Dum Dum hawker eviction
Bengal Liberty, ৩০ মে, দমদম: রাজ্যে প্রশাসনিক পালাবদলের পর হাওড়া ও শিয়ালদহ স্টেশনের মতো এবার দমদম জংশন স্টেশনেও শুরু হলো হকার উচ্ছেদ অভিযান। শনিবার গভীর রাতে দমদম স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম ও সংলগ্ন উড়ালপুলের নীচে থাকা বেআইনি দোকানগুলি ভাঙতে নামানো হয় বুলডোজার। এই উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে মধ্যরাতে দমদম স্টেশন চত্বরে তুমুল উত্তেজনা ও হট্টগোলের সৃষ্টি হয়।
মধ্যরাতে স্টেশন চত্বরে উত্তেজনা, পুলিশের লাঠিচার্জের অভিযোগ (Dum Dum hawker eviction)
রেল কর্তৃপক্ষ ও বিশাল পুলিশ বাহিনী শনিবার গভীর রাতে বুলডোজার নিয়ে দমদম স্টেশনে পৌঁছায়। প্রথমে মাইকিং করে হকারদের এলাকা খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু জীবিকা হারানোর আশঙ্কায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও হকাররা। দোকান ভাঙা রুখতে হকার্স ইউনিয়নের সদস্য এবং বামপন্থী নেতৃত্ব প্ল্যাটফর্মে বসে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দিতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে বলে অভিযোগ ওঠে। বিশাল পুলিশ বাহিনী ও রেল পুলিশ (GRP) গোটা এলাকা ঘিরে রেখে শেষ পর্যন্ত উচ্ছেদ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে।

পুনর্বাসন ছাড়াই উচ্ছেদের অভিযোগ বামেদের (Dum Dum hawker eviction)
উচ্ছেদ অভিযানের প্রতিবাদে রাতেই সরব হন বাম নেতৃত্ব। দমদম কেন্দ্রের সিপিএম প্রার্থী ময়ূখ বিশ্বাস ঘটনাস্থল থেকে ফেসবুক লাইভ করেন। বামেদের অভিযোগ, উত্তরপাড়া-সহ রাজ্যের আরও কয়েকটি এলাকায় শনিবার রাতে একই ধরনের উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে। ব্যবসায়ীদের একাংশের দাবি, কোনও বিকল্প পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করেই মাত্র এক-দু’দিনের নোটিসে গভীর রাতে তাঁদের দোকানপাট গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে বহু পরিবারের জীবিকা রাতারাতি অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

রেল কর্তৃপক্ষের পাল্টা দাবি (Dum Dum hawker eviction)
রেল আধিকারিকদের দাবি, দমদম স্টেশন চত্বরে দীর্ঘদিন ধরে বেআইনিভাবে প্ল্যাটফর্ম ও সংলগ্ন রাস্তার অংশ দখল করে দোকান চালানো হচ্ছিল। এর ফলে স্টেশনের পরিসর সংকুচিত হয়ে পড়ে এবং নিত্যযাত্রীদের চলাচলে ব্যাপক সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছিল। রেলের তরফে জানানো হয়েছে, উচ্ছেদ অভিযানের আগে হকারদের লিখিত নোটিস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেও এলাকা খালি না করায় প্রশাসন এই পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে।

রেল প্রশাসনের একাংশের অভিযোগ, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে শ্রমিক সংগঠনগুলির মদতের কারণে বহুবার চেষ্টা করেও বেআইনি দখলদারদের সরানো সম্ভব হয়নি। তবে সরকার পরিবর্তনের কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এবার প্রশাসন কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
রেল সূত্রে ইঙ্গিত, যাত্রীস্বাচ্ছন্দ্য ও নিরাপত্তার স্বার্থে আগামী দিনেও স্টেশন চত্বরকে বেআইনি দখলমুক্ত করতে এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

