Iran-US Tensions
Bengal Liberty, ৩১ মে ২০২৬:ফের মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নতুন মোড় নিয়েছে। দিন যত এগোচ্ছে, ততই যুদ্ধের উত্তাপ বাড়ছে। পরিস্থিতি এমন জটিল ও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে যে, সংকটের সমাধান আপাতত অধরাই বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। জাহাজ চলাচল, কর আরোপ এবং সামরিক পদক্ষেপ—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি ক্রমশ অস্থির হয়ে উঠছে। এবার সেই উত্তেজনা আরও এক ধাপ বেড়েছে বলে জানা গিয়েছে।

মার্কিন হামলার অভিযোগ ( Iran-US Tensions)
মার্কিন বাহিনীর দাবি, ইরানের দিকে অগ্রসর হওয়া একটি মালবাহী জাহাজকে একাধিকবার সতর্ক করা সত্ত্বেও সেটি নির্দেশ অমান্য করে এগিয়ে যাচ্ছিল। এরপর জাহাজটিকে লক্ষ্য করে হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়।
মার্কিন সেনা সূত্রে জানা গিয়েছে, জাহাজটির নাম ‘লিয়ান স্টার’ এবং তাতে গাম্বিয়ার পতাকা ছিল। তবে জাহাজটিতে কী ধরনের পণ্য বহন করা হচ্ছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
ওমান উপসাগর পেরিয়ে জাহাজটি ইরানের একটি বন্দরের দিকে এগোচ্ছিল বলে অভিযোগ। সেই সময় মার্কিন সেন্টকম (CENTCOM)-এর নজরে আসে জাহাজটি। এরপর একাধিকবার সতর্কবার্তা পাঠানো হয় এবং ইরানের দিকে অগ্রসর না হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
মার্কিন সেনার দাবি, জাহাজটির ক্যাপ্টেনকে প্রায় ২০ বার সতর্ক করা হয়েছিল। কিন্তু সেই নির্দেশ উপেক্ষা করে জাহাজটি ধীরে ধীরে গন্তব্যের দিকে এগিয়ে যেতে থাকে। এরপরই হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। হামলায় জাহাজটির ইঞ্জিন রুম গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং সেটি কার্যত অচল হয়ে পড়ে।

বারবার হামলার ঘটনা ( Iran-US Tensions)
এপ্রিল মাসে ইরানের বন্দরকে ঘিরে উত্তেজনা বৃদ্ধির পর থেকে এ নিয়ে মোট সাতটি জাহাজ হামলার মুখে পড়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি ভারতীয় জাহাজও ছিল বলে জানা গিয়েছে।
এছাড়াও, মার্কিন সেনার দাবি অনুযায়ী, ১২০টিরও বেশি জাহাজকে তাদের নির্ধারিত গন্তব্য পরিবর্তন করতে বাধ্য করা হয়েছে।
একাধিক কূটনৈতিক বৈঠক, যুদ্ধের ভয়াবহতা, বিপুল প্রাণহানি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধি—সব মিলিয়ে ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে চলা এই সংঘাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। আদৌ কি এই যুদ্ধের কোনও সমাধান হবে, নাকি পরিস্থিতি আরও জটিল হবে—তা নিয়েই আন্তর্জাতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে।


