Subhankar Sarkar
Bengal Liberty: সোনারপুরে অভিষেকের ওপর হামলার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ফোন করেছিলেন রাহুল-সোনিয়া গান্ধিকে। গতকাল রাতে মমতা সেটা স্বীকারও করে নেন। সেই ফুটেজ দেখে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে সক্রিয় প্রমাণ করতে অভিষেকের পাশে দাঁড়ালেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার।

সোনিয়া-রাহুলের কাছে ভালো ছেলে হতে তেল দিলেন শুভঙ্কর (Subhankar Sarkar)
অভিষেক-কাণ্ডে রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুললেন তিনি। এক বিবৃতির মাধ্যমে তিনি অভিযোগ করেছেন― ‘‘একজন সাংসদের ওপর হামলা হয়েছে। তাও, পুলিশ-প্রশাসন সময় মতো কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে।’’ সমালোচকদের মতে, শুভঙ্করবাবু ভুলে গিয়েছেন যে― ২৪ ঘণ্টা কাটতে না-কাটতে বেশ কয়েকজন অভিযুক্তকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। আর, প্রত্যেকেই তৃণমূল করেন। লাভলী মৈত্রের সহকর্মী ছিলেন তারা। অর্থাৎ, ঘটনার নেপথ্যেও তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে আসছে। বিষয়গুলো শুভঙ্করবাবু জানেন কি-না, সেটা বিরোধীদের জানা নেই। তাও, সোনিয়া, রাহুলের সঙ্গে যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথা হয়েছে, তখন তো শুভঙ্করবাবুকে তো অভিষেকের পক্ষে গিয়ে কথা বলতেই হবে। তাই প্রেস বিবৃতিতে তিনি লিখছেন, ‘‘গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় প্রতিবাদ এবং ভিন্নমত স্বাভাবিক হলেও তা কখনও হিংসাত্মক রূপ নিতে পারে না। প্রশাসন যদি জনতার হিংস্র আচরণ নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়, তবে তা ভবিষ্যতে আরও বিপজ্জনক পরিস্থিতির জন্ম দিতে পারে। আজ একজন রাজনৈতিক নেতার উপর আক্রমণ হয়েছে, আগামী দিনে একই ধরনের ঘটনার শিকার অন্য কেউ হতে পারেন।’’
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অতীতে বিভিন্ন অভিযোগ ওঠা সত্ত্বেও রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরও কেন তাঁর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, সেই প্রশ্নও এদিন তোলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি।
নতুন সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ, বিশেষ করে উচ্ছেদ অভিযান ও পুনর্বাসন সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে আগে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন শুভঙ্কর সরকার (Subhankar Sarkar)। এবার বিজেপির বিরোধিতা করতে গিয়ে গুন্ডাদের মালিক রক্তচোষা প্যারাশুট ভাইপোর পাশে দাঁড়ানোর ঘটনাটা জনতার কাছে কতটা গ্রহণযোগ্য, তা-নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। কারণ, এই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কয়লা, গরু, বলি, মাটি-সহ সব চুরির সঙ্গে যুক্ত বলে অভিযোগ উঠেছে। জাহাঙ্গীর, শাহজাহানের মতো গুন্ডাদের পুষেছিলেন অভিষেক। কত মায়ের কোল খালি হওয়ার নেপথ্যে দায়ী এই ভাইপো-রাজনীতি। সেগুলোর জেরে আজ অভিষেককে আক্রান্ত হতে হ’ল। আর, শুভঙ্কর সরকার বাণী দিচ্ছেন? তৃণমূল আমলে ভাইপো সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে শুভঙ্কর সরকারের প্রতিবাদ কতগুলো ছিল, সেটা গুনে বলা যায়!
ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানিয়ে শুভঙ্কর সরকার লিখছেন, আইনের চোখে সকলেই সমান। পুলিশের কাজ রাজনৈতিক পরিচয় দেখে নয়, আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া।
উল্লেখ্য, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলার ঘটনার পর কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধিকে ফোন করে উদ্বেগ প্রকাশ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেটা দেখেই শুভঙ্করের ভাইপো প্রীতি প্রকাশ্যে।
আরও পড়ুন: ফের হরমুজে উত্তেজনা! ইরানের মালবাহী জাহাজে মার্কিন হামলার অভিযোগ

