Berhampore News
Bengal Liberty, ৩০ মে :
পূর্বতন তৃণমূল জমানার আমলে তৈরি হওয়া অবৈধ দোকানঘর ভেঙে গুঁড়িয়ে দিতে সকাল সকাল বহরমপুরে চলল প্রশাসনের বুলডোজার(Berhampore News)। বহরমপুর পুরসভার ২১ নম্বর ওয়ার্ডের এই উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে শোরগোল পড়ে গিয়েছে এলাকায়। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা অভিযোগের পর, অবশেষে প্রশাসনের এই কড়া পদক্ষেপকে ঘিরে নতুন করে তপ্ত মুর্শিদাবাদের রাজনৈতিক মহল (Berhampore News)।
ক্ষমতার আস্ফালনে অবৈধ নির্মাণ: (Berhampore News)

স্থানীয় সূত্রে খবর, তৎকালীন তৃণমূল জমানায় বহরমপুর পুরসভার ২১ নম্বর ওয়ার্ডে বেশ কিছু অবৈধ দোকানঘর নির্মাণ করা হয়েছিল। অভিযোগ, তৎকালীন পুরবোর্ডের মদতেই ক্ষমতার আস্ফালনে এই নির্মাণকাজ চলে এবং পরবর্তীতে মোটা টাকার বিনিময়ে তা বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়। প্রথম থেকেই এই বেনিয়মের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিল বিরোধী দলগুলি। কিন্তু তৃণমূলের ‘গা জোয়ারি’র কারণে প্রশাসন এতদিন কোনও পদক্ষেপ করতে পারেনি বলেই অভিযোগ। অবশেষে এদিন সকালে বিশাল পুলিশবাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে পুরসভা ও মহকুমা প্রশাসনের কর্তারা বুলডোজার দিয়ে ওই অবৈধ দোকানগুলি ভেঙে ফেলেন।এই উচ্ছেদ অভিযান প্রসঙ্গে বর্তমান শাসক দলের স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক কাঞ্চন মৈত্র বলেন, ‘‘তৃণমূল পরিচালিত পুরসভা সম্পূর্ণ অবৈধভাবে এবং মোটা অঙ্কের কাটমানি খেয়ে এই দোকানগুলি তৈরি করে বিক্রি করেছিল (Berhampore Bulldozer)। এতদিন এ রাজ্যে প্রশাসন বলে আদতে কিছু ছিল না। এখন রাজ্যে বিজেপির আমলে আইন-শৃঙ্খলা ও প্রকৃত প্রশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। প্রশাসন নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে পারছে বলেই এই অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করা সম্ভব হল। আজকের এই বুলডোজার অভিযান (Bulldozer Action) তারই ফলশ্রুতি।’’
অবৈধ নির্মাণের বদলে কাটমানি:
যদিও কাটমানি নেওয়ার এই মারাত্মক অভিযোগ সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়েছেন বহরমপুর পুরসভার চেয়ারম্যান নাড়ুগোপাল মুখোপাধ্যায়। আত্মপক্ষ সমর্থন করে তিনি বলেন, ‘‘যদি কোনও নির্মাণ নিয়ম বহির্ভূত বা অবৈধ হয়ে থাকে, তবে আইন সর্বদা আইনের পথেই চলবে। প্রশাসন তার নিজের নিয়মে কাজ করছে। তবে পুরসভার চেয়ারম্যান হিসেবে আমি এটুকু দায়িত্ব নিয়ে বলতে পারি, এখানে কোনও কাটমানি নেওয়া বা অন্য কোনও দুর্নীতির গল্প নেই (Berhampore News)। বিরোধীদের এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।’’ উচ্ছেদ ঘিরে দিনভর বহরমপুরের রাজনৈতিক পারদ রইল ঊর্ধ্বমুখী।

