CJP Protest
Bengal Liberty, ৬ জুন :
“ল্যাপটপের স্ক্রিন আর মোবাইলের কিপ্যাড ছেড়ে ‘ডিজিটাল আরশোলা’রা রাস্তায় নামতে পারে না!” শাসকদলের এই উক্তি আজ কার্যত বুমেরাং (CJP Protest )। ভার্চুয়াল জগতের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ যে কতটা প্রবল বাস্তবের সুনামি তৈরি করতে পারে, শনিবার রাজধানী দিল্লি তার প্রত্যক্ষ সাক্ষী। বিচারব্যবস্থার শীর্ষস্তর থেকে উড়ে আসা বিতর্কিত মন্তব্য এবং শাসক শিবিরের লাগাতার কটাক্ষকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করে এবার রাজপথে অবতীর্ণ সিজেপি। নিশানায় খোদ কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান এবং দেশের দুর্নীতিগ্রস্ত শিক্ষাব্যবস্থা (CJP Protest )।

বই-পতাকায় প্রতিবাদের ঝড় ও নিশানায় শিক্ষামন্ত্রী (CJP Protest )
শনিবার ভোরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফিরেই এই প্রতিবাদের মশাল তুলে ধরেছেন সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ। দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নেমেই পুলিশের শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক সারেন তিনি। এরপর কড়া নিরাপত্তার ঘেরাটোপ পেরিয়ে সোজা পাড়ি দেন আন্দোলনের ভরকেন্দ্রে। সিজেপি-র নির্দেশিকা ছিল স্ফটিকস্বচ্ছ—কোনও বিক্ষিপ্ত জমায়েত নয়, গন্তব্য সোজা জন্তরমন্তর। আর হাতিয়ার? প্রত্যেকের হাতে একটি বই এবং জাতীয় পতাকা। ‘জ্ঞান ও সংবিধানের পক্ষে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে’— এই বজ্রনির্ঘোষ স্লোগানেই এখন উত্তাল দিল্লির রাজপথ। যুবসমাজের রোষানলের মূল কারণ, একের পর এক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং প্রশাসনিক নির্লিপ্ততা। ফলস্বরূপ, সরাসরি কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়েছে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীকে, যাঁর অবিলম্বে পদত্যাগ ছাড়া অন্য কোনও আপসে রাজি নন আন্দোলনকারীরা।

দুর্নীতির খতিয়ান ও কড়া নিরাপত্তায় মোড়া রাজধানী (CJP Protest )
এই আন্দোলনের দাবি নিছক হাওয়ায় ভাসানো নয়, এর ভিত্তি পরিসংখ্যানের নিরেট সত্য। সিজেপি-র দাবি, গত ২০ বছরে দেশে অন্তত ৪৫টি বড় পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে, অথচ শাস্তির খাঁড়া নেমেছে মাত্র দু’টি ক্ষেত্রে। এমনকি, শাস্তির বদলে এক অভিযুক্তকে স্রেফ অন্য মন্ত্রকে বদলি করার মতো লজ্জাজনক ‘দায় এড়ানোর কৌশল’ও দেখেছে দেশ। এই ভয়াবহ পরিসংখ্যানকে হাতিয়ার করেই এবার পথে নেমেছে ছাত্র-যুব সমাজ। পরিস্থিতির আঁচ পেয়ে প্রমাদ গুনছে প্রশাসন। প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীর বাসভবন-সহ গোটা দিল্লিকে কার্যত নিশ্ছিদ্র দুর্গে পরিণত করা হয়েছে। তাৎপর্যপূর্ণভাবে, এই মহামিছিল রুখতে দায়ের হওয়া জনস্বার্থ মামলার জরুরি শুনানির আবেদনও দিল্লি হাইকোর্টে মুখ থুবড়ে পড়েছে। ফলে আইনি পথেও এই আছড়ে পড়া জনরোষ রোখার আপাতত কোনও উপায় নেই প্রশাসনের হাতে।


