Kalyan Banerjee
Bengal Liberty: কল্যাণের নাটক দেখতে এবার সশরীরে সাংসদের বাড়ি গেলেন মমতা। এখন তৃণমূল নেতারা রাস্তায় বেরোলেই বিক্ষোভের শিকার হচ্ছেন। সেই মতো আজ চণ্ডীতলা যান কল্যাণ। শুনলেন ‘চোর’ স্লোগান। হটাৎ, মাথায় হাত দিয়ে নাটক শুরু করে দেন (Kalyan Banerjee)। রক্তের কোনও ছিটেফোঁটা নেই। তাও, সাংসদের দাবি, তাঁর মাথা ফেটে গিয়েছে। রাস্তায় শুয়ে পড়ে হাসতেও দেখা যায় তাঁকে। এরপর বাড়ি ফেরেন।

কল্যাণের সঙ্গে দিদি (Kalyan Banerjee)
নকল ব্যান্ডেজ পরে কল্যাণ বসে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) তাঁর বাড়ির উল্টোদিকে সাংসদের বাসভবনে যান। ছবি তোলেন। দেখানোর চেষ্টা চলে, অভিষেকের মতো কল্যাণও আক্রান্ত।
মমতার ব্যান্ডেজ
২০২১ সালে নন্দীগ্রাম নির্বাচনের সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পায়ে নকল চোট লাগে। ব্যান্ডেজ পরে রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা চালান তিনি। মমতার অনুপ্রেরণায় কল্যাণ (Kalyan Banerjee) যে একই পথে এগোচ্ছেন, তা স্বীকার করে নিচ্ছে রাজনৈতিক মহল।
কল্যাণের সঙ্গে কি কথা মমতার?
মমতা: এখন কেমন আছো?
কল্যাণ: ভালো দিদি। ব্যাথা।
মমতা: কি হয়েছিল?
কল্যাণ: বিজেপি মেরেছে। মাথা ফেটে গিয়েছে।
মমতা: ডাক্তার কি বলল?
কল্যাণ: ব্যান্ডেজ করেছে। ওষুধ দিয়েছে। বিশ্রাম নিতে বলেছেন।
এরপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সমাজ মাধ্যমে কল্যাণের ঘটনার প্রেক্ষিতে পোস্ট করেন। মমতা লিখছেন, ‘বাংলায় বিরোধী কণ্ঠরোধ ও বিজেপির হিংস্র রাজনীতির বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানাই। বাংলায় রাজনৈতিক দেউলিয়াপনা ও হিংসার এক চরম রূপ দেখছে দেশবাসী। গতকাল লোকসভার সংসদীয় দলনেতা শ্রী অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর কাপুরুষোচিত হামলার পর, আজ লোকসভার আমাদের চিফ হুইপ শ্রী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। একের পর এক বিরোধী জনপ্রতিনিধিদের টার্গেট করে এই ধরনের আক্রমণ অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক, অমানবিক এবং গণতন্ত্রের ওপর সরাসরি আঘাত। আজ আক্রান্ত সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে গিয়ে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলাম এবং তাঁর পাশে থাকার বার্তা দিলাম।বিজেপির এই ধারাবাহিক হিংসাত্মক আচরণের বিরুদ্ধে আমি তীব্র ধিক্কার ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
জনপ্রতিনিধিদের নিরাপত্তা কোথায়? দেশের সংসদের উচ্চপদস্থ প্রতিনিধি ও প্রবীণ আইনপ্রণেতারাও যদি সুরক্ষিত না থাকেন, তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়?
বাংলায় রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তারা স্বতঃস্ফূর্ত জনরোষের ভুয়ো অজুহাত দিয়ে নিজেদের দলীয় দুষ্কৃতীদের রাস্তায় নামিয়ে দিচ্ছে। দিল্লির প্রশ্রয়েই কি এই তাণ্ডব? “নতুন ভারতের” দোহাই দিয়ে বিরোধীদের ওপর এই ধরনের শারীরিক আক্রমণ কি দিল্লির শাসকদলের শীর্ষ নেতৃত্বের প্রচ্ছন্ন মদতেই ঘটছে?
বাংলা চিরকালই সংস্কৃতি, সৌজন্য ও সুস্থ রাজনীতির পীঠস্থান। এখানে গুন্ডামি এবং হিংসার কোনো স্থান নেই। আমি এই কাপুরুষোচিত আক্রমণের বিরুদ্ধে রাজপথে এবং আইনি লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত লড়ে যাব। তীব্র ধিক্কার জানাই এই অমানবিক ও ফ্যাসিবাদী মানসিকতাকে!’ (হু-ব-হু তুলে দেওয়া হ’ল)
বলা বাহুল্য, কল্যাণ এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দু’জনেই এখন বাংলার রাজনীতিতে ‘ব্যান্ডেজ পলিটিক্স’-এর গুরুত্বপূর্ণ খিলারি!
আরও পড়ুন:অভিষেক মার খেয়েছে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরেই! সামনে এল বিস্ফোরক তথ্য

