Mamata Dharna
ধূলিস্যাৎ হওয়ার পথে তৃণমূল। আজ, মঙ্গলবার রাজ্যে ক্ষমতা হারানোর পর ধর্মতলার ওয়াই চ্যানেলে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম ধর্ণা কর্মসূচি ছিল। ছিল না কোনো রাজকীয় মঞ্চ। ট্রাফিক পুলিশের শেডের নিচে বসেই ধর্ণা দিতে হলো তাঁকে। সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেলেন মুখ্যমন্ত্রী। বিপদের দিনে নেত্রীর পাশে দেখা মিলল না সাংসদ ও বিধায়কদের। হাতে গোনা মাত্র দশ জন বিধায়কদের নিয়ে বিক্ষোভের মঞ্চে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী।
মঞ্চ নেই, পাশে মাত্র ১০ বিধায়ক ও ৬ সাংসদ (Mamata Dharna)
মঙ্গলবার ধর্মতলার ওয়াই চ্যানেলে কর্মসূচির ডাক দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু এক নজিরবিহীন ও বেদনাদায়ক পরিস্থিতি চোখে পড়ল সকলের। কোন মঞ্চ বাঁধার অনুমতি মেলেনি। অগত্যা ট্রাফিক পুলিশের শেডের নিচে বসেই ধর্ণা শুরু করেন তিনি। ধর্ণা মঞ্চে মাত্র ১০ জন বিধায়ক এবং পেছনের সারিতে মাত্র ৬ জন সাংসদকে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়। বিগত দেড় দশক ধরে যাঁরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছায়াসঙ্গী ছিলেন, ক্ষমতাচ্যুত হতেই তাঁরা অনেকেই খোলস বদলেছেন। কেবল নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, মদন মিত্র এবং কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো হাতে গোনা কয়েকজন কর্মীরা ছিলেন পাশে।

ঋতব্রতর নেতৃত্বে ‘নব তৃণমূল’ (Mamata Dharna)
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহাকে দল থেকে বহিষ্কার করার পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরের ফাটল জনসমক্ষে স্পষ্ট। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ধর্মতলার রাস্তায় একা, দলের অন্দরে ঘটে গিয়েছে এক বিরাট ধস। দলের অন্তত ৪০ জন বিধায়ক ইতিমধ্যেই একযোগে স্পিকারকে চিঠি দিয়েছেন। বর্তমান নেতৃত্বের ওপর আস্থা হারিয়ে তাঁরা স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, তাঁরা এবার ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিজেদের নেতা হিসেবে দেখতে চান।

বিদ্রোহের জেরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত থেকে খোদ দলের ‘জোড়াফুল’ প্রতীকও চিরতরে হাতছাড়া হতে চলেছে। তবে, আজকের সভামঞ্চের চিত্রটা রাজ্যবাসীকে আরও বুঝিয়ে দিল, তৃণমূল উপস্থিত হয়েছে অন্তিম লগ্নে।

