Katwa Job Card Fraud
Bengal Liberty, কাটোয়া: পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়া ১ নম্বর ব্লকের করুই গ্রাম পঞ্চায়েতে ভুয়ো জবকার্ড খুলে সরকারি প্রকল্পের লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে (Katwa Job Card Fraud)। অভিযোগের তির ঘুরেছে পূর্ব বর্ধমান জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি তথা কাটোয়ার প্রাক্তন বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়-এর দিকে। পাশাপাশি অভিযোগে নাম জড়িয়েছে তৃণমূল নেতা দিগন্ত পাল, বিশ্বনাথ সাহা এবং করুই অঞ্চল তৃণমূল সভাপতি সুকেশ চ্যাটার্জিরও। শুক্রবার রাতে কাটোয়া থানায় এই মর্মে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন নতুনগ্রামের বাসিন্দা ওমর আলি শেখ।
অভিযোগকারী ওমর আলি শেখের দাবি, ২০১৬ সাল থেকে করুই গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় বহু সাধারণ মানুষের নামে তাঁদের অজান্তেই ভুয়ো জবকার্ড তৈরি করা হয়েছিল। অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কোনওরকম তথ্য না দিয়েই তাঁদের নামে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা হয় এবং সেই অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পের অর্থ তোলা হত। দীর্ঘদিন ধরে এই প্রক্রিয়ায় সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ।

অভিযোগে জেলা তৃণমূল সভাপতি-সহ একাধিক নেতা (Katwa Job Card Fraud)
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, যাঁদের নামে জবকার্ড ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছিল, তাঁদের অনেকেই বিষয়টি সম্পর্কে সম্পূর্ণ অজ্ঞ ছিলেন। সম্প্রতি কিছু নথি ও তথ্য সামনে আসার পর গোটা বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। এরপরই এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ উঠেছে, সরকারি প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের নাম ব্যবহার করে একটি সুসংগঠিত চক্র দীর্ঘদিন ধরে এই দুর্নীতি চালিয়ে গিয়েছে।
Shatarup Ghosh: “D for ডিম, J for জুতো”@shatarupghosh @cpimspeak @CPIMWestBengal @Sujan_Speak @abhishekaitc @AITCofficial @bengalliberty1 #westbengal2026 #shatarupghosh #sujanchakraborty #cpim #abhishekbanerjee #tmcwestbengal #bengalliberty pic.twitter.com/vGesp8tVpC
— Bengal Liberty (@bengalliberty1) May 30, 2026
পুলিশের কাছে জমা দেওয়া অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, জেলা তৃণমূল সভাপতি রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ নেতা দিগন্ত পালের প্ররোচনায় স্থানীয় কয়েকজন তৃণমূল নেতা-কর্মী এই কাজে জড়িত ছিলেন। অভিযোগকারী দাবি করেছেন, পরিকল্পিতভাবে ভুয়ো জবকার্ড তৈরি, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা এবং সরকারি প্রকল্পের অর্থ তোলার মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।

১০০ দিনের কাজের টাকায় বড়সড় দুর্নীতির অভিযোগ (Katwa Job Card Fraud)
শুধুমাত্র ১০০ দিনের কাজ প্রকল্প নয়, ব্রাহ্মণী নদী সংস্কার প্রকল্প নিয়েও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীর দাবি, প্রকল্পের কাজে যে পরিমাণ অর্থ খরচ হয়েছে বলে সরকারি নথিতে দেখানো হয়েছে, বাস্তবে সেই পরিমাণ কাজ হয়নি। কাজের পরিমাণ এবং অর্থ ব্যয়ের মধ্যে বিস্তর অসঙ্গতি রয়েছে বলে অভিযোগ। ফলে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ ব্যবহারে স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা। বিরোধী দলগুলির দাবি, বিষয়টির নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। তাঁদের মতে, সরকারি প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর এবং তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। যদিও অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

কাটোয়া থানায় লিখিত অভিযোগ (Katwa Job Card Fraud)
এদিকে কাটোয়া থানার পুলিশ অভিযোগ গ্রহণ করে প্রাথমিক অনুসন্ধান শুরু করেছে। পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট জবকার্ডের নথি, ব্যাংক লেনদেনের তথ্য এবং সরকারি প্রকল্প সংক্রান্ত বিভিন্ন রেকর্ড খতিয়ে দেখা হবে। তদন্তের স্বার্থে একাধিক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদও করা হতে পারে। তদন্তের অগ্রগতির উপরই নির্ভর করবে এই বহুচর্চিত অভিযোগের পরবর্তী আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ। বর্তমানে গোটা ঘটনার দিকে নজর রয়েছে প্রশাসন, রাজনৈতিক মহল এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের।

