TMC
Bengal Liberty, ২ জুন :
সই জালিয়াতি কাণ্ডে কার্যত আড়াআড়ি বিভক্ত তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)। নবান্ন থেকে খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বিস্ফোরক দাবির পনেরো মিনিটের মধ্যেই চরম পদক্ষেপ নিয়েছিল ঘাসফুল শিবির। দলের বিরুদ্ধে স্পিকার রথীন্দ্র বসুর কাছে লিখিত অভিযোগ জানানোর ‘অপরাধে’ গতকাল, সোমবার ইমেল ও হোয়াটসঅ্যাপ মারফত বহিষ্কার করা হল উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহাকে। এদিকে দলের অন্দরের এই ফাটল চওড়া হতেই ড্যামেজ কন্ট্রোলে আসরে নেমেছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (TMC)। ড্যামেজ কন্ট্রোলে এবং নিজের দলের ভাঙন রোধে তড়িঘড়ি মমতার বাড়িতে বৈঠকে বসলেন কুণাল, দোলন ও মদন।

ভাঙন রুখতে জরুরি বৈঠক (TMC)
খাদের কিনারে দাঁড়িয়ে থাকা দলকে এককাট্টা রাখতে এদিন কুণাল ঘোষ, মদন মিত্র এবং দোলা সেনকে নিয়ে নিজের বাসভবনে তড়িঘড়ি জরুরি বৈঠকে বসেন মমতা। সই জালিয়াতির এই মারাত্মক অভিযোগে দলের অন্দরে চরম চাপে রয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও।
বরাবর কুণালের নিশানায় ‘পরিযায়ী’ বিধায়করা (TMC)
সাসপেনশনের পর পরই সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে কাদা ছোড়াছুড়ির রাজনীতি। প্রাক্তন বাম-যুবনেতা ঋতব্রতকে নিশানা করে ফেসবুকে তোপ দেগেছেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ। তাঁর স্পষ্ট দাবি, অন্য দল থেকে ‘পরিযায়ী’ বিধায়ক এনে দল ভারী করার সিদ্ধান্ত তৃণমূলের রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম বড় ভুল। সদ্য বহিষ্কৃতদের দিকে ইঙ্গিত করে কুণালের শ্লেষাত্মক মন্তব্য, “দল সরকার থেকে সরে গেছে বলে যাঁদের বিলম্বিত বিবেক জাগরণ হয়েছে, তাঁরা মমতার প্রতীক আর মুখ ব্যবহার করেই জিতেছিলেন। শুরু থেকেই লোক চেনায় বড় ভুল হয়েছে।” কুণালের এই পোস্ট ঘিরেই এখন নেটমাধ্যমে সাসপেন্ডেড বিধায়ক বনাম তৃণমূলের তীব্র তরজা অব্যাহত।

তড়িঘড়ি দুই বিধায়ককে বহিষ্কার করা বা ড্যামেজ কন্ট্রোলে মমতার বাসভবনে রুদ্ধদ্বার বৈঠক, এ সবই যেন ডুবন্ত জাহাজের যাত্রীদের শেষ খড়কুটো আঁকড়ে বাঁচার মরিয়া চেষ্টা। এই তথাকথিত ‘ভুল স্বীকার’ আসলে দলের আসন্ন রাজনৈতিক বিপর্যয়েরই আগাম পূর্বাভাস বলে মনে করা হচ্ছে। ক্ষমতার মধু ফুরোতেই ‘পরিযায়ী’ নেতাদের এই বিদ্রোহ মানুষকে বুঝিয়ে দিচ্ছে, তৃণমূলের পায়ের তলার মাটি আজ কতটা আলগা। বাংলার রাজনীতিতে ঘাসফুল শিবিরের এই চরম ডামাডোল ও অন্তর্দ্বন্দ্ব আসলে তাদেরই অতীত অহংকার এবং রাজনৈতিক দেউলিয়াপনার এক অনিবার্য পরিণতি। তবে। এই বৈঠক দলের ভাঙন কতটা রুখতে পারবে সেদিকেই নজর সকলের।

