঙ্গতি জড়িয়ে থাকতে পারে। সূত্রের দাবি, প্রায় চার বিঘা জমির ওপর নির্মিত এই বিলাসবহুল বাড়িটি তৈরি করতে আনুমানিক আড়াই কোটি টাকার বেশি খরচ হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ওই বিপুল অঙ্কের অর্থ এক ঠিকাদারের মাধ্যমে ব্যাঙ্কিং চ্যানেলে লেনদেন করা হয়েছিল। সেই আর্থিক যোগসূত্র, টাকার উৎস এবং সম্ভাব্য বেনামি বিনিয়োগের দিকগুলি খতিয়ে দেখতেই ফের তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে।
এদিন বাড়ির বাইরে সকাল থেকেই উৎসাহী স্থানীয় বাসিন্দাদের ভিড় জমতে দেখা যায়। কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া নিরাপত্তার কারণে এলাকায় কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিও তৈরি হয়। যদিও তদন্তকারীরা পুরো বিষয়টি নিয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছেন। ইডির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো না হলেও তদন্তের অগ্রগতি এবং উদ্ধার হওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই এই দ্বিতীয় দফার অভিযান বলে মনে করা হচ্ছে।

কান্দিতে ফের ইডি অ্যাকশন
উল্লেখ্য, কয়েক দিন আগেই প্রথম দফার তল্লাশিতে দীর্ঘ সময় ধরে বাড়ির ভেতরে নথি খতিয়ে দেখেন ইডির আধিকারিকরা। পরে বাড়িটি সিল করে দেওয়া হয় এবং নিরাপত্তার স্বার্থে নজরদারি জোরদার করা হয়। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার উপস্থিতিতে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে কান্দির জেমো বিশ্বাসপাড়া।
রাজনৈতিক মহলও গোটা ঘটনাপ্রবাহের দিকে নজর রাখছে। বিরোধীদের একাংশের দাবি, রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় দুর্নীতি এবং আর্থিক অনিয়ম সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগের তদন্তে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি এখন আরও সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছে। যদিও এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত শান্তনু সিনহা বিশ্বাস বা তাঁর পরিবারের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
বর্তমানে ইডির তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তদন্তের স্বার্থে আরও নথি বাজেয়াপ্ত করা হতে পারে বলেও সূত্রের খবর। কান্দির এই ঘটনায় রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।

