mamata vs suvendu
Bengal Liberty:
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে অনেকের মতে শাসকের নির্দেশই ছিল শেষ কথা (Suvendu Adhikari Administration)। কিন্তু পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে প্রশাসনের ভূমিকা যে ভিন্ন, তা সোনারপুরে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হেনস্থার ঘটনার পরবর্তী পদক্ষেপেই স্পষ্ট হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত।
শনিবার সোনারপুরে জনরোষের মুখে পড়েন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে পুলিশ। বর্তমানে রাজ্যের স্বরাষ্ট্র ও পুলিশ দফতরের দায়িত্বে রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ফলে বিরোধী দলের নেতার নিরাপত্তা ও ঘটনার তদন্তে প্রশাসনের দ্রুত তৎপরতা বিশেষভাবে নজর কেড়েছে।
অনেকের মতে, অতীতে রাজনৈতিক সংঘর্ষ বা বিরোধী নেতাদের উপর হামলার ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও, এবার অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ফলে রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে একটি ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন দেখা গিয়েছে বলে মত রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের।

বিগত ১৫ বছরের অভিজ্ঞতা Suvendu Adhikari Administration
গত পনেরো বছরে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের উপর হামলার একাধিক অভিযোগ উঠেছে। সেই সময়ে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিল বিরোধীরা।
কোচবিহারে তৎকালীন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী আক্রান্ত হওয়ার ঘটনাও রাজনৈতিক মহলে আলোচিত হয়েছিল। বিরোধীদের অভিযোগ ছিল, বহু ক্ষেত্রেই মূল অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ না নিয়ে উল্টে বিরোধী শিবিরের নেতা-কর্মীদেরই প্রশাসনিক চাপের মুখে পড়তে হয়েছে।
বর্তমান প্রশাসনের দাবি, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে কোনও রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা করা হবে না। সেই কারণেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হেনস্থার ঘটনায় দ্রুত তদন্ত চালিয়ে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হয়েছে।

আক্রান্তের দীর্ঘ তালিকা
বিগত বছরগুলিতে বিভিন্ন সময়ে বিরোধী রাজনৈতিক দলের একাধিক নেতা হামলা, হেনস্থা বা রাজনৈতিক সংঘর্ষের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সেই তালিকায় রয়েছেন আইএসএফ নেতা নওশাদ সিদ্দিকী, বামপন্থী নেতা ধীরেন লেট, গৌরাঙ্গ চট্টোপাধ্যায়, দেবলীনা হেমব্রম, বিজেপি নেতা জে. পি. নাড্ডা, কৈলাশ বিজয়বর্গীয়, দিলীপ ঘোষ, শমীক ভট্টাচার্য, মুকুল রায়, সুকান্ত মজুমদার, শুভেন্দু অধিকারী, নিশীথ প্রামাণিক, শঙ্কর ঘোষ ও খগেন মুর্মু-সহ আরও অনেকে।
বিরোধীদের দাবি ছিল, রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে তাঁদের উপর হামলার ঘটনা ঘটলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই চিত্র বদলাচ্ছে বলে দাবি করছে শাসক শিবির।
শুভেন্দু জমানায় ‘আইন সবার জন্য সমান’
বর্তমান প্রশাসনের অবস্থান স্পষ্ট— আইনের চোখে সকলেই সমান। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলার অভিযোগ সামনে আসার পর বারুইপুর পুলিশ দ্রুত তদন্ত শুরু করে এবং মূল অভিযুক্তদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার করে।
এই পদক্ষেপ থেকে প্রশাসন একটি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে— আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে কোনও রাজনৈতিক রং দেখা হবে না। শাসক বা বিরোধী, যে-ই আক্রান্ত হোক না কেন, অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
রাজ্যের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এই পরিবর্তন দীর্ঘদিনের বিতর্কের পর একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করল বলেই মত রাজনৈতিক মহলের একাংশের।

